বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

ঈদের আগে থেকেই যাত্রীশূন্য দর্শনা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট, কমছে রাজস্ব

মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৩:১০ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা জয়নগর আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে সম্প্রতি বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ভারত সরকারের নতুন ভিসানীতির প্রভাবে এই চেকপোস্টে বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত এখন অনেক কমে গেছে। আগে প্রতিদিন এখানে দেড় থেকে দুই হাজার বাংলাদেশি যাত্রী যাতায়াত করতেন, তবে বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ জনে। এই সংখ্যার মধ্যে বেশিরভাগই মেডিকেল এবং স্টুডেন্ট ভিসায় ভারত যাচ্ছেন। অন্যদিকে, ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াত এখনও চলছে স্বাভাবিকভাবে।

thumbnail_Chuadanga_Darshona_Checkpost-_(3)


বিজ্ঞাপন


এদিকে, ঈদ উপলক্ষে সাধারণত উভয় দেশে যাত্রীদের যাতায়াত বেশি থাকে। কিন্তু এবারের ঈদের আগ মুহূর্তে দর্শনা চেকপোস্টে যাত্রীদের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোটা ছুঁয়েছে। এই সময়ে কোনো বড় ধরনের যাত্রী যাতায়াত দেখা যাচ্ছে না।

যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট এলাকা এখন কোলাহলমুক্ত, নেই যাত্রীচাপ। পাশাপাশি এ চেকপোস্টকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভ্যানচালকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। পাসপোর্টধারী যাত্রীর চাপ না থাকায় এক প্রকার অলস সময় পার করতে হচ্ছে তাদের। কাজের খুব বেশি তাড়া নেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।

thumbnail_Chuadanga_Darshona_Checkpost-_(4)

স্থানীয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ব্যবসায়ী ফেরদৌস হোসেন বলেন, অন্যান্য বছর ঈদের আগের সময়ে চেকপোস্টে যাত্রীদের ভিড় থাকত, যার ফলে আমাদের ব্যবসা জমজমাট থাকত। আমরা ভারতে গিয়ে ঈদের বাজার করতে পারতাম, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে পারতাম। কিন্তু এবার ভিসা বন্ধ থাকায় এবং যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ায়, আমাদের ব্যবসা মন্দা হয়ে গেছে। এখন আমাদের দোকানে একটিও ক্রেতা নেই এবং কর্মচারীরা বসে বসে সময় পার করছেন।


বিজ্ঞাপন


এছাড়া, চা দোকানি মন্টু শেখ বলেন, আমার দোকান চেকপোস্টের কাছে, এখানে সাধারণত পাসপোর্টধারী যাত্রীরা বিশ্রাম নেন বা চা পান করতে আসতেন। এখন যাত্রী কমে যাওয়ায় দোকান প্রায় ফাঁকা থাকে। খালি বসে আছি, যা আগে কখনও হতো না। ঈদের সময়ে অন্তত কিছুটা ভিড় থাকত, কিন্তু এবার তো কোনো ব্যাপারই নেই।

thumbnail_Chuadanga_Darshona_Checkpost-_(5)

ভ্যানচালক বাবুল আক্তার বলেন, আগে চেকপোস্টে যাত্রীদের আনাগোনা থাকলে প্রতিদিনই আমি ভ্যান নিয়ে এখানে যাত্রীদের নিতে আসতাম। একে তো ভিসা বন্ধ হয়ে গেছে, আর তার ওপর যাত্রী সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এখন একে একে আমাদের মতো ভ্যান চালকদের জন্য কোনো কাজ নেই। আগে এখানে যাত্রীদের ভিড় থাকলে কিছু আয় হতো, কিন্তু এখন এখানে কোনো যাত্রী আসে না, তাই আমার জন্যও কাজের তেমন কিছু নেই। পরিস্থিতি এমন যে, এখন আর বাসা-বাড়ির খরচ চালানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন

মেহেরপুরে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার ৪

ফটোকপি ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, প্রতিদিন ইমিগ্রেশন কার্যক্রম চলাকালীন চেকপোস্টে অনেক যাত্রী আসতেন, যাদের পাসপোর্ট কপি, ছবি ও অন্যান্য কাজের জন্য আমাকে তাদের কাছে যেতে হতো। এখন যাত্রী কমে যাওয়ায় আমার ব্যবসা প্রায় বন্ধ। অনেকদিন ধরে কোনো কাজ পাচ্ছি না।

thumbnail_Chuadanga_Darshona_Checkpost-_(6)

ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল ছয়টা থেকে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে। আগে ভোর থেকেই পাসপোর্টধারী যাত্রীরা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতেন। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার নাগরিক ভারত ও বাংলাদেশে যাতায়াত করতেন। কিন্তু গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর কমতে থাকে যাত্রীর সংখ্যা। এর মধ্যে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদানে বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত সরকার। শুধুমাত্র মেডিকেল ও স্টুডেন্ট ভিসা সীমিত পরিসরে চালু রয়েছে। এজন্যই মূলত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রীর সংখ্যা বর্তমানে শূন্যের কোটায়। তবে ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাওয়া-আসা করতে পারছেন। এই চেকপোস্ট দিয়ে আগে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে ২ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতেন। এ দেশ থেকে বহির্গমন করতেন অন্তত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন যাত্রী। এতে প্রত্যেক যাত্রীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা ‘ভ্রমণ কর’ হিসেবে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হতো। চলতি মাসে ২৩ দিনে ২ হাজার ৭৬৩ জন যাত্রী বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন। সে হিসাবে প্রতিদিন দাঁড়ায় গড়ে ১২০ জনে ভ্রমণ কর আদায় হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

thumbnail_Chuadanga_Darshona_Checkpost-_(8)

জয়নগর চেকপোস্ট দিয়ে সাধারণত পর্যটকরা বেশি ভারতে যাতায়াত করেন। কিন্তু ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ রাখায় বর্তমানে যাত্রী সংখ্যা নেই বললেই চলে। ট্যুরিস্ট ভিসা চালু না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার একেবারে শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

thumbnail_Chuadanga_Darshona_Checkpost-_(9)

দর্শনা স্থল কাস্টমস স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা ছাদেকুর রহমান বলেন, টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকার ফলে দর্শনা চেকপোস্টে যাত্রী যাতায়াত ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গত বছর যে পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করত, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। সাধারণ সময়ের হিসেবে প্রতিদিন ১ হাজার থেকে দেড় হাজার যাত্রী যাতায়াত করত, তবে ঈদ, পূজা বা অন্যান্য উৎসবের সময় এই সংখ্যা অনেক বেড়ে যেত। কিন্তু এবছর পরিস্থিতি ভিন্ন, যাত্রীদের যাতায়াত তেমন হচ্ছে না, বিশেষ করে টুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রী সংখ্যা বাড়লে সরকারের রাজস্ব আদায়ও অনেক বেড়ে যেত, কিন্তু বর্তমানে যাত্রী কম থাকায় রাজস্ব আদায় তলানিতে ঠেকেছে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর