নিজ ইউনিয়নে নির্বাচনি ব্যানার পোড়ানো ও কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামে এক উঠান বৈঠকে এই প্রতিবাদ জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমার নিজ ইউনিয়নে আমার ব্যানারে আগুন লাগাইয়া, পোষ্টার ছিরা, কর্মীদের ভয় দেখাইয়া গণজোয়ার থামাইতে পারবে না।’
তিনি জানান, গতকাল (২ ফেব্রুয়ারি) তার নিজ ইউনিয়ন রসুলপুর ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামে শাপলা কলির ব্যানারে আগুন দেওয়া হয়।
‘বুচ্ছেন? কেরসিন ঢাইল্যা আগুন লাগাইয়া দিছে। আচ্ছা ব্যানার পোড়াইয়া কি আমাদের মানুষের সাথে যে, আমাদের গণজোয়ার, এটা থামাইতে পারবে? মানুষ ব্যানার পোড়াইয়া, পোস্টার ছিড়া, আমাদের কর্মীদের ভয় দেখাইয়া, আমাদের কর্মীদের থামাইয়া দিতে পারবে?’, প্রশ্ন রাখেন হাসনাত।
এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের এই মুখ্য সংগঠক আরও বলেন, ‘আপনারা যারা ব্যানার পোড়াইতেছেন? যারা আমাদের কর্মীদের মারতেছেন- বরকামতা ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের আমাদের এক কর্মীকে গতকাল রাতের বেলায় আক্রমন করেছেন। আপনারা যারা দুনিয়াতে অনিষ্ঠ করবেন, আপনারা জমিনের উপর বিশৃংখলা করবেন, আপনাদের বিচার আল্লাহ করবেন। আপনারা আমাদেরকে মজলুম বানাচ্ছেন, মজলুম আর আল্লাহর সাথে সরাসরি সম্পর্ক। মজলুম যখন আহ্ করে, দুঃখ প্রকাশ করে, ঐটাই আল্লাহর কাছে পৌছায়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের অভ্যাসবসত যেই ধরনের জালেমিপনা করেছেন, এগুলার বিচার আল্লাহ আপনাদের জমিনে করবেন ইনশাল্লাহ।’
এরআগে ব্যানার ছেঁড়ার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গতবার কোরবানি ইদে আমি ইদ করতে আসছিলাম দেবীদ্বার, সারা দিন ছিলাম। কোরবানি ইদের আগের দিন দেবীদ্বার আমার একটা ব্যানার টাঙ্গানো ছিল। ব্যানার টাঙ্গায় না? ইদ মোবারক জানাইয়া পোলাপাইন সখ কইরা একটা ব্যানার টাঙ্গাইছিল- হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে দেবীদ্বারবাসীকে ইদ মোবারক জানাই।’
তিনি বলেন, ‘এরকম একটি ব্যানার নিউমার্কেট চত্তরে লাগানো হইছিল। কোরবানি ইদের আগের দিন বিকাল বেলা কিছু পোলাপাইন ব্যানারটারে এমনভাবে কোবান কোবাইছে, মনে হইতেছে একটা মানুষ কোপাইতেছে। মনে যত ক্ষোভ আক্ষেপ, যা আছে- সব ব্যানারের উপর দিয়া গেছে। ব্যানারের উপর একটা মানুষের যে কত ক্ষোভ হইতে পারে-চিন্তা করেন। ব্যানারকে কোপাইছে একদম দিন দুপুরে।’
ওই ঘটনার পরিণতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা ব্যানারটা কোপাইছে এবং তাদের মাঝখানের একজন মাদকের মামলায় এখন জেলখানায় আছে। আর্মি কয়দিন আগে ধরছে, মাদকসহ ধইরা জেলখানায় পাঠাইছে। আর কিছু যারা ব্যানারটারে কোপাইছিল- ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, আল্লাহর কি বিচার- দুনিয়ার মধ্যে, তারা এখন নির্বাচনের ক্যাম্পেইন করতে পাছেনা।’
ওই ঘটনায় তিনি আরও বলেন, ‘আমি কিছু বলি নাই, আমি একটা মিছিলও করি নাই। আমি একটারেও কিছু বলি নাই। আমি শহীদ ভাইয়েরে একটা ফোন করেছিলাম। ভাই, আমি দেবীদ্বারে আমার কি একটা ব্যানার লাগাইবার অধিকার নাই? আমি বিএনপির বড় নেতার কাছে ফোন দিছিলাম, বলছিলাম- ভাই, আমার একটা ব্যানার লাগাইতে। বলেন- চুপ থাক, আল্লাহ দেখতাছে। আমি চুপ ছিলাম, আল্লাহ বিচার করছে।’
উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়েতের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা জামায়েতের সভাপতি অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
এএম

