শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

মাদারীপুরে গৃহবধূর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি

জেলা প্রতিনিধি, মাদারীপুর
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২০ পিএম

শেয়ার করুন:

মাদারীপুরে গৃহবধূর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের গড়িমসি
মাদারীপুরে গৃহবধূর ওপর হামলা

মাদারীপুরে গৃহবধূ ফাতেমা আক্তারের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা নিতে পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও মামলা না হওয়ায় ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

জানা যায়, সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের মোবারক গৌড়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের সাবেক কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাকিম গাছীর ছেলে রাহাত গাছীর (২৯)। বিয়ের সময় নগদ ৪ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র দেওয়া হয়। এরপরও বিভিন্ন সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের দাবিতে ফাতেমার ওপর মানসিক নির্যাতন শুরু করে। যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় ফাতেমাকে চাপ প্রয়োগ করেন তারা। ফাতেমার বাবার বাড়ির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে রাহাতকে সৌদিআরব পাঠিয়ে দেয় রাহাতের বড়ভাই রাসেল। এরপর আবারও যৌতুক দাবি করে ফাতেমার ভাসুর রাসেলও তার পরিবারের সদস্যরা। এই যৌতুকের টাকা না দেওয়ায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ফাতেমার বাবারবাড়ি গিয়ে মারধর করে হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতা গৃহবধূ। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাহাত ও রাসেলসহ ৫ জনের যৌতুক আইনে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। এই খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় শহরের পানিছত্র এলাকা থেকে নিজবাড়িতে যাওয়ার পথে উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ফাতেমার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে আহত অবস্থায় নির্যাতিতাকে ভর্তি করা হয় মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সদর মডেল থানায় রাসেল ও তার লোকজনের নামে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত থানায় হয়নি মামলার রেকর্ড। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে অসহায় গৃহবধূ ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


বিজ্ঞাপন


এদিকে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি রাজধানী ঢাকায় মিটিং-এ আছেন বলে জানান। কথা বলতে বলেন পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মহসিন-এর সঙ্গে। তাকেও একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার বলেন, আমি আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেছি, সেই জেরে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। আমার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে শ্বশুরবাড়ির লোকজন। আমি ন্যায় বিচার চাই। কিন্তু থানা পুলিশ এখনো মামলা নিচ্ছে না। আমি আবারও হামলার ভয়ে আছি।

 


বিজ্ঞাপন


মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, হামলার খবর পেয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে দেখতে যায় সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে মেয়েটির পক্ষ থেকে। দেরিতে অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর