বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

ভোলার ঈদ বাজারে শেষ সময়ে কেনাকাটার ধুম

ইব্রাহিম আকতার আকাশ, ভোলা
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img
জমে উঠেছে ভোলার ঈদ বাজার। ছবি: ঢাকা মেইল

ঈদের বাকি আর মাত্র দু-একদিন। দ্বীপজেলা ভোলায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। এতে ছোট-বড়, ধনী-গরিব কেউই পিছিয়ে নেই। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ছুটছেন ক্রেতারা। ফুটপাত থেকে শুরু করে চকবাজার, শপিংমল, নামিদামি ব্র্যান্ডের শো-রুমগুলোতেও রয়েছে উপচেপড়া ভিড়। ক্রেতাদের এমন উপচেপড়া ভিড়ে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ভোলার ঈদ বাজার।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) শহরের চক বাজার, কে জাহান সুপার মার্কেট, জিয়া সুপার মার্কেটসহ বেশকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, গভীর রাত পর্যন্ত শহরের ফুটপাত থেকে অভিজাত শপিংমল পর্যন্ত সব জায়গায় চলছে কেনাকাটা। প্রতিটি মার্কেটে ক্রেতাদের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে বিক্রেতারা। যেন দম ফেলার মতোও সময় পাচ্ছেন না তারা।


বিজ্ঞাপন


দিনের বেলায় তীব্র গরম থাকায় স্বস্তিতে পোশাক কিনতে পরিবার পরিজন নিয়ে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটায় ঝুঁকছেন ক্রেতারা। গভীর রাতেও ক্রেতাদের ভিড়ে অনুভূত হচ্ছে তীব্র গরম, কিন্তু সেই গরমকে উপেক্ষা করে হাঁক ডাকে মুখোরিত ভোলার মার্কেটগুলো।

শহরের নামিদামি ব্র্যান্ড চন্দ্রবিন্দু, বিন্দু ফ্যাশন, সেইলর, দর্জিবাড়ি, বন্ড ফ্যাশন হাউজগুলোতেও রয়েছে ক্রেতাদের উপছেপড়া ভিড়। এই শো-রুমগুলোতে ছোট-বড় সবারই পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। নতুন নতুন কালেকশন থাকায় শো-রুমগুলোতেও ভিড় করছেন তরুণ-তরুণীরা।

Bhola2

তবে বিক্রেতারা বলছেন, এবার ঈদে বিদেশি পণ্যের চেয়ে দেশি পণ্যের চাহিদা বেশি। দেশি পণ্যের গুণগতমান ও দাম ভালো হওয়ায়  স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করছেন মানুষ। তবে পিছিয়ে নেই বিদেশি পণ্যও। ভারতীয় ও পাকিস্তানি পণ্যও কিনছেন ক্রেতারা।


বিজ্ঞাপন


মেয়েদের পোশাকের মধ্যে রয়েছে সারারা, গারারা, পাকিস্তানি, আলিফ-লায়লা ইত্যাদি জাতীয় থ্রি-পিচ। ছেলেদের রয়েছে বাহারি রকমের পাঞ্জাবি ও প্যান্ট।

বিক্রেতারা আরও বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর বেচাকেনা কিছুটা ভালো। শেষ সময়ে তা পুরোপুরি জমে উঠেছে।

ক্রেতারা বলছেন, বাজারে নতুন নতুন পোশাকের কালেকশন থাকায় স্বস্তিতে কেনাকাটা করছেন তারা। কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে, আবার কিছু কিছু পণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে, ভোক্তা অধিকারের মাধ্যমে বাজার মনিটরিং করে পোশাকের মূল্য ঠিক রাখার দাবি ক্রেতাদের।

কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে, পণ্যের দাম তুলনামূলক কিছুটা কম থাকায় স্বজনদের জন্য চাহিদা মাফিক পোশাক কিনতে পেরে তারা সন্তুষ্ট।

ভোলার বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রাকিব উদ্দিন ওমি নামের এক ক্রেতা জানান, পরিবারের সবার জন্য চাহিদামতো পোশাক কিনতে পেরেছেন তিনি। ইফতার শেষে সন্ধ্যার পর পরিবার নিয়ে এসেছেন স্বস্তিতে কেনাকাটা করবেন বলে। তবে এসে মার্কেটগুলোতে উপচেপড়া ভিড় দেখে কিছুটা অবাক হয়েছেন।

Bhola3

ফারজানা আঁখি নামের এক নারী ক্রেতা জানান, শহরের চন্দ্রবিন্দু ফ্যাশন হাউজ থেকে তার বাজেটের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে একটি পোশাক কিনতে পেরেছেন, কিন্তু বাজেট প্রকাশ করেননি। তবে শহরের অধিকাংশ শো-রুমগুলোতে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক থাকায় ক্রেতাদের জন্য কেনাকাটায় সহজ হয়েছে।

চকবাজার মার্কেটের দোকানি মেহেদি হাসান জানান, অধিকাংশই নারী ক্রেতারা কেনাকাটায় আসছেন। নারীদের চাপে পুরুষ ক্রেতারা কোণঠাসা হয়ে পোশাকের দাম তেমন একটা বলছেন না। আবার একজন নারীর সঙ্গে একাধিকজন এসে ভিড় করছেন।

খালেক ম্যানশনের দোকানি মঞ্জিল জানান, গতবারের তুলনায় এবারের ঈদে ক্রেতাদের সমাগম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। পোশাক অনুযায়ী দাম সাধ্যের মধ্যে হওয়ায় তেমন একটা বিড়ম্বনা হচ্ছে না।

প্রতিনিধি/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর