নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ১৪টি রাজনৈতিক দল থেকে ৮৮টি মনোনয়নপত্র উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে ৬২টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। আর আজ মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ১৫টি মনোনয়নপত্র বাতিলসহ দুই প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত রাখা হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে যাচাই-বাছাই করেন নোয়াখালী জেলা রিটানিং কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। এ সময় নোয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তাহের মো. আরিফ হোসেন ও জেলা সিনিয়র নির্বাচনী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
নোয়াখালী-১ আসনে বিএনপি থেকে ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও জামায়েত ইসালমীর অধ্যক্ষ ছাইফ উল্ল্যাহসহ ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে রিটানিং কর্মকর্তা। এক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির জয়নাল আবেদীন ফারুক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সাইয়েদ আহমদ, জাতীয় পার্টি মো. শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. তোফাজ্জল হোসেন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান, এনসিপির সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া মজুমদার ও কাজী মোহাম্মদ মফিজুর রহমান স্বতন্ত্র বৈধ এবং জেএসডি মোশাররফ হোসেন মন্টুকে কর আয়কর রিটার্ন দাখিল না করা এবং ঋণ খেলাপির কারনে বাতিল ও স্বতন্ত্র আবুল কালাম আজাদ ও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা৷ ১০টি মনোনয়ন ফরমের মধ্যে ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা৷
২০২৫-২৬ কর বর্ষের রিটার্ন দাখিল না করা, হলফনামায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তথ্য প্রদান না করা ও ঋণখেলাপি হওয়ায় নোয়াখালী-২ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত প্রার্থী মো. মোশারেফ হোসেন মন্টুর মনোনয়ন বাতিল।
নোয়াখালী-৩ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্যাহ বুলু, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মো. বোরহান উদ্দিনসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ, ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র ২ প্রার্থীসহ ৩ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ নুর উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটানিং কর্মকর্তা।
বিজ্ঞাপন
নোয়াখালী-৪ আসনে ৮ জন মনোনয়ন জমা দেন। এর মধ্যে বিনপির মো শাহজাহান, জামায়েত ইসলামীর ইহসাক খন্দকার ও গণঅধিকারসহ ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইশতিয়াক হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
নোয়াখালী-৫ আসনে ১৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বিএনপি থেকে মো ফখরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামী থেকে বেলায়েত হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের স্ত্রী সতন্ত্র প্রার্থী হাসনা মওদুদ এর মনোনয়ন, ইসলামী আন্দোলনের আবু নাসেরসহ মার্কসবাদী দল। আনিসুল হক রিপাবলিকান পর্টি মনোনয়ন বৈধ। খাজা তানভীর আহমেদ জাতীয় পার্টি থেকে বৈধ ঘোষণা করা হয়।
তওহিদুল ইসলাম ইনসানিয়াত বিপ্লব ও জনতার দলের শওকত হোসেনের আয়কর না থাকায় বাতিল করা মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ওমর আলীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়, মো. নওসাদ, মো. ইউনূস ও কামাল উদ্দিন জেএসডির প্রার্থীর ঋণ খেলাপির অভিযোগ থাকায় মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়।
নোয়াখালী-৬ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিমসহ ১১ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ২ জন স্বতন্ত্রসহ ৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।
অপরদিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একই আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ার অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম মনোনয়ন যাছাই-বাছাই শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রতিনিধি/এ এস

