বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

চায়ের দেশ ভ্রমণে অপরূপ সৌন্দর্যের হাতছানি

পুলক পুরকায়স্থ, মৌলভীবাজার
প্রকাশিত: ৩০ মার্চ ২০২৫, ০৭:৫৪ এএম

শেয়ার করুন:

loading/img

চায়ের দেশ মৌলভীবাজার। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্য দেশি-বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের মনে জায়গা করে নিয়েছে সেই কবেই। প্রতিবছর ঈদ কিংবা সরকারি ছুটিতে তাদের পদচারণা যেন বাড়তি মাত্রা যোগ করে।

প্রকৃতির লীলাভূমি মৌলভীবাজার জেলার প্রতিটি উপজেলায় ছোট বড় বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। এই জেলার প্রত্যেক উপজেলার যেদিকে চোখ পড়বে, দেখা মিলবে সবুজের সারি সারি চা বাগান।


বিজ্ঞাপন


thumbnail_IMG_20250329_114919

এবারের টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটিতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মৌলভীবাজারের ব্যাপকসংখ্যক পর্যটক আশা করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে গেছে।

জানা গেছে, পুরো জেলায় শতাধিক পর্যটন স্পট থাকলেও দেশ-বিদেশের ভ্রমণপিপাসুদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা। পর্যটন সমৃদ্ধ উপজেলা কমলগঞ্জ। এ উপজেলায় রয়েছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, মাধবপুর লেক, প্রাণ প্রকৃতিতে সমৃদ্ধ আদমপুর বনবিট। মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, ডবলছড়া খাসিয়া পুঞ্জি। শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরিসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তার জীবন ধারা ও সংস্কৃতিসহ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই জনপদ যে কোন ভ্রমণপিপাসুদের মন ও দৃষ্টি কড়ে নেবে প্রকৃতির অপর মহিমায়।

thumbnail_IMG_20250329_114847


বিজ্ঞাপন


পাশাপাশি মণিপুরি, খাসিয়া, গারোসহ শত নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর বসবাস এ জেলাকে করেছে সমৃদ্ধ। তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য সবাইকে আকর্ষণ করে, বিশেষ করে মণিপুরি শাড়িসহ তাদের উৎপাদিত পণ্যগুলো নজর কাড়ে এখানে আসা ভ্রমণপিপাসুদের।

আরও পড়ুন

হবিগঞ্জে ঈদ পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত দর্শনীয় স্থানগুলো

এছাড়াও এখানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওর, দেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত মাধবকুন্ড, আছে মাছ-পাখির অভয়াশ্রম বাইক্কাবিল, কুলাউড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাববাড়ী, গগন ঠিলা, রাজনগরের জলের গ্রাম অন্তেহরী, কমলারানীর দীঘি, মাথিউরা চা ও রাবার বাগান, শ্রীমঙ্গলের নীলকণ্ঠের সাত রঙের চা, চা গবেষণা কেন্দ্র,৭১ বধ্যভূমি। সদরের মনু ব্যারেজ, বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক এবং ছোট বড় পাহাড় টিলা।

স্থানীয়রা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগে প্রাত্যহিক রুটিনের বাহিরে এসে একটু স্বস্তির নিশ্বাস ও আনন্দ পেতে ঈদের ছুটিতে হাজারো ভ্রমণপিপাসুরা আসবেন মৌলভীবাজারে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে।

thumbnail_IMG_20250329_114837

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে এখানকার হোটেল, রিসোর্টে চলছে বাড়তি সাজসজ্জার কাজ। রিসোর্টগুলোকে নান্দনিকতার ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলতে চলছে দিনরাত কর্মযজ্ঞ। কেউ নতুন করে গড়ে তুলেছেন সুইমিংপুল, করছেন শিশুদের বাড়তি বিনোদনের ব্যবস্থা, কোথাও হচ্ছে রাত্রিকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি কিংবা বিনোদনের আয়োজন।

thumbnail_IMG_20250329_115216

শ্রীমঙ্গলের রিসোর্ট ব্যবসায়ী আরেফিন লিংকন বলেন, ইতোমধ্যে অনেক রিসোর্টের পুরোটাই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। আমরা পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত রয়েছি।

আরেক রিসোর্টের ব্যবস্থাপক দুর্জয় দেববর্মা বলেন, আমাদের রিসোর্টের প্রায় ৭০ শতাংশ বুকিং কনফার্ম হয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ হয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। অন্যবারের চেয়ে এবার ভালো সাড়া পাচ্ছি।

thumbnail_IMG_20250329_115152

রাধানগর পর্যটন কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সামছুল হক বলেন, এবারের ঈদের টানা ছুটিতে ভালো ব্যবসা হবে বলে আশাবাদী।

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাবেক সভাপতি ও গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের মালিক সেলিম আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটক সমাগমের বিষয়টি মাথায় রেখে সবকটি হোটেল-রিসোর্টগুলোতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেষ পর্যায়ে। পাশাপাশি পর্যটকদের থাকা-খাওয়া, পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

thumbnail_IMG_20250329_115233

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তায় শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর