নাটোরের বড়াইগ্রামে বিয়ের তিন মাসের মাথায় আদরী নামে এক নববধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নববূধর বাবা ছমির উদ্দিন বাদী হয়ে স্বামী মাহিম, ননদ শাপলা, শ্বশুর লোকমান ও শাশুড়ি সামেলা বেগমকে আসামি করে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে বড়াইগ্রাম উপজেলার কুজাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
নববূধ আদরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের তালশো গ্রামের দিনমজুর ছমির উদ্দিনের মেয়ে। মৃত নববধূর স্বামী একই ইউনিয়নের কুজাইল গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে মাহিম আলীর স্ত্রী।
পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় যৌতুকের কোনো দাবি না থাকলেও বিয়ের পরপরই স্বামীপক্ষ স্বর্ণালঙ্কারের দাবিতে চাপ সৃষ্টি করে। এ সময় ছয় মাস সময় চেয়ে নেন আদরীর বাবা। এর মধ্যেই আদরীর ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। স্বামী মাহিম, শাশুড়ি ও ননদের নির্যাতন নীরবে সহ্য করে যাচ্ছিল আদরী। পরিবারের কষ্টের কথা ভেবে কাউকে কিছু না বললেও একপর্যায়ে অসহনীয় যন্ত্রণায় নিজের দুর্দশার কথা বোনের কাছে জানায় সে। খবর পেয়ে আদরীর পরিবার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে আসতে চাইলে তারা বাধা দেয় এবং ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়। আদরীর জন্য স্বর্ণালঙ্কার কিনতে পরিবারের শেষ সম্বল বাড়িতে থাকা একটি গরু বিক্রির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। আগামী কোরবানির ঈদে আদরীর জন্য ঝুমকা কেনার কথা ছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার আগেই যৌতুকের দাবিতে জীবন দিতে হলো আদরীকে। আদরীর পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নববূধর বাবা ছমির উদ্দিন বলেন, আমি দিনমজুর মানুষ। চার মেয়ে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। তবু একটি ষাড় পালছিলাম যেটা বিক্রি করে তাদের চাহিদা মোতাবেক যৌতুকের স্বর্ণালংকার দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় তারা দিলেন না। আমি দাবি করছি পুলিশ যেন সঠিক তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করেন।
বিজ্ঞাপন
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, আদরীর বাবা একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ আসামিদের গ্রেফতারে কাজ শুরু করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত এলে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানা যাবে বলে তিনি জানান।
প্রতিনিধি/এসএস

