শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

খুলনায় বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদ-ঋণে লবি শীর্ষে, পিছিয়ে মঞ্জু

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা
প্রকাশিত: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২২ এএম

শেয়ার করুন:

খুলনায় বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদ-ঋণে লবি শীর্ষে, পিছিয়ে মঞ্জু
আলি আসগর লবি ও নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ডানে)

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্টিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে হলফনামা জমা দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের আগ্রহ প্রার্থীদের সম্পদ, তার উৎসসহ নানা বিষয় নিয়ে। খুলনার ৬টি আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন অন্তত চার জন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহি কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক পরিচালক আলী আসগর লবী।

এসব নেতাদের মধ্যে মঞ্জু ও লবী সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন। বিগত দিনে কেউ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, কেউ আবার মামলার ভারে ন্যুব্জ। কারও নিজের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি, আবার কেউ কোটিপতি হয়েও মাথায় বয়ে বেড়াচ্ছেন বিশাল ঋণের বোঝা।


বিজ্ঞাপন


খুলনা-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলি আসগর লবির হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, খুলনার ছয়টি আসনে বিএনপি ছাড়াও অন্য সব দলের প্রার্থী থেকে বার্ষিক আয় ও সম্পদে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। তার অস্থাবর এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা। বার্ষিক আয় ২ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১০ টাকা। হলফনামায় ৬টি মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপি’র এই প্রার্থী শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, হলফনামায় পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে খুলনা ও ঢাকায় দায়ের করা ৬টি মামলায় খালাস, প্রত্যাহার ও কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তার বর্তমান মূল্যে ৫২ কোটি টাকার অস্থাবর রয়েছে। এরমধ্যে নগদ ১ কোটি ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৮৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৬ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার ৫০০ টাকা, পোস্টাল, সেভিং সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ৪০ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা, ২ কোটি ৮৪ লাখ ৯৪ হাজার ২৪ টাকার মোটরযান, ৩০ হাজার টাকার স্বর্ণ, ১২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী, ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের আসবাবপত্র, ২ লাখ টাকার আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।

এছাড়া বর্তমানে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এরমধ্যে অর্জনকালীন মূল্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার অকৃষি জমি ও ৪ কোটি ৬০ লাখ ৩৩ হাজার ২৫০ টাকার বাড়ি/এপার্টমেন্টের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। তার বর্তমান মূল্যে স্ত্রীর ৩ কোটি টাকার অস্থাবর এবং ৬ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৬১১ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকার দায় রয়েছে এবং তার স্ত্রীর দায়ের পরিমাণ ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

নজরুল ইসলাম মঞ্জুর জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১১টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন তিনি। ৭০ লাখ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। এর মধ্যে তার নগদ অর্থ ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৩০৩ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৯৪৭ টাকা, ২৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের মোটরযান, ৫২ হাজার টাকার গহনা, ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রিক পণ্য রয়েছে তার। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ৪০ লাখ টাকার। তার স্ত্রীর এক কোটি ৫১ হাজার ৫৫৫ টাকার অস্থাবর এবং এক কোটি ৯০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে ৫ হাজার টাকা আয়কর প্রদান করেছেন।


বিজ্ঞাপন


পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তার বার্ষিক আয় ও সম্পদের পরিমাণ অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বেশ কম। বছরে তার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমা মিলিয়ে তার ১৭ লাখ টাকা রয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক এই নেতা রাজনৈতিকভাবে বেশ সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পদে পিছিয়ে আছেন।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর