মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করল ব্রি

জেলা প্রতিনিধি, গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪০ এএম

শেয়ার করুন:

দু’টি হাইব্রিডসহ ছয় নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করল ব্রি

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করলেন দু’টি হাইব্রিডসহ আরও ছয়টি নতুন ধানের জাত।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় নতুন এই ছয়টি উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত সারা দেশজুড়ে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়।


বিজ্ঞাপন


কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ব্রি’র মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 জানা গেছে, উদ্ভাবিত জাতগুলোর মধ্যে একটি ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ, ১টি লবণাক্ততা সহনশীল, একটি রোগ প্রতিরোধী, একটি হাওরাঞ্চলের উপযোগী ও ঠান্ডা সহনশীল এবং দুটি লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী হাইব্রিড জাত রয়েছে। সর্বশেষ এ ৬টি জাতসহ ব্রি উদ্ভাবিত জাতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৭টিতে।

68803b96-4081-412a-975b-98d3b1b22aca

নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান ১১৫ একটি ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ জাত। এটি বাংলাদেশের প্রথম উচ্চ ফলনশীল কালো চালের জাত যা এন্থার কালচার পদ্ধতি ব্যবহার করে উদ্ভাবন করা হয়। এ জাতের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৭ দশমিক ৪ টন এবং জীবনকাল ১৩৭-১৪২ দিন। পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০০ সেন্টিমিটার। ধান লম্বা ও চিকন। ধান কালচে বাদামি রঙের এবং ধানের দানার রং কালো। ১০০০টি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ১৭ দশমিক ৮ গ্রাম। এ ধানের অ্যামাইলোজ শতকরা ২৩ ভাগ। ধানের দানায় ভিটামিন ই এবং সায়ানিডিন-৩- গ্লুকোসাইডের (C3G) পরিমাণ যথাক্রমে ১৪ দশমিক ৯৮ মিলিগ্রাম/কেজি এবং ২৯.১২ মিলিগ্রাম/কেজি। এছাড়াও ধানের দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে ৫৩৬.৬১ uM AAE অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান।


বিজ্ঞাপন


03119d8c-ac81-45f8-92bb-f93ee861eb3f

ব্রি ধান ১১৬ বোরো মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল একটি নাবি জাত। ব্রি ধান ১১৬ জাতটি ব্রি ধান ৯২ এর সমসাময়িক একটি দীর্ঘ জীবনকালের জাত। গড় জীবনকাল ১৫৪ দিন। এ জাতের চালের আকার আকৃতি মাঝারি চিকন এবং ব্রি ধান ৯২ এর চালের চেয়ে সরু। গাছ শক্ত এবং মজবুত বিধায় এ জাতটি সহজে হেলে পড়ে না। এর ডিগ পাতা খাড়া ও লম্বা বিধায় ধানের শীষ উপর থেকে দেখা যায় না। ধান পাকলেও এর পাতা সবুজ থাকে। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ধান ৯২ এর চেয়ে প্রায় ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে। এ জাতের হেক্টরে গড় ফলন ৮ দশমিক ৫৯ টন। উপযুক্ত পরিবেশে সঠিক ব্যবস্থাপনা করলে এ জাতটি হেক্টরে ১০ দশমিক ৩৬ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এর চাষাবাদ পদ্ধতি ব্রি ধান ৯২ এর অনুরূপ বিধায় এটি বিকল্প হিসেবে আবাদ করা যাবে।

ব্রি ধান ১১৭ বোরো মওসুমের স্বল্প লবণাক্ততা সহনশীল ও রোগ প্রতিরোধী জাত। গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮ দশমিক ৬ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে এর ফলন হেক্টর প্রতি ৯ দশমিক ৯০ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ জাতের দানা সোনালী বর্ণের। এ জাতের জীবনকাল ১২৯-১৩৫ দিন (গড় জীবনকাল ১২৯ দিন)। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৪ দশমিক ২ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯ দশমিক ৩ ভাগ। ভাত ঝরঝরে। জাতটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, লবণাক্ততা সহনশীলতা ছাড়াও রোগ প্রতিরোধী এবং আর্টিফিশিয়াল ইনোকুলেশনে উচ্চ মাত্রার রোগ প্রতিরোধী (স্কোর-০-৩) ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে।

12d021ea-ab65-4a8a-8770-f04f670c6e32

ব্রি ধান ১১৮ জাতটি হাওর অঞ্চলের উপযোগী ঠান্ডা সহনশীল ধানের জাত। এ জাতটি প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডা সহনশীল হওয়ায় হাওরে আকস্মিক বন্যায় আধাপাকা থেকে পাকা পর্যায়ে ধান ডুবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এড়ানোর জন্য এ জাতটি আগাম বপন (২৫ অক্টোবর-১ নভেম্বর) করলেও ধান চিটা হবে না এবং কমপক্ষে ৬ টন/হে ফলন দিতে সক্ষম, তবে স্বাভাবিক সময়ে অর্থাৎ ১৫-২০ নভেম্বর বপনে ১৪৫ দিনে ৬ দশমিক ৯-৮ দশমিক ৫ টন/হে পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ ধানের চালের আকার আকৃতি মাঝারি মোটা। ভাত ঝরঝরে এবং সাদা। এ ধানের চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৮ দশমিক ৩ ভাগ। এছাড়া প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৯ দশমিক ১ ভাগ। প্রস্তাবিত জাতের ফলন পরীক্ষায় দশটি অঞ্চলে ব্রি ধান ২৮ এর চেয়ে প্রায় ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি ফলন দিয়েছে।

আরও পড়ুন

শুঁটকি উৎপাদনে ব্যস্ত জেলেরা, বাড়ছে মৎস্য সম্পদ ও শিশু শ্রমের ঝুঁকি

47c3f2fe-c8bd-4d96-89a6-9d4ee6bc0771

ব্রি হাইব্রিড ধান ৯ লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী এবং মাঝারি মাত্রায় লবণাক্ততা সহনশীল। এটি চারা থেকে পরিপক্ব অবস্থা পর্যন্ত ৪-৮ ডিএস/মি: মাত্রায় লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এর দানার আকৃতি মাঝারি ও দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ। এক হাজার দানার ওজন ২৫ দশমিক ৫ গ্রাম ও দানায় প্রোটিনের পরিমাণ ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। জীবনকাল ১৪৫-১৪৭ দিন। কৃষকের মাঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ফলন ৯ দশমিক ৫-১০ দশমিক ৫ টন/হে। উপকূলীয় অঞ্চলে ফলন ৬.৫-৭ টন/হে।

3f5f74ab-59c0-426b-b376-bdec83fac8fc

ব্রি হাইব্রিড ধান ১০ লজিং টলারেন্ট বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী। দানার আকৃতি চিকন ও দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এক হাজার দানার ওজন ২৩ দশমিক ৭ গ্রাম ও দানায় প্রোটিনের পরিমাণ ৯ দশমিক ১ শতাংশ। জীবনকাল ১৪৫-১৪৭ দিন। কৃষকের মাঠে স্বাভাবিক অবস্থায় ফলন ৯ দশমিক ৭-১০ দশমিক ৭ টন/হে.।

নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলোসহ ব্রি’র ৩৯টি জাত রয়েছে বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন বৈরী পরিবেশ সহনশীল। ব্রি উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তি মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ফলেই বর্তমানে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে তৃতীয়। যেখানে স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালে মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ২০ শতাংশ, এখন তা ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। এ সময়ে লোকসংখ্যা আড়াই গুণ বেড়েছে, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৪ গুণ।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর