পবিত্র ঈদুল ফিতরে পর্যটক বরণে প্রস্তুত রয়েছে হবিগঞ্জের দর্শনীয় স্থানগুলো। এখানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে একাধিক মনোমুগ্ধকর দর্শনীয় স্থান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন চা বাগান, শাহাজিবাজার রাবার বাগান। চুনারুঘাট উপজেলার মুড়ারবন্দের সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র.) এর মাজার, কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, বিভিন্ন চা ও রাবার বাগান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। বানিয়াচং উপজেলার সাগরদিঘী, লক্ষ্মীবাওড় জলাবন, বিথঙ্গল আখড়া, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উচাইল শংকরপাশা শাহী মসজিদ ও বাহুবল উপজেলার দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট।
এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন হাওড় এলাকা। জেলা ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসব স্থানে সহজেই যেতে পারেন। শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় এসে গাড়ি নিয়ে দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করা সম্ভব।
বিজ্ঞাপন
ইতোমধ্যে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পর্যটকদের আগমন ঘটছে। কারণ, এখানে সহজেই পৌঁছানো যায় এবং উদ্যানের গভীর অরণ্যে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী দেখা যায়। আশেপাশে চা বাগান এবং তেলিয়াপাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধও রয়েছে। উদ্যানে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তাও রয়েছে।
আরও পড়ুন—
বিজ্ঞাপন
চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে পর্যটক সমাগম বাড়ছে। ঈদ উপলক্ষে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং উদ্যানে অবস্থিত দোকানগুলো সাজানো হয়েছে।
সাতছড়ি উদ্যানের কাউন্টার দায়িত্বে থাকা সন্ধ্যা রাণী দেববর্মা বলেন, ‘ঈদে পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত সাতছড়ি উদ্যান। এ লক্ষ্যে কাজ করা হয়েছে এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে।’
সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জ কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সাতছড়িতে প্রচুর বন্যপ্রাণী রয়েছে। এখানে নানা প্রজাতির গাছও রয়েছে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে পর্যটকরা আনন্দিত হন। ঈদে পর্যটকদের নিরাপত্তা মনিটরিং করা হবে এবং বসার আসনগুলো পরিস্কার করা হয়েছে।’
কালেঙ্গা রেঞ্জ কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, ‘কালেঙ্গায় পর্যটকরা আসছেন, তবে সাতছড়ির মতো এখানে পর্যটক আসা কম। আমরা পর্যটক আকর্ষণের জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘উন্নত মানের চায়ের কথা মনে পড়তেই যে জেলাগুলোর নাম আসে, তার মধ্যে হবিগঞ্জ অন্যতম। এই জেলা সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ত্রিপুরা রাজ্য এবং কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমানায় অবস্থিত। ৯টি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ জেলায় একপাশে হাওড় এবং অপরপাশে পাহাড়ি এলাকা রয়েছে।’
আরও পড়ুন—
জানা গেছে, সাতছড়ি উদ্যান প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত পর্যটক আকৃষ্ট করে। উদ্যানে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের টিকিট মূল্য ১১৫ টাকা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৬০ টাকা, বিদেশি পর্যটকদের জন্য ১ হাজার ১৫০ টাকা। শুটিংয়ের জন্য ১৩ হাজার ৮০০ টাকা এবং পিকনিক পার্টির জন্য জনপ্রতি ২৩ টাকা। ছোট গাড়ির পার্কিং ফি ১১৫ টাকা এবং বড় গাড়ির জন্য ২৩০ টাকা। একইভাবে কালেঙ্গাতেও টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হয়। তবে দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্টে সবাই প্রবেশ করতে পারে না; এখানে কেবলমাত্র ধনী ব্যক্তিরাই প্রবেশ করতে পারেন। তবে হবিগঞ্জের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে টিকিটের ব্যবস্থা নেই।
রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য প্রায় ১৬ হাজার একর এলাকায় বিস্তৃত এবং এটি তরফ পাহাড় সংরক্ষিত বনভূমির একটি অংশ। এই অভয়ারণ্য দেশের অবশিষ্ট পার্বত্য বনভূমির মধ্যে বৃহত্তম। এখানে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ৬৩৮ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। এ বনভূমির আশেপাশে ত্রিপুরা, সাঁওতাল ও উড়ংরা আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করছে।
সাতছড়ি উদ্যানের ইতিহাস শুরু ১ হাজার ৯১২ সালে, যখন প্রায় ১০ হাজার একর দুর্গম পাহাড়ি জমি নিয়ে গঠিত রঘুনন্দন হিলস রিজার্ভ ছিল। ২০০৫ সালে ৬০০ একর জমিতে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং বর্তমানে এর এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানে ২৪টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করে এবং বন বিভাগের লোকজনও রয়েছেন।
আরও পড়ুন—
এছাড়া উদ্যানে রয়েছে প্রজাপতি বাগান, ওয়াচ টাওয়ার, হাঁটার ট্রেইল, খাবারের হোটেল, রেস্ট হাউস, মসজিদ এবং রাতযাপনের জন্য স্টুডেন্ট ডরমিটরি। এখানে ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং ১৯৭ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, যার মধ্যে ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ৬ প্রজাতির উভচর এবং প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি রয়েছে।
প্রতিনিধি/একেবি