একজন (শেখ হাসিনা) তো দিল্লি পালিয়ে গেছে, আরেকজন (জামায়াত আমির) কিছু হলেই পিণ্ডি চলে যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ৩টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাসাইল এলাকায় নরসিংদী পৌর পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা উপলক্ষে নরসিংদী জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশটাকে নতুন করে গড়তে হবে। একজন তো দিল্লি ভেগে গেছে, আরেকজন তো কিছু হলেই পিণ্ডি চলে যায়। খালেদা জিয়া কোথাও গেছে? তিনি সবসময় বলেছেন, এই দেশের মাটিই আমার ঠিকানা। আমি কোথাও যাব না। তাই এই দেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মা বোনের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের কৃষিকার্ড বাস্তবায়ন করতে হবে। খাল খনন কর্মসূচি শুরু করতে চাই। আমার আব্বা তো খাল খনন করেছিল, আব্বার ছেলে হিসেবে আমিও করতে চাই। তাই খাল কাটতে হবে, রাস্তাঘাট ঠিক করতে হবে, যুবকদের কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। লুটপাট হওয়া দুর্নীত বন্ধ করতে হবে। তাই আমরা বলি ‘করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ জিতলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। তাই সবার আগে আপনাদেরকে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিল কারখানা বন্ধ হয়ে আরো মানুষ বেকার হয়ে যাচ্ছে। তাহলে তো এই অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে। তাই ১২ তারিখের নির্বাচনে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশ কোন দিকে যাবে? দেশকে কোন পথে যেতে হবে। আর এই সিদ্ধান্ত নেবার মালিক কে? এই দেশের জনগণ আপনারা।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর আপনাদের ভোট নিয়ে যেই ষড়যন্ত্র হয়েছিল, সেই ষড়যন্ত্র কিন্তু আবার চালু হয়েছে। আরেকটি দল ষড়যন্ত্র করছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা নিজের জীবন দিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছিল। কিন্তু সেদিন আমরা খেয়াল করেছিলাম একটি গোষ্ঠী সেই স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। তাদের কারণে অনেকের শহীদ হয়েছে, মা বোনের সম্মান নষ্ট হয়েছে। আজকে কিছু কিছু মানুষ বলে- অমুককে তো দেখলাম, তমুককে তো দেখলাম। এইবার অমুককে দেখি। আরে ভাই যাদেরকে দেখার কথা বলছেন তাদেরকে তো ৫০ বছর আগে এই দেশের মানুষ দেখেছে তারা কী করেছে। তারা ৫০ বছর আগেই দেশের মানুষের স্বার্থের বাইরে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে।’
বিজ্ঞাপন
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা আগামী ১২ তারিখে তাহাজ্জুদের ওয়াক্তে ঘুম থেকে উঠতে হবে। তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে সবাই যার যার ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। সেখানে গিয়ে ফজরের নামাজ সবাই জামাতে পড়বেন। পরে সাথে সাথে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দাঁড়াবেন। প্রথম প্রথম ভোট দিয়ে দেবেন। কেন আপনাদের এই কথাগুলো বলছি জানেন? এই দেশের রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজ, হাসপাতাল, কলকারাখানা সব ধ্বংস হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এই দেশের ছাত্র-জনতা, নারী, শ্রমিক, পেশাজীবী সব ধরনের মানুষ এই দেশের স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছিল। যেই স্বাধীনতা আমরা ৭১ সালে অর্জন করেছি। আপনার কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার, তারা নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে ফিরিয়ে এনেছে। তাই কথা বলতে হবে। যেটা ভালো সেটাকে ভালো বলতে হবে। আর যেটা মন্দ সেটাকে মন্দ বলতে হবে। যদি মন্দ হয় সেটাকে প্রতিবাদ করতে হবে। গত ১৫ বছর তথাকথিত নির্বাচনে কি কোনো জনসভা করতে দিয়েছিল? ভোটের অধিকার দিয়েছিল? শুধু ছিল গুম, শুধু ছিল খুন, শুধু ছিল গায়েবি মামলা। আর ছিল বিদেশে টাকা পাচার। সেজন্যই তো আজকে রাস্তাঘাটের অবস্থা এই রকম খারাপ। স্কুল-কলেজ, হাসপাতালগুলোর অবস্থা জীর্ণ হয়ে গেছে। বেকার যারা তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে এবং নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী যথাক্রমে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) নরসিংদী জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে বিএনপির তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক মো. আশরাফ উদ্দিন বকুল।
এর আগে বক্তব্য দেন- কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ হোসেন, যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রতিনিধি/এমআই

