সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

সকালে মানববন্ধন, বিকেলে ইউএনওর বদলি বাতিল

জেলা প্রতিনিধি, নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

শেয়ার করুন:

সকালে মানববন্ধন, বিকেলে ইউএনওর বদলি বাতিল
ইউএনও মাসুদুর রহমান।

স্থানীয়দের প্রতিবাদের পর নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের বদলি বাতিল করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে মাসুদুর রহমানের বদলি আদেশটি বাতিল করা হয়।


বিজ্ঞাপন


এর আগে, গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব সামিউল আমিন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ইউএনও মাসুদুর রহমানকে ফিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়। পরদিন সকালে স্থানীয় লোকজন ইউএনওর বদলি আদেশ প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন করে।

পরে বিকেলে প্রথমে ইউএনওর বদলি আদেশটি বহাল রেখে শুধুমাত্র দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্তির বিষয়টি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে কিছুসময় পর বদলির আদেশটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুড়া রাজারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমানের ভাই পরভেজসহ কয়েকজন মিলে সরকারি জায়গা দখল করে ঘর তুলছিলেন। স্থানীয়রা খবর দিলে ইউএনও গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে পারভেজকে আটক করে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান গিয়ে ইউএনওকে শাসিয়ে বলেন, 'এখানে কার অনুমতিতে এসেছেন। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, আমার ইউনিয়নে মোবাইলকোর্ট করতে হলে আমাকে বলতে হবে।' ইউএনও প্রশ্ন করেন-এটা কোন আইনে আছে? তখন চেয়ারম্যান বলেন, এটা ইউনিয়ন পরিষদ আইনে আছে।'


বিজ্ঞাপন


7c98b367-74e2-464e-aa2b-3f992420ece3

চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের ভিডিও তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে এ নিয়ে গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশ হয়। এতে চারদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এ ঘটনায় পরদিন (১৮ জানুয়ারি) লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

এর একদিন পর ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও মাসুদুর রহমানকে ফিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে বদলি করে।

এর পরদিন ২১ জানুয়ারি (বুধবার) সকালে স্থানীয় লোকজন, এলাকাবাসী ইউএনওকে সৎ ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা বলে দাবি করে তার বদলি আদেশ প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন করে।

আরও পড়ুন

ইউএনওকে ‘শাসানো’ সেই ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

পরে বিকেলে প্রথমে ইউএনওর বদলি আদেশটি বহাল রেখে শুধুমাত্র দায়িত্ব থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্তির বিষয়টি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে কিছুসময় পর বদলির আদেশটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়।

এদিকে ইউএনওর বদলি আদেশের তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেন গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। দ্রুত বদলি আদেশ প্রত্যাহারের পাশাপাশি বদলির সুপারিশকারীদের নাম প্রকাশের দাবি জানান।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগ ইউএনওর বদলি আদেশকে অন্যায় বলে উল্লেখ করে দ্রুত আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, মাসুদুর রহমান গত ১৪ ডিসেম্বর জেলার কলমাকান্দা উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন।

আরও পড়ুন

ভ্রাম্যমাণ আদালতে বাধা: চেয়ারম্যান বরখাস্তের একদিন পর ইউএনও বদলি

গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন ফেসবুক পোস্টে ইউএনও মাসুদুর রহমানের বদলির আদেশের কপি সংযুক্ত করে এর প্রতিক্রিয়ায় লেখেন- 'ন্যায় যখন পরাজিত হয় অন্যায় তখন শক্তিশালী হয়ে উঠে। চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান ইউএনওর কাজে বাধা প্রদান করেন এবং বলেন, তার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে। চেয়ারম্যান স্পষ্টতই আইন লঙ্ঘন করেছেন এজন্যই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু যে ইউএনও দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বারবার সম্মুখীন হয়েছেন তাকেই আবার একদিনের ব্যবধানে নেত্রকোণা থেকে পিরোজপুর বদলি করা হয়েছে অর্থাৎ ন্যায় কাজ করতে গিয়ে শাস্তির সম্মুখীন হয়েছেন।

ন্যায় কাজ করতে গিয়ে যদি শাস্তি পেতে হয় তাহলে তারা ন্যায় কাজ করবেন নাকি অন্যায় কাজ করবেন? এই ইউএনওকে কেন বদলি করা হয়েছে এবং কোন ক্ষমতায় বদলি করা হয়েছে একজন নাগরিক হিসেবে এর উত্তর জানতে চাই। পাশাপাশি কারা তাকে বদলির জন্য সুপারিশ করেছে সেটিও জানতে চাই। আজকের মধ্যে তাকে কলমাকান্দা উপজেলায় বহাল করতে হবে এবং এটা করে রাষ্ট্রকে প্রমাণ করতে হবে রাষ্ট্র ন্যায় বিচারক। তার বদলির বিষয়ে বিএনপির যদি কেউ জড়িত থাকে সেটিও প্রকাশ করতে হবে। ড. মোহাম্মদ ইউনূস প্লিজ আপনি বিদায় নেন, আপনাকে আর এক মুহূর্তের জন্যও সহ্য করতে পারছি না। রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনি অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন বার বার। উল্লেখ্য : ইউএনও এখানে বদলি হয়ে এসেছেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের ১৪ তারিখে।

আরও পড়ুন

‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হলে আগে আমাকে বলতে হবে’

এদিকে, এনপিসির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) প্রীতম সোহাগের পোস্টে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন- 'রাষ্ট্র পরিচালনায় 'প্রশাসন এবং রাজনীতি'র এমন অহি-নকুল সম্পর্ক আমরা চাই না।

আমলাতন্ত্র আর রাজনৈতিক 'ক্ষমতার গরম' আমরা দেখতে চাই না, আমরা আমলা ও রাজনৈতিক চর্চাকারীদের সম্মানের চোখে দেখতে চাই। আপনি ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা নিন।

দীর্ঘ পোস্টের শেষে তিনি লেখেন-এই অফিসারকে যদি চাকরির নিয়মিত বদলির বাইরে অরাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োজন করে শাস্তিমূলক বদলি ও চরিত্রহণ করা হয়ে থাকে তাহলে, এই কাজের সাথে জড়িত উপদেষ্টা, রাজনীতিবীদ, সচিব-আমলাসহ সবার প্রতি নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়ে রাখলাম। সিদ্ধান্ত বদল করার দাবি জানিয়ে রাখলাম।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর