শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে অক্ষত সেতু ভেঙে নিয়ে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশিত: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৮ এএম

শেয়ার করুন:

পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে অক্ষত সেতু ভেঙে নিয়ে গেলেন ইউপি চেয়ারম্যান

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় নতুন করে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে টেন্ডার ছাড়াই অক্ষত পুরোনো সেতুর অর্ধেকের বেশি অংশ খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে। এতে করে সংযোগ সড়ক না থাকা এবং সেতুর বাকি অংশ অপসারণ না করায় দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার-হাজার মানুষ।

সম্প্রতি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেতুটি উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তর পাড়ার আলম মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন। পুরোনো সেতুটির অর্ধেকের বেশি অংশই নেই। দফায় দফায় ভেঙে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেতুটির লোহা ও ইট। করা হয়নি কোনো সংযোগ সড়ক। চলাচলে সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে শূন্যে ঝুলে আছে সেতুটির বাকি অংশ। সেতুর দু'পাশে সড়ক কেটে যাতায়াতের পথ তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। সেটি দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে ছোটখাটো যানবাহন ও সাধারণ মানুষজন।


বিজ্ঞাপন


স্থানীয়রা জানায়, ইউপি মোকলেছুর রহমান মাস খানেক আগে এখানে আসেন। সঙ্গে কয়েকজন লোকও ছিলেন। চেয়ারম্যান বলেন, নতুন ব্রিজ হবে এখানে। সে কারণে পুরোনো এই ব্রিজটি এখান থেকে অপসারণ করাতে হবে। আর আমি এ ব্রিজ ভেঙে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছি। এরপর থেকে চেয়ারম্যান ও তার ছেলে কাজের লোক লাগিয়ে ব্রিজটির ইট ও লোহা খোলা শুরু করেন। প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন ধরে ইট ও লোহা খুলে খুলে চেয়ারম্যান তার বাড়িতে নিয়ে যান ট্রাক্টরে করে। হঠাৎ করে কাজ বন্ধ করে দেন চেয়ারম্যানের লোকজন। সেই থেকে ব্রিজের বাকি অংশ এভাবে শূন্যে ঝুলে আছে। আগে যানবাহনসহ মানুষজন চলাচল করতো। এখন যানবাহন তো দূরের কথা মানুষেই চলাচল করতে পারছে না। প্রায় এক মাস ধরে এ অবস্থা। চেয়ারম্যানের এ আচরণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন

শুধু মিলছে প্রতিশ্রুতি, নির্মাণ হয়নি সেতু

দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের লাল মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান ও কনট্রাক্টর এসে বলেন যে, এখানে ব্রিজের টেন্ডার হয়েছে। সে কারণে পুরান ব্রিজ ভাংগি নিয়ে যাচ্ছি। এক সপ্তাহের মধ্যে ব্রিজ করি দেব। বলেই ভাঙা শুরু করেন। আটদিন ধরি ইট, লোহা-লস্কর যা-যা আছে সবই নিয়ে গেছেন চেয়ারম্যান মোখলেছুর। প্রায় একমাস থেকে এভাবে পড়ে আছে ব্রিজটির বাকি অংশ। চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে আমাদের।

সেতুর পাশেই বাড়ি সিএনজি চালক নজরুল ইসলাম বলেন, এখানেই আমার বাড়ি। আগে যা ছিল তাতে চলাচল করা যেত। এখন যে অবস্থা করেছে তাতে দুর্ভোগটা আরও বেড়েছে। আমি গাড়ি চালাই, দুর্ঘটনার ভয়ে এখান দিয়ে নামতেও পারি না উঠতেও পারি না।


বিজ্ঞাপন


9aca3727-cfff-4b75-9d55-05e172959362

উত্তর রাজীবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুজাউল হক চৌধুরী বলেন, এটা পুরাতন ব্রিজ ছিল। যাইহোক, আমরা যাতায়াত করতাম। হঠাৎ করে দেখি চেয়ারম্যান এসে বললেন, এটা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছি। নতুন করে ব্রিজ করা হবে এখানে। আমাদের তো অনেক কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না করা হলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হবে আমাদের।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সৈকত হাসান লিটন বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না। এক ব্যক্তি ফোন করে আমাকে জানায়। পরে ব্রিজের কাছে গিয়ে দেখি ঘটনা সত্য। তখন ওখানে চেয়ারম্যান সাহেবের ছেলেও ছিলেন। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বাবার কথা বলেন। পরে বিষয়টি ইউএনও ও পিআইও অফিসের লোককে জানাই।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান বলেন, পিআইও অফিসে গিয়ে খোঁজ নেন। ব্রিজ টেন্ডারে আমি পেয়েছি। ভোটের কারণে কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। ব্রিজের বাকি অংশ ভোটের পরে নিয়ে আসব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মশিউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না। কোনো এক কাজে ওই এলাকায় গেলে পুরানো সেতুটি ভাঙার বিষয়টি নজরে আসে। তখন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে নিষেধ করি। তবে পুরানো সেতুটি অপসারণ করতে টেন্ডারের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলেও জানান পিআইও।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি জানান, নিলাম ছাড়া ব্রিজটি ভেঙে নিয়ে যাওয়া ঠিক করেননি ইউপি চেয়ারম্যান। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর