বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

গ্রামীণ ঐতিহ্যে আত্মীয়তার সংস্কৃতি মুড়ির টিন 

জেলা প্রতিনিধি, গাইবান্ধা 
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৩:৩৩ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

খামারপাড়ার স্টেশন ঘেঁষে গ্রামের মেঠোপথ ধরে হাতে মুড়ির টিন, পান-সুপারি আর এক হাঁড়ি মিষ্টি নিয়ে হায়দার আলী যাচ্ছেন নাতনির বাড়ি। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এসব সামগ্রী তার হাতে।

এক সময় এ চিত্র ছিল গ্রামবাংলার খুবই পরিচিত দৃশ্য। দাদা-নানারা যখন নাতি-নাতনির বাড়ি যেতেন, তখন তাদের হাতে এসব উপহার থাকতোই। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই ঐতিহ্য যেন হারিয়ে যেতে বসেছে।


বিজ্ঞাপন


আগে আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই উপহার নিয়ে যাওয়া। দূরদূরান্ত থেকে দাদা-নানারা তাদের নাতি-নাতনির জন্য নিয়ে যেতেন মিষ্টি, পানের খিলি, গুড়-মুড়ি কিংবা বিভিন্ন হস্তশিল্পের সামগ্রী। 

এতে আত্মীয়তার বন্ধন যেমন দৃঢ় হতো, তেমনি শিশুরাও তাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতো।

কিন্তু, আধুনিকতার ছোঁয়ায় এই সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির পথে। এখন আত্মীয়তার সম্পর্ক অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে ফোনকল, মেসেজ বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আগের মতো আর কেউ হাঁড়িভর্তি মিষ্টি নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে ছুটে যান না। এছাড়া দেখা-সাক্ষাৎও কমে গেছে।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব  রুবেল পণ্ডিত মনে করেন, গ্রামবাংলার এই আন্তরিকতা ধরে রাখা খুব জরুরি। প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি আমাদের শেকড়ের এই সংস্কৃতিকেও বাঁচিয়ে রাখতে হবে। নইলে এক দিন হয়ত গল্পের বইয়েই পড়তে হবে— একসময় দাদা-নানারা নাতি-নাতনির জন্য মুড়ির টিন আর মিষ্টি হাতে নিয়ে যেতেন।


বিজ্ঞাপন


প্রতিনিধি/ এমইউ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর