কাগজকলম ও অবকাঠামোতে শয্যা বাড়লেও চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়েনি। ২০১৯ সালে হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও, শয্যার সংখ্যা বাড়লেও কার্যত রোগীদের জন্য এটি সুবিধা নিয়ে আসছে না। দুই থেকে তিন দিন মেডিকেলে থাকার পরও প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ওষুধ কিনে নিতে হয়।
আজেদুল ইসলাম, সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত তার ভাইকে নিয়ে এসেছেন নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালে আসার পর কর্তৃপক্ষ রোগীর অবস্থা বিবেচনা করে তাকে ইমার্জেন্সিতে ভর্তি করেন। ভর্তির পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আজেদুলের হাতে চিকিৎসাপত্র দেওয়া হলেও কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। তাকে নিজে থেকেই ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়। গুরুতর অসুস্থ ভাইকে নিয়ে বিপাকে পড়ে যান আজেদুল। একদিকে রোগীর অবস্থা, অন্যদিকে ব্যবস্থা করা হয়নি কোনো বেডের। দিন গড়িয়ে রাত পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসকরা রোগীর খোঁজ নেননি।
বিজ্ঞাপন
এটি শুধু আজেদুলের ঘটনা নয়; এরকম শত শত রোগী নীলফামারী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এপেনডিক্স সমস্যা নিয়ে ছোট ভাইকে নিয়ে এসেছেন জিকরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা মেইলকে জানান, এখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকে তাদের কোনো ফ্রি সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। ইনজেকশন, স্যালাইন—যা কিছুই দেওয়া হচ্ছে না। সব কিছুই বাহির থেকে কিনে আনতে হচ্ছে। সামান্য ক্যানুলাও বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, প্রতিটি ওষুধের দাম ২০০-৩০০ টাকা। এখানে ফ্রি কিছুই নেই। তিনি বলেন, "এভাবে এক বেডে দুইজনকে রাখার জায়গা নেই, অথচ তারা সামান্য বেডও দিতে পারে না। আমরা গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে আসি যাতে ফ্রি চিকিৎসা পাই, কিন্তু যদি সব কিছু কিনতে হয়, তাহলে এখানে আসার দরকার কী? বেসরকারি হাসপাতালেও সব কিছু কিনে ভাল সেবা পাওয়া যাবে।"
পিংকী আক্তার তার ছেলেকে নিয়ে ভোর ৬টায় ইমার্জেন্সি বিভাগে আসেন। ভর্তি হওয়ার পর তাকে ওষুধের একটি স্লিপ দেওয়া হয় এবং বাহির থেকে কিনে আনতে বলা হয়। বাহির থেকে ওষুধ কিনে আনানোর পর সেবা শুরু হয়। কিছুটা সমস্যা কমে যাওয়ার পর সকাল ১০টায় ডাক্তার রাউন্ডে এসে তাকে বলেন, ‘ছেলের টেস্ট করাতে হবে।’ তবে তিনি বা তার স্বামী কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। বারবার নার্সদের কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছেন, কিন্তু কোনও সাহায্য পাননি। ১১ থেকে ১২ টার মধ্যে টেস্ট চলছিল। পরে দুপুর ৩টায় এসে নার্স কিছু ওষুধ লিখে দেয়, কিন্তু টেস্টের কাগজ দেননি।
তিনি বলেন, ‘এভাবে আমাদেরকে হয়রানি করা কেন? আমরা গরিব মানুষ, আমাদের সেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুর রহিম ঢাকা মেইলকে জানান, ‘ওষুধ সাপ্লাই নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক ওষুধ আমাদের ইডিসিএল থেকে কিনতে হয়, কারণ তারা সাপ্লাই দিতে পারে না। আমাদের বাজেট অনুযায়ী রোগীর সংখ্যা বেশি থাকায় সেটা পূরণ করা সম্ভব হয় না, যার ফলে কিছুদিন পর পর ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল হাজ্জাজ বলেন, ‘এই দেশটা বিষাক্ত হয়ে গেছে। কোন অভিযোগেই আমার কিছু যায় আসে না। সত্যি কি তাই? তবে বাজেট বাড়াতে তদবির করতে হয়, পাশাপাশি সরকার যা বলে তা কিছুই করে না।’
প্রতিনিধি/একেবি