আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন টাঙ্গাইলের দুই নারী। ক্রটি থাকায় যাচাই-বাছাইয়ে তাদের মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেছেন টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক। ফলে জেলার সংসদীয় ৮টি আসনে সংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ে কোনো নারী প্রার্থী থাকছেন না। তবে, দুই নারী প্রার্থীই নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া নারী প্রার্থীরা হলেন— টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার নিপা এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জুলাই আন্দোলনের সংগঠক ফাতেমা আক্তার বীথি।
বিজ্ঞাপন
টাঙ্গাইল রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলা নিয়ে সংসদীয় আসন ৮টি। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ওই আসনগুলোয় সংসদ সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
মনোনয়নপত্রগুলো গত শুক্র ও শনিবার (২ ও ৩ জানুয়ারি) যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় যথাযথ নিয়মে ফরম পূরণ না করায় ২৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী আইনুন নাহার নিপা ও ফাতেমা আক্তার বীথিও রয়েছেন।
টাঙ্গাইলের জেলা জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিধি অনুসারে জমা দেওয়া শতকরা ১ ভাগ ভোটারের স্বাক্ষর যাচাইকালে সঠিকতা না পাওয়ায় আইনিন নাহারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে ফাতেমা আক্তার বীথি গণসংহতি আন্দোলনের দলীয় মনোনয়ন দাখিল না করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এরমধ্যে টাঙ্গাইল—৩ (ঘাটাইল) স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার নিপা আইনিন নাহার নিপা বলেন, তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করবেন। প্রথমে তার নিজেই সমর্থকদের দেওয়া নাম, ভোটার নম্বর ও স্বাক্ষর যাচাই করছেন। কোথায় ত্রুটি ধরা পড়েছে সেটি যাচাই-বাছাই করে আপিল করবেন।
বিজ্ঞাপন
আইনিন নাহার নিপা ঘাটাইল উপজেলার কমলাপাড়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকীর মেয়ে। তিনি আশুলিয়ার দক্ষিণ বাইপাইল এলাকায় বসবাস করেন। হলফনামার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তার নগদ টাকার পরিমাণ ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৭৫০। তার অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৬০ লাখ ৯০ হাজার ৭৫০ টাকা। স্থাবর সম্পদের মূল্য ৮০ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিবিএ পাস করা এই নারী বিবাহিত। তার স্বামী একজন ব্যবসায়ী।
অপরদিকে, টাঙ্গাইল—৫ (সদর) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী ফাতেমা আক্তার বীথি বলেন, তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। তার বিশ্বাস, মনোনয়নপত্র বৈধ হবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারবেন।
ফাতেমা আক্তার বীথি টাঙ্গাইল পৌর শহরের পশ্চিম আকুরটাকুরপাড়া এলাকার বজলুর রহমানের মেয়ে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ও সংগঠক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি গণসংহতি আন্দোলন টাঙ্গাইল জেলা শাখার সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। বিবিএ পাস করা বীথি সম্পদের পরিমাণ নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার কোনো সম্পদ নেই।
প্রতিনিধি/টিবি

