মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

নড়াইলে চাহিদা বাড়ছে চ্যাপা শুঁটকির

মো. হাবিবুর রহমান, নড়াইল
প্রকাশিত: ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১১ এএম

শেয়ার করুন:

নড়াইলে চাহিদা বাড়ছে চ্যাপা শুঁটকির
প্রস্তুত হচ্ছে দেশীয় পুঁটিমাছের শুঁটকি।

নড়াইল সদর উপজেলায় শীত মৌসুমের শুরুতেই প্রস্তুত হচ্ছে দেশীয় পুঁটিমাছের শুঁটকি। কোনো রাসায়নিক প্রক্রিয়া ছাড়া ও নিরাপদ পরিবেশে এই পুঁটি মাছের শুঁটকি তৈরি হওয়ায় দিন দিন চাহিদা বাড়ছে।

সরেজমিনে উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের শলুয়া এবং সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের শোলপুর গ্রামের শলুয়ার বিলে গিয়ে দেখা যায়, বিলের মাঝে খোলা জায়গায় বাঁশ-খুটির মাচা তৈরি করে মাচার ওপর চলছে শুঁটকি তৈরির কাজ। জেলার বিভিন্ন এলাকার খাল, বিল ও নদী থেকে প্রতিদিন দেশি মাছ সংগ্রহ করে শুকানোর কাজ চলছে। ভালো করে শুকানোর পর মাছগুলো সংরক্ষণ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।


বিজ্ঞাপন


জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, নড়াইলে ১৫টি পরিবার শুঁটকি তৈরির পেশায় যুক্ত রয়েছে। এ বছর ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে মাইজপাড়া ইউনিয়নে তিন থেকে চারটি জায়গায় গড়ে উঠেছে শুঁটকি পল্লী। মৌসুমে খাল, বিল ও নদীর পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জালে ধরা পড়ে দেশীয় প্রজাতির ছোট ও বড় মাছ। এসময় মাছগুলো দিয়ে শুটকি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন এলাকার মৎস্যজীবীরা। টাকি, শোল, কই, চাঁদা, পুঁটিসহ হরেক রকম মাছের শুঁটকি তৈরি হয় এখানে। এখানে সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় পুঁটি মাছের শুঁটকি যা চ্যাপা শুটকি নামে বহুল পরিচিত।

মৎস্যজীবী মো. মোসা মিয়া বলেন, শীত মৌসুমে খাল ও বিল থেকে পানি কমে যাওয়ায় জেলেদের জালে দেশীয় প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। সেই মাছ কম দামে কিনে আমরা শুঁটকি তৈরি করি। কিন্তু দালাল ছাড়া বর্তমানে এ শুটকি বিক্রি করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। দালাল ছাড়া যদি সরাসরি পার্টির কাছে বিক্রি করা যেত তাহলে এ ব্যবসায় আমাদের ভালো লাভ হতো।

thumbnail_IMG_20251124_091152

অলোক বিশ্বাস নামে আরেক মৎস্যজীবী বলেন, দুই তিন মণ কাঁচা মাছ শুকালে এক মণ শুঁটকি পাওয়া যায়। প্রকারভেদে এক মণ শুঁটকি সাত থেকে আট হাজার টাকায় বিক্রি হয়।


বিজ্ঞাপন


গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর এলাকা থেকে মাছ শুকানোর কাজ করতে আসা মো. কবির শেখ ও কামরুল শেখ জানান, এখানে কই, চাঁদাসহ পুঁটিমাছের শুঁটকি তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি তৈরি হয় পুঁটি মাছের শুঁটকি যা চ্যাপা শুটকি নামে পরিচিত। মাছ শুকানোর কাজে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না, শুধুমাত্র লবণ দিয়ে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়।

নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, নড়াইলে এ বছর ৮০ মেট্রিক টন শুঁটকি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এখানকার শুঁটকি রাসায়নিক মুক্ত হওয়ায় জেলার পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলায় ও এর চাহিদা রয়েছে। নড়াইল জেলা মৎস্য অফিস এসব ব্যবসায়ীদের মানসম্মত শুঁটকি প্রস্তত করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে আসছে।

প্রতিনিধি/টিবি

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর