সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

৩৫ মণের 'ব্লাক ডায়মন্ড' ষাঁড়ের দাম ১২ লাখ

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল
প্রকাশিত: ১৯ মে ২০২৫, ১০:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

৩৫ মণের 'ব্লাক ডায়মন্ড' ষাঁড়ের দাম ১২ লাখ

নড়াইল সদরের তারাপুরের প্রকৃতির মাঝে গড়ে উঠা চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা মেলে ৩৫ মণ বা ১৪০০ কেজি ওজনের ক্রস জাতের ‘ব্লাক ডায়মন্ড’ ষাঁড় গরুটির। গরুর মালিক এটির দাম হাকিয়েছেন ১২ লাখ টাকা। যাকে বের করতে ও সামলাতে ২০ থেকে ২৫ জন লোকের দরকার পড়ে। কারণ শান্ত স্বভাবের ক্রস ফ্রিজিয়ান শাহীওয়াল জাতের ষাঁড়টি ছাড়া পেলেই রীতিমতো তাণ্ডব চালায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার বছর বয়স্ক ছয় দাঁতের বিশালাকৃতির ‘ব্লাক ডায়মন্ডের’ দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট ও উচ্চতায় সাড়ে ৬ ফুট। চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্ম কর্তৃপক্ষের দাবি - খামারটির খোলামেলা পরিবেশ ও প্রাকৃতিক খাবারে বেড়ে উঠেছে এ ষাঁড়টি, পুরো উপজেলায় এর চেয়ে বড় গরু আর একটিও নেই। এবার কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য এটিকে প্রস্তুত করেছেন চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক মিল্টন শিকদার।

আরও পড়ুন: অবিকল মানুষের মতো দেখতে বাচ্চার জন্ম দিলো ছাগল

চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্ম সূত্র জানায়, ‘ব্লাক ডায়মন্ডের’ সঙ্গে একই খামারে ৬০টি গরু লালন-পালন করা হচ্ছে। চলতি বছর কোরবানি ঈদের জন্য ৫৭টি দেশি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে খামারে। 

ফার্মের মালিক মিল্টন শিকদার জানান, নিয়মিত পরিচর্যায় দুই থেকে তিন বেলা শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয় ষাঁড়টিকে। নিয়ম করে তিন বেলার খাবারে দেওয়া হয় খামারির নিজস্ব জমির কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, চিটাগুড়, খৈল, লবণ ও গম ভাঙা। 

খামারের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা আরহাম ও আব্দুর রহমান বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার খাবার খায় গরুটি। একে নিয়ম করে প্রতিদিন অন্তত দু’বার গোসল করানো হয়। আমরা পরিবারের সদস্য মনে করেই তাকে লালন-পালন করছি। এটি খুব শান্ত হলেও মাঝেমধ্যে অশান্ত হয়ে যায়। ষাঁড়টি বের করতে গেলে ২০ থেকে ২৫ জন লোক লাগে। খামারে অনেক গরুর মধ্যে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ডই’ সবচেয়ে বড়।

আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় বজ্রপাতে কৃষকের ২ গরুর মৃত্যু

চিত্রা অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক মিল্টন এইচ শিকদার বলেন, ষাঁড়টিকে আমরা হাটে তুলব না, খামার থেকেই বিক্রি করব। ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করতে চাইছি। ইতিমধ্যে সাড়ে ৮ লাখ টাকা দাম উঠেছে। প্রায় দুই বছর আগে যশোরের সাতমাইল হাট থেকে ষাঁড়টি কিনে আনি। তখন এর ওজন ছিল ৪০০ কেজির মতো। আমরা একে প্রাকৃতিকভাবে লালনপালন করেছি, পরিমিত খাবার দিয়েছি। বেশি খাবার দিলে এর ওজন আরও ৬ -৭ মণ বেশি হতো। ওজন অতিরিক্ত হলে ঝিমায় যেত, কিন্তু ষাঁড়টি এখন খুবই প্রাণবন্ত।

নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শুরু থেকে উপজেলার তারাপুরে চিত্রা অ্যাগ্রো খামারটির বিষয়ে খোঁজ-খবর রাখা হয়েছে। খামারটিতে ১৪০০ কেজি ওজনের বড় একটি গরু আছে। খামারিকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হয়। মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি হওয়ায় জেলায় বড় গরু পালনে মানুষ কম আগ্রহী। জেলায় ৯টি গরুর হাটে ভেটেনারি টিমের উপস্থিতিতে সুস্থ গরু পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভোক্তার কাছে তুলে দিতে আমরা কাজ করছি। আশা করছি যে এবার কোরবানি ঈদে খামারিরা তাদের পশুর ভালো দাম পাবেন।

নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছরে খামারিরা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গবাদিপশু মোটা-তাজা করেছেন মোট ৫৪ হাজার ৫৮৫ টি। তার মধ্যে ষাঁড় ১৬ হাজার ৩৪৮ টি, বলদ দুই হাজার ৪০৩টি, গাভি চার হাজার ৪৬২টি, ছাগল ৩১ হাজার ৩০৭ ও ভেড়া ৪৫টি। জেলায় কোরবানি যোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৪০ হাজার ৫১৬ টি। পশু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ১৪ হাজার ৬৯ টি, যা পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে রফতানি হবে।

প্রতিনিধি/ এমইউ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর