প্রান্তিক জনগণের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে গড়ে তোলা হয়েছিল কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বাস্তব চিত্র ভিন্ন। কোথাও নেই পর্যাপ্ত ওষুধ, কোথাও আবার নির্ধারিত সময়ের আগে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রগুলো। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ঠাকুরগাঁওয়ে মোট ১৪৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে ৫৪টি ইউনিয়নে। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে ৪৬টি। কিন্তু জনবল সংকট ও ওষুধের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রান্তিক মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার হাতছানি নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্প এখন অনেকের কাছে ভোগান্তির জায়গায় পরিণত হয়েছে।
-Marginal_healthcare_is_collapsing_in_Thakurgaon_20250922_140839304.jpg)
নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকার কথা থাকলেও জেলার অনেক ক্লিনিক খোলে দেরিতে এবং বন্ধ হয়ে যায় আগেভাগেই। একই সঙ্গে জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথাসহ ২২ ধরনের ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ কেন্দ্রেই মেলে মাত্র ২–৩ ধরনের ওষুধ।
সদর উপজেলার নারগুন, মোহাম্মদপুর, রহিমানপুর, ঢোলারহাটসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে এমনই চিত্র। কোথাও আবার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
-Marginal_healthcare_is_collapsing_in_Thakurgaon_20250922_140934116.jpg)
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, অনেক দূর থেকে ক্লিনিকে আসলেও কাঙ্ক্ষিত ওষুধ পাওয়া যায় না। আবার কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ঠিক সময়ে পাওয়া যায় না।
নারগুন এলাকার জয়নাল নামে একজন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, এখানে আসলে অনেক ধরনের ওষুধ পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে মেলে মাত্র দুই-তিনটা। অনেক সময় ডাক্তারও থাকেন না।
জরিনা নামে এক বৃদ্ধ নারী বলেন, আমি বেশ কয়েকবার ক্লিনিকে এসেছি। যতাবার এসেছি ততবারই বলে এখন মাসের শেষ ওষুধ নাই। এভাবে আসা যাওয়া করতে আমাদের অনেক ভোগান্তি হয়।
![]()
আশরাফুল ইসলাম নামে এক যুবক বলেন, ক্লিনিকের ডাক্তার কোনো দিন ১১টায় আসে। আবার ১টা বাজতে না বাজতে চলে যায়। কোনো কোনো দিন আসেই না। আসলেও বলে ওষুধ নাই। আমার প্রশ্ন সরকার যে এতো ওষুধ দেয় আমাদের গরিব মানুষদের জন্য, তাহলে এই ওষুধ গুলো কোথায় যায়?
অন্যদিকে কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইচসিপিরা (কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার) জানান, ওষুধ সংকটের কারণে রোগীদের সামনে বিব্রত হতে হচ্ছে তাদের।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল বাসার মো. সায়েদুজ্জামান বলেন, ওষুধের সংকট নেই। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকছে কি না, তা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শামসুদ্দীন মোল্লা ঢাকা মেইলকে জানান, ওষুধ পর্যাপ্ত নেই এটা শুধু ঠাকুরগাঁও জেলায় না সারা দেশে ওষুধ সংকট চলছে। তবে খুব শিগগিরই ওষুধ ও জনবল সংকটের সমাধান করা হবে।
প্রতিনিধি/টিবি




