শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

ময়মনসিংহে গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

জেলা প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৩ জুন ২০২৪, ১০:০১ পিএম

শেয়ার করুন:

ময়মনসিংহে গরু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

ময়মনসিংহে বড় গরুর চাহিদা কম। তাই বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। মুক্তাগাছা নতুন বাজার হাটে এসেছে কোরবানির পশু বিক্রি করতে কুমারগাতী ইউনিয়নের আবুল কালামের মেয়ে আসমা আক্তার। তাদের ষাঁড়টি কিছুটা ক্ষিপ্র স্বভাবের হলেও আসমাকে দেখে বরাবরই থাকে শান্ত। কয়েক বছর লালন-পালন করায় মায়া তৈরি হয়েছে। গরুটি বিক্রি করতে আনায় তার মনটা ভার। তবে আবুল কলাম কথা দিয়েছেন ষাঁড় বিক্রির টাকায় তার জন্য আরেকটি গরু কিনবেন। তাই গরুর দড়ি নিয়ে বিক্রির আশায় দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি।

আয়মন নদীর পাশেই সপ্তাহের বুধবার বসে মুক্তাগাছা নতুন বাজার গরুর হাট। ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে হাটটি বসায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু বেচাকেনা করতে আসেন পাইকার, ফড়িয়া, খামারি ও গেরস্তরা।


বিজ্ঞাপন


ঈদুল আজহা সামনে রেখে ইতোমধ্যে জমে উঠেছে ময়মনসিংহের কোরবানির পশুর হাটগুলো। বড় পশুর তুলনায় এবার ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় দেশি জাতের ছোট-মাঝারি আকারের গরুই বেশি। গত বছরের তুলনায় প্রতিটি কোরবানির পশুতে বাড়তি গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। তবে বড় বিদেশি প্রজাতির ষাঁড় গরু লালন-পালন করে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। হাটে বিদেশি জাতের একেকটি ষাঁড় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা চাওয়া হলেও ক্রেতার দর আড়াই থেকে ৩ লাখের ওপর উঠছে না। গত ৫ বছরে গোখাদ্য, ওষুধ, বিদ্যুতের দাম বাড়ায় খরচ বহনে চিড়েচ্যাপ্টা পশু পালনকারীরা।

বিশাল এগ্রোর পরিচালক মোতালেব মিয়া বলেন, ‘আমরা এবার বড় ১০টি গরু হাটে তুলেছি, ভাবছি কোনোটিই ৫ লাখের নিচে বেচতে হবে না। তবে এবার ৩ লাখের ওপরে দাম করছেন না ক্রেতারা। গরু লালন-পালনে যে খরচ, এই দামে গরু বেচলে কিছুই থাকবে না। গরু বড় করে এবার ধরা।’

কোরবানির গরু কিনতে আসা কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতবারের তুলনায় প্রতিটি গরুতে দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার। তবে মাঝারি আকারের গরুগুলো সবচেয়ে বেশি পছন্দ হচ্ছে ক্রেতাদের, যেগুলোর দাম দেড় লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা।

হাটের ইজারাদার আব্দুল মান্নান জানান, কোরবানি ঈদের মৌসুমে প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই প্রতিদিন চলে হাটে বেচাকেনা। ক্রেতা-বিক্রেতার সুবিধার জন্য পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, বড় গরুর তুলনায় ছোট-মাঝারি গরু বেশি বেচাকেনা হচ্ছে। ঈদের আগের দিনও হাট চলবে।


বিজ্ঞাপন


কোরবানির হাটে গরু বিক্রি করতে আসা কয়েকজন খামারি ও বিক্রেতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন হাঁটে চোরাই পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ করছে। চোরাই পথে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে একদিকে যেমন রোগ-বালাই বাড়বে, অন্যদিকে দাম কমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন খামারিরা। তাই চোরাই পথে ভারতীয় গরুর প্রবেশ রোধে প্রশাসনের কড়া নজরদারির দাবি জানান ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিরা।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য বলছে, ময়মনসিংহ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৯৮টি। উদ্বৃত্ত ৬৯ হাজার ৩২৮টি।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ডা. মনোরঞ্জন ধর জানান, জেলায় কোরবানির পশুর হাট বসেছে ১৬০টি। হাটে রয়েছে মেডিকেল টিম। অসুস্থ গরুর প্রবেশ ঠেকাতে কাজ করছে মেডিকেল টিম।

/প্রতিনিধি/

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর