শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মাদারীপুরে চালু হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট, তৈরি হবে জৈব সার

এস কে অভিজিত, মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

শেয়ার করুন:

মাদারীপুরে চালু হচ্ছে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট, তৈরি হবে জৈব সার

মাদারীপুরে প্রথমবারের মতো প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট। এটি চালু হলে প্লান্ট থেকে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে তৈরি হবে জৈব সার। স্বল্প দামে এই সার প্রান্তিক চাষিরা ব্যবহার করতে পারবেন কৃষি জমিতে। বাড়বে ফসল উৎপাদন, তৈরি হবে কর্মসংস্থানও। প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে উঠবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের।


বিজ্ঞাপন


প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের শিবচর পৌরসভার চরশাম্যাইল ও শ্যামাইল মৌজায় ২ দশমিক ৬৮ একর জমিতে ২০২৩ সালে নির্মাণ শুরু হয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট। প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজটি নির্মাণ শুরু করে টার্ন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণ কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। এখন শুধু উদ্‌বোধনের অপেক্ষা।

thumbnail_Madaripur_09-01-26_(Integrated_Human_Waste_Management)_Pic_(10)

শিবচর পৌরসভার বাসাবাড়ি থেকে প্রতিদিন ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে এই ইউনিটের মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে উৎপাদন হবে জৈব সার। যা স্বল্প দামে এখান থেকে কিনে জমিতে ব্যবহার করলে ফসল উৎপাদন বাড়ার আশা প্রান্তিক চাষিরা। এতে প্রতি বছর সাশ্রয় হবে কোটি কোটি টাকা। আর এটি চালু হলে তৈরি হবে কর্মসংস্থান, বলছেন স্থানীয়রা। এছাড়া সুপেয় পানি সরবরাহও করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে।

thumbnail_Madaripur_09-01-26_(Integrated_Human_Waste_Management)_Pic_(4)


বিজ্ঞাপন


জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্র জানায়, বায়ু দূষণরোধ ও পরিবেশবান্ধব পৌর শহর গড়ে তুলতেই এই প্রকল্প ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষ। উপজেলার নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পটিতে নিজেদের অর্থায়নে দুই বছর জৈব সার উৎপাদন করবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে সরকারিভাবে তৈরি হবে জৈব সার। এটি জেলার প্রথম সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট। আধুনিক শিবচর পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি পুরোপুরি চালুর কথা বলছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।

thumbnail_Madaripur_09-01-26_(Integrated_Human_Waste_Management)_Pic_(5)

স্থানীয় বাসিন্দা সাইমুর রহমান সাইম বলেন, এই আধুনিক বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্প চালু হলে আমাদের মতো বেকার যুবকেরা কাজ পাবে। এখান থেকে তৈরি জৈব সার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা চালু হলে এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন।

আরও পড়ুন

নারায়ণগঞ্জে তেল খালাসের সময় পাইপ ফেটে সড়কে সয়াবিন

thumbnail_Madaripur_09-01-26_(Integrated_Human_Waste_Management)_Pic_(8)

কৃষক সোহবার মাদবর বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে তৈরি হয়েছে জৈব ফ্যাক্টরি। এখান থেকে সার কিনে জমিতে দিতে পারব। বাজার থেকে আর বেশি দামে সার কিনতে হবে। এতে আমাদের ফসলও ভালো হবে।

thumbnail_Madaripur_09-01-26_(Integrated_Human_Waste_Management)_Pic_(6)

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টার্ন এর প্রতিনিধি মিলন মিয়া বলেন, আমাদের প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ। এখন হস্তান্তর প্রক্রিয়া বাকি। এটিও শিগ্‌গিরই সম্পন্ন হবে। আগামী দুই বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে জৈব সার তৈরি করবে। এরপর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর নিজেদের জনবল দিয়ে তৈরি করবে সার।

thumbnail_Madaripur_09-01-26_(Integrated_Human_Waste_Management)_Pic_(7)

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের মাদারীপুরের শিবচরের প্রকৌশলী শামীমা নাসরিন বলেন, এটি চালুর মাধ্যমে শিবচর পৌরসভার চিত্র পাল্টে যাবে। সড়কে কোনো ময়লা থাকবে না। বাসাবাড়ির নোংরা ও আবর্জনা সংগ্রহ করে এই প্রকল্পে নিয়ে আসা হবে। পরে তৈরি হবে জৈব সার। এখান থেকে থেকে সাধারণ কৃষকরা কম খরচে সার কিনে জমিতে দিতে পারবেন। এছাড়া এটি চালু হলে বেকারদের কর্মসংস্থানেরও তৈরি হবে। সবকিছু মিলিয়ে এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার মানের ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর