‘পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে অক্ষত সেতু ভেঙে নিয়ে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর নড়েচড়ে বসে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। এরপর সংবাদের সত্যতা পেয়ে সেই ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান মন্ডলকে শোকজ করেছে। অভিযুক্ত মোকলেছুর রহমান মন্ডল সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নস্থ বজরা হলদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক মন্ডলের ছেলে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) শোকজ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি।
বিজ্ঞাপন
এরআগে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টার দিকে সেতু সংলগ্ন নাজিম উদ্দিনের বাড়ির উঠানে নিলাম অনুষ্ঠিত হয় বলেও জানিয়েছেন পিআইও মশিউর।
তিনি বলেন, ‘স্টিমিট অনুযায়ী এই সেতুতে ১৭ হাজার ৩৭৫ টি ইট এবং রড ১০৭৩.৮৮ কেজি থাকার কথা রয়েছে। পরে সেতু থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া ইট ও রডগুলো ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দিয়েছেন। স্টিমিট অনুযায়ী মালামাল বুঝে দিবেন মর্মে লিখিত কাগজও নেওয়া হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমানের নিকট থেকে।’
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ওই চেয়ারম্যান টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো সেতু ভেঙ্গে ইট ও লোহা তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি আমরাও জানতাম না। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানি। এরপরে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাই।’
ইউএনও তুলি আরও বলেন, ‘আইনগতভাবে কাজটি উনি (চেয়ারম্যান) ঠিক করেননি। সে কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।’
উল্লেখ্য, ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তর পাড়ার আলম মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন একটি সেতু ছিল। পুরাতন হলেও ওই সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতে পারতো। কিন্তু মাস খানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ওই সেতুর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙ্গে ইট ও লোহাগুলো চেয়ারম্যান তার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
যারফলে বর্তমানে সেতুটি শূন্যে ঝুলে থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অথচ, করা হয়নি কোনো সংযোগ সড়কও। সেকারণে চার গ্রামের প্রায় বিশ হাজার লোকের যাতায়াতে দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেইলে সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন।
এএম

