নেত্রকোনায় বিএনপির নির্বাচনী সভায় হাজির হয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসাপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাজহারুল আমিন।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) মাজহারুল আমিনের বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা সমালোচনা শুরু হয়।
বিজ্ঞাপন
এরআগে গত সোমবার বিকেলে জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী এলাকায় বিএনপির উঠান বৈঠকে হাজির হয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ধানের শীষে ভোট চান তিনি। ওই বৈঠকে আশপাশের কয়েক গ্রামের শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পাঁচ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ডা. মাজহারুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা যেমন আমাদের অধিকার, তেমনি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করা আমাদের একটি অধিকার। কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকার মানুষকে ভোট দিতে দেয়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়া সবাইকে ভোর বেলা কেন্দ্রে যেতে বলেছিলেন। তবে রাতেই আওয়ামী লীগের লোকজন ভোট বাক্স ভরে রেখেছিল। একটা দেশের মানুষের ভাগ্য সবকিছু নির্ধারিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। অথচ বলে গত সময়ে তারা নির্বাচনটাই হতে দেয়নি। এরই প্রেক্ষাপটে বিগত ৫ আগস্ট তারা মানুষের রোষানলে পড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। একটা পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। এই পরিবর্তনটা আমাদের করতে হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তারপর আসছে খালেদা জিয়া, তাদের উত্তরসূরী হিসেবে আছেন তারেক রহমান। তারা যতদিন জীবিত ছিলেন ততদিন দেশ ও জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। আজকে তারেক রহমানের পক্ষে আমাদের জনসমর্থন দেওয়ার সময় এসেছে। আমরা এতদিন দিতে পারি নাই বা দিলেও তারা কাউন্ট করে নাই। বিএনপিকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এখন সময় এসেছে আমাদের বিএনপির পক্ষে রায় দেওয়ার, ধানের শীষের পক্ষে রায় দেওয়ার। আর ধানের শীষের প্রতিনিধি হিসেবে আছেন ডা. আনেয়ারুল হক স্যার। তিনি নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে ডা. আনোয়ারুল হকের বাসা ভাঙচুর করেছে, তার সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘নাবিলা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ একাধিকবার ভাঙচুর করা হয়েছে। রোগ নির্ণয়ের আধুনিক যন্ত্রপাতি ধ্বংস করে এলাকার সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি তাকে নেত্রকোনায় চেম্বার পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। তার নামে অনেক গুলো মামলা দেওয়া হয়েছিল। এত বাধা সত্ত্বেও ডা. আনোয়ারুল হক এলাকার মানুষের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। এখন সময় এসেছে তাকে আমাদের কাছে নিয়ে আসার, তার যথাযথ মূল্যায়ন করার। এলাকার সন্তান হিসেবে আমি আপনাদের অনুরোধ করব, নির্বাচনে ধানের শীষ ভোট দিয়ে ডা. আনোয়ারুল হককে জয়ী করবেন। যেন তিনি রাস্তাঘাটসহ সকল উন্নয়নে আপনাদের সহযোগিতা করতে পারেন। এসময় উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেন, সকলে আমরা রাজি আছি তো?
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ তারিখ আপনারা সকলে সকাল সকাল কেন্দ্রে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিয়ে ডা. আনোয়ারুল হককে জয়ী করবেন। আপনারা যারা এখানে আছেন, সকলের পরিবারে অনেক ভোটার আছে। আপনাদের আত্মীয়-স্বজন গোষ্ঠীর লোকজন আছে, এমনকি আমার নিজের পরিবারে অনেক ভোটার রয়েছে। সবাই মিলে ভোট দিয়ে এই কেন্দ্রে ধানের শীষকে পাস করাতে হবে।
বিজ্ঞাপন
এর প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক প্রীতম সোহাগ ফেসবুক পোস্টে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি লিখেন- সরকারি চাকরিজীবী একজন স্বাস্থ্য ক্যাডার এভাবে কোনো দলের হয়ে ভোট চাইতে পারেন না। এটি সরকারি চাকরিবিধি ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। রাজনীতি করতে চাইলে তাকে সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বলেন।
এ বিষয়ে সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মাজহারুল আমিন বলেন, সরকারি চাকরিতে থেকেও আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। যেহেতু একটা রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম। আমার বাড়ি বারহাট্টায়, তাই নিজের এলাকায় উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেছি। সরকারি চাকরিতে থেকে এসব বলা যায় না। পরবর্তীতে আর কোনো প্রোগ্রামে যাব না।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী কোন দলের হয়ে প্রচারণা করতে পারেন না। এটা চাকরিবিধির পরিপন্থী।
বিষয়টি অবহিত করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনে বিএনপির প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল হক, এনপিসির ফাহিম খান পাঠান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল কাইয়ূম, জাতীয় পার্টির রফিকুল হক তালুকদার। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২ হাজার ৪৩৮।
প্রতিনিধি/টিবি

