আর মাত্র দু’দিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদকে ঘিরে কুমিল্লায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে পশুর হাট। কুমিল্লার পশুহাটে ক্রেতাদের সমাগম বাড়াতে বাজার কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। সেইসঙ্গে ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন বাজার কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া বাজারে সমাগম বাড়াতে কোনো কোনো বাজারে পশু কেনার জন্য নামমাত্র হাসিল নেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লার পশু হাটগুলো ঘুরে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটে ক্রেতাদের বেশি চাহিদা মাঝারি গরুর দিকে। মাঝারি দেশি গরুর চাহিদা বেশি থাকায় বাজারে বড় গরুর তুলনায় দাম একটু বেশি।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৪ জুন) কুমিল্লার বিবির বাজার, নেউরা, চৌয়ারা, শাহপুর সুবর্ণপুর, বাজ গড্ডা বাজার, বালুতুপা, চানপুর, আমড়াতলী বাজার এবং ময়নামতি বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের দেশি মাঝারি আকারের গরুর প্রতি চাহিদা বেশি।
![]()
কুমিল্লার অন্যতম বড় গরুর হাট বালুতুপা বাজারে কথা হয় হাবিব পেয়ারা ও মামনুনের সঙ্গে। তারা জানান, মাঝারি সাইজের দেশি গরু বাজারে দাম বেশি। সে তুলনায় বাজারে বড় গরুর দাম তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। শুক্রবার বালুতুপা বাজার থেকে দু’টি মাঝারি সাইজের গরু কিনেছি বা ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার মধ্যে।
কথা হয় নগরীর চকবাজার থেকে গরু কিনতে আসা আনোয়ার হোসেন জানান, কোরবানির জন্য একটা মাঝারি সাইজের গরু কিনেছি ৮৫ হাজার টাকা দিয়ে। আরও একটা বড় গরু কিনব। দেশি মাঝারি গরু কিনতে বালুতুপা বাজারে এসেছি।
বিজ্ঞাপন
কুমিল্লা শাহপুর বন্দি শাহী বাজারে গরু বিক্রেতা আবদুল জাব্বার জানান, বাজারে দেশি মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশি। বড় গরুর চেয়ে বাজারে দেশি মাঝারি গরুর প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ বেশি এবং মাঝারি দেশি ও ছোট সাইজের গরু বিক্রি বেশি।
![]()
চৌয়ারা গরু বাজারের গরু বিক্রেতা ইকবাল হোসেন বলেন, একটা বড় সাইজের গরু বিক্রি করতে এর সঙ্গে মাঝারি সাইজের ৭টি গরু বিক্রি হয়। চৌয়ারা বাজারে আমি মোট ২২টি গরু এনেছি। তার মধ্য দু’টি বড় গরু ৩টি এবং মাঝারি গরু ১৪টি এবং ৫টি ছোট গরু রয়েছে। বড় গরুগুলোর প্রতি কাস্টমারের চাহিদা কম। মাঝারি সাইজের ৭টি গরু বিক্রি করেছি। কুমিল্লার গরু বাজারে ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ১০ লাখ টাকার বড় গরুও দেখা যায়।
কথা হয় কুমিল্লার চান্দিনা থেকে গরু কিনতে আসা আহমেদ জোরফান বেলাল ও নোমানের সঙ্গে। তিনি জানান, চান্দিনা থেকে একটি বড় সাইজের গরু কিনেছি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে। এক লাখের নিচে দামের মাঝারি গরুগুলোর দাম বেশি এবং বাজারগুলোতে মাঝারি সাইজের গরুর দাম বেশি।
আরও পড়ুন
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এবার স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে অন্তত ৪৯০টি কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে স্থায়ী পশুর হাট ৩৮টি, অস্থায়ী ৩৯৪টি। সবচেয়ে বেশি পশুর হাট বসেছে মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলায় ৪১টি করে। এ ছাড়া চৌদ্দগ্রামে বসবে ৩৬টি। অনলাইনেও চলছে পশু বেচাকেনা।
![]()
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এবার ২ লাখ ৭৯ হাজার ১২০টি পশু কোরবানির চাহিদা রয়েছে। তার বিপরীতে এবার পশু রয়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৮৮টি।
হাট ইজারাদার সহিদ মিয়া জানান, শহরের ক্রেতারা এখনও গরু কিনেননি। কারণ শহরের বাসা বাড়িতে এখন কোরবানির জন্য গরু কিনে রাখার জায়গা নেই। যার কারণে শহরের অনেক ক্রেতা গরু রাখার জায়গা ও লালন পালন করার ঝামেলা নিতে চান না।
![]()
তাই তারা কোরবানির একদিন বা দু’দিন আগে গরু কিনে। আশা করি কোরবানির ঈদের একদিন বা দু’দিন আগে শুক্রবার ও শনিবার বাজারে ক্রেতার আরও সমাগম হবে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন ঢাকা মেইলকে জানান, ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তার জন্য কুমিল্লার পশুর হাটগুলোতে পুলিশের বিশেষ ফোর্স গাড়ি দিয়ে টহল দিচ্ছে। জাল টাকা চিহ্নিত করার জন্য পশুর হাটগুলোতে জাল টাকা শনাক্তকরণের মেশিন রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস




