ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনা জেলার দুটি সংসদীয় আসন বরগুনা-১ ও বরগুনা-২ এ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। যাচাই শেষে দুই আসন মিলিয়ে ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন মোট ১৩ জন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ তাছলিমা আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞাপন
রিটার্নিং অফিস সূত্র জানায়, বরগুনা-১ সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মো. মুহিবুল্লাহ হারুন এবং জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর মো. জামাল হোসাইন।
অন্যদিকে, বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন ১২ জন প্রার্থী। যাচাই শেষে চারজনের মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন আটজন।
বরগুনা-২ আসনে বৈধ প্রার্থীদের তালিকায় আরও রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ডা. সুলতান আহমদ, খেলাফত মজলিসের মো. রফিকুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির আব্দুল লতিফ ফরাজী, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাব্বির আহমেদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)-এর সৈয়দ মো. নাজেস আফরোজ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির মো. কামরুজ্জামান লিটন।
রিটার্নিং অফিস জানায়, আইনগত ও তথ্যগত ত্রুটির কারণে আমজনতার দলের মো. আলাউদ্দিন আকাশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মো. সোলাইমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শামীম ও মো. রাশেদ উদ জামানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
![]()
এ ছাড়া বরগুনা-১ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আমতলী শাখার ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হওয়া এবং হলফনামা দাখিল না করায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
রিটার্নিং অফিস আরও জানায়, বরগুনা-২ আসনে আমজনতার দল মনোনীত প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন আকাশের হলফনামায় তথ্য গোপন এবং দুটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রাশেদ উদ জামানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘাটতি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শামীমের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না থাকাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত ত্রুটির কারণে মনোনয়ন বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপি হওয়ায় এনপিপির প্রার্থী মো. সোলাইমানের মনোনয়নও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
![]()
মনোনয়ন যাচাই নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে কয়েকজন প্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ‘পাথরঘাটা ডট কম’ সহ বিভিন্ন নামে কিছু ফেসবুক পেজ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হচ্ছে দাবি করে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার কথাও জানান তারা।
মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছেন। আইন অনুযায়ী যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, সে বিষয়ে কারও আপত্তির সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে এটাই প্রত্যাশা।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ তাছলিমা আক্তার বলেন, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুসরণ করেই মনোনয়নপত্র যাচাই করা হয়েছে। যেসব মনোনয়নে আইনগত ত্রুটি পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। তবে সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
প্রতিনিধি/এসএস

