শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০২৫, ঢাকা

পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যবসায়ীরা

তাহজীবুল আনাম, কক্সবাজার
প্রকাশিত: ১৯ মার্চ ২০২৫, ০৮:২৫ এএম

শেয়ার করুন:

loading/img

এবার রমজানের শুরুতে থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সমুদ্র সৈকতসহ কক্সবাজারের বিনোদন কেন্দ্রগুলো। এতে বন্ধ রয়েছে হোটেল-মোটেল জোন ও সাগরপাড় কেন্দ্রিক কয়েক হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেই সঙ্গে পুরো এক মাসের জন্য বেকার হয়ে পড়েছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট এসব প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শ্রমিক-কর্মচারি।

গত প্রায় সাড়ে ৪ মাস ভালো ব্যবসা হলেও রমজানের শুরুতেই চরম খরা দেখা দেওয়ায় দুঃশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা। তবে আগামী রোজার ঈদ ঘিরে আবারও পর্যটন খাতে প্রাণ সঞ্চার হওয়ার আশা সংশ্লিষ্টদের। তারপরও নগন্য সংখ্যক কিছু পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। তারা বিস্তৃত বালিয়াড়ীর পুরো ফাঁকা সৈকতে বিনোদনে মেতেছেন নিজেদের মতো।


বিজ্ঞাপন


মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) বিকেলে সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নেই চিরচেনা যানজট, ফাঁকা সড়ক-আর বিচের প্রবেশপথের দুপাশের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। পর্যটক নেই, তাই শহরের প্রায় রেস্তোরাঁয় একই চিত্র। খালি পড়ে আছে সাড়ে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের কক্ষ।

thumbnail_IMG_20250318_162557

গত প্রায় সাড়ে ৪ মাস ভালো ব্যবসার পর রমজানের শুরু থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। সৈকতের চিরচেনা-জানা কোলাহলমুখর পরিবেশে বিরাজ করছে অনেকটা সুনশান নিরবতা। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে জনশূন্যতা পুরো সৈকতজুড়ে। আর এমন পরিস্থিতিতে স্থবিরতা নেমে এসেছে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে। প্রায় জনশূন্য সৈকতে অলস সময় কাটছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বিচ বাইক ও জেটস্কি চালক, ঘোড়াওয়ালা আর ফটোগ্রাফারদের। খালি পড়ে থাকা সৈকতের ছাতা চেয়ারগুলো যেন জানান দিচ্ছে পর্যটন খাতে আকস্মিক হাহাকারের চিত্র। 

এতোসবের পরও অল্পকিছু সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে এসেছেন সৈকতের শহর কক্সবাজারে। যাদের অধিকাংশই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। হোটেল-মোটেলের কক্ষ ভাড়া, খাবারের দাম ও পরিবহন ভাড়া স্বাভাবিকের চাইতে অনেক কম হলেও দুর্ভোগে আছেন খাবার রেস্তোরাঁর সন্ধান পাওয়া নিয়ে। তারপরও ফাঁকা সৈকতে তারা বিনোদনে মেতেছেন।


বিজ্ঞাপন


পর্যটকরা জানান, এখন পর্যটক কম। ভালো করে ঘুরাফেরা করা যাচ্ছে। সাগরের দিকে তাকালে মনে হচ্ছে এটি শুধু আমার। জনশূন্য সৈকতে খুব ভালো লাগছে।

পর্যটক না থাকায় বর্তমানে বন্ধ রয়েছে হোটেল-মোটেল জোনের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে এরই ফাঁকে আগামী ঈদে ব্যাপক পর্যটক সমাগমের আশায় কিছু হোটেল-রেস্তোরাঁয় চলছে সংস্কার কাজ। 

এদিকে, পর্যটক কম থাকায় সাগরপাড়ে অনেকটা অলস সময় কাটাচ্ছেন লাইফগার্ড কর্মিরা। তাদের নেই কর্মব্যস্ততা। তারপরও সাগরে গোসলে নামা পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি তাদের চলছে পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন আর ঈদে আগতব্য বিপুল সংখ্যক ভ্রমণপিপাসুর নিরাপত্তা পরিকল্পনার কর্মতৎপরতা।

thumbnail_IMG_20250318_162646

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রমজান মাস এলেই কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা কমে যায়। বিশেষ করে দিনের বেলা রোজার কারণে ভ্রমণে আগ্রহী হন না অধিকাংশ মানুষ। তবে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হলে পর্যটকদের ঢল নামবে এবং কক্সবাজার আবারও ফিরে পাবে তার চিরচেনা কোলাহল। রোজা শুরুর পর থেকে শহরের পাঁচ শতাধিক হোটেল-গেস্ট হাউস রিসোর্ট সমূহের ৯৫ শতাংশই খালি।

ফটোগ্রাফার মুজিবুর রহমান বলেন, এখন পর্যটক নেই বললেই চলে। আমাদের আয় একদম কমে গেছে। তবে ঈদের পর ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি।

শামুক-ঝিনুক বিক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, রমজান মাসে ব্যবসা খুবই ধীরগতির হয়। তাও দোকান খুলেছি। গুটিকয়েক মানুষজন আসছে তাদের জন্য। কিন্তু আমরা অপেক্ষা করছি ঈদের জন্য, তখন বিক্রি বেড়ে যাবে।

কক্সবাজার কলাতলী হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, রমজান মাসে পর্যটকের সংখ্যা কমে যাওয়া আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। আমরা ইতিবাচকভাবেই নিয়েছি। বছরের এই সময়টায় ব্যবসা মন্দা থাকে। কর্মীদেরও ছুটিতে পাঠিয়েছি। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে কক্সবাজার আবারও পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠবে। আমরা সেই সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হোটেল-মোটেলগুলোর অধিকাংশ রুম ফাঁকা পড়ে আছে। প্রায় হোটেল রিসোর্টগুলোতে ৬০ শতাংশ ছাড়েও রুম পাওয়া যাচ্ছে। তবে আশা করছি, ঈদের পরদিন থেকে কয়েকদিন কক্সবাজার পুরোপুরি পর্যটকে ভরে যাবে। সাময়িক এই মন্দাভাব পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে আবারও পর্যটকের ঢল নামবে এমন আশায় বুক বাঁধছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিনিধি/টিবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর