শুক্রবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

এক সপ্তাহে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশিত: ২২ মার্চ ২০২৫, ১২:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় খুলে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হয় মোটা অংকের জামানত। এরপর সুযোগ বুঝে লাপাত্তা। রাজবাড়ীতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ নামে এক ভুয়া এনজিও। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়ির মালিকের স্ত্রীর যোগসাজসে হয়েছে এমন প্রতারণা।

বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতারক চক্রকে ধরতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


জানা গেছে, গত ১০ মার্চ গোয়ালন্দ পৌরসভার নিলু শেখের পাড়ার নাজমুল হাসানের বাড়ির নিচতলায় অস্থায়ী কার্যালয় খোলে ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’। পরে কয়েকজন নিজেদেরকে এনজিওকর্মী পরিচয় দিয়ে শুরু করেন সদস্য সংগ্রহ। সহজ শর্তে মোটা অংকের ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় সদস্যদের। তবে ঋণ বিতরণের আগে প্রতি এক লাখে ১০ হাজার টাকা জামানত রাখতে বলা হয়।

thumbnail_Messenger_creation_642FA5BF-00A2-480D-845B-CAF55DFBEB75

ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলা হাটের সাইকেল মেকানিক সাইদুল খান জানান, ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ এর কর্মকর্তারা ১৩ মার্চ দোকানে আসেন। তারা নানা বিষয়ে আলোচনার পর ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য সঞ্চয় বাবদ ৮০ হাজার টাকা ও বীমা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। ১৬ মার্চ ৭৫ হাজার ১০০ টাকা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে জমা দেই। কথা ছিল, ১৮ মার্চ ৮ লাখ টাকা ঋণ পাবো। নির্ধারিত দিনে ঋণ আনতে গিয়ে দেখি উধাও হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। কার্যালয়ে ঝুলছে বড় একটা তালা। আমি গরীব মানুষ। প্রতারণা করে আমার ৭৫ হাজার ১০০ টাকা নিয়ে পালিয়েছে প্রতারক  চক্র। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশের কাছে দাবি জানাই, তারা যেন প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার ও আমার টাকা উদ্ধার করে দেন।

আরেক ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান শেখ জানান, ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখায় ওই ভুয়া এনজিওর কর্মীরা। তাদের কথার ফাঁদে পড়ে ১৬ মার্চ এক লাখ টাকা জামানত দেই। ঋণ দেওয়ার কথা ছিল ১৮ মার্চ। তবে একদিন আগে ১৭ মার্চ ঋণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে ওই কার্যালয়ে যাই। গিয়ে দেখি দরজায় তালা।


বিজ্ঞাপন


Messenger_creation_2A2FDBB5-0B23-48AE-AD25-83E97A3B0738

রাজবাড়ী সদরের খানখানাপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. কামরুল ইসলামের প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা। তিনি জানান, ১৩ মার্চ ঊষার আলো ফাউন্ডেশনের কয়েকজন কর্মী দোকানে আসে। ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তারা ১৫ মার্চ আমার বাড়িতে যায়। সেখানেই ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার বিষয়ে আলাপ হয়। ১৭ মার্চ ঋণ দেওয়া হবে জানিয়ে ৮০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিতে বলা হয়। আমি এক সুদের কারবারির কাছে নিজের মোটরসাইকেল বন্ধক রেখে মাসিক ৫ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে ৮০ হাজার টাকা নিয়েছি। সেই টাকা ১৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেই। ১৭ মার্চ ঋণ নিতে কার্যালয়ে গিয়ে অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারি ওই ব্যক্তিরা পালিয়েছে।

আরেক ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ বাজারের চাল ব্যবসায়ী সুজন মোল্লা জানান, ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক চক্র আমির কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৭০ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতারক চক্রটি শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে।

thumbnail_InShot_20250321_145606562

প্রতারণার শিকার গোয়ালন্দ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আমির আলী বলেন, বাড়ির মালিক বলছেন তিনি নাকি ওই প্রতারকদের চেনেন না। তাদের কাছ থেকে নাকি কোনো কাগজপত্রও নেননি। আমি মনেকরি, এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে বাড়ির মালিক জড়িত। তার যোগসাজশেই এতোবড় প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। তাকে আইনের আওতায় আনলেই পুরো চক্রটি ধরা পড়বে।

বাড়ির মালিক নাজমুল হাসানের স্ত্রী প্রান্তি সুলতানা বলেন, আমার স্বামী চাকরির সুবাদে যশোরে থাকেন। বাড়িতে আমি থাকি। গত ১০ মার্চ তিনজন ব্যক্তি এসে আমার বাড়ি দেখে পছন্দ করে মাসে ৭ হাজার টাকা ভাড়ায় তিন বছরের জন্য নিচতলা ভাড়া নেন। আমি চুক্তিপত্র করার জন্য বললে তারা কয়েকদিন সময় চান। আমিও সরল মনে তাদের সময় দেই। তবে সোমবার (১৭ মার্চ) সকালে দেখি তারা সবাই পালিয়েছে। পরে আমি দরজা তালা দিয়ে রাখি। এরপর একে একে প্রতারণার শিকার লোকজন আমার বাড়িতে আসতে থাকেন। প্রতারকরা কক্ষের ভেতর চেয়ার-টেবিল ও তাদের ভুয়া ভর্তি ফরম, পাশবইসহ অন্যান্য কাগজপত্র রেখে গেছে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রতারক চক্রকে ধরতে কাজ চলছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেন, ঊষার আলো ফাউন্ডেশন নামে গোয়ালন্দ উপজেলায় কোনো বৈধ এনজিও নেই। এনজিওর নামে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে লাপাত্তার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর