বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

গারো পাহাড়ে মিষ্টি আঙ্গুর চাষে সফল জলিল, দেখছেন ব্যপক সম্ভাবনা

নাঈম ইসলাম, শেরপুর
প্রকাশিত: ০৯ জুন ২০২৪, ০১:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

গারো পাহাড়ে মিষ্টি আঙ্গুর চাষে সফল জলিল, দেখছেন ব্যপক সম্ভাবনা

শেরপুরের গারো পাহাড়ে কোকোয়া, কফি, চা, ড্রাগন ফলের সঙ্গে আঙ্গুর চাষ শুরু হয়েছে বেশ আগেই। তবে সেসব আঙ্গুর ছিল বেজায় টক, মুখে দেওয়ায় ছিল দায়। কিন্তু গারো পাহাড়ে এবারই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে মিষ্টি-সুস্বাদু আঙ্গুরের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল জলিল।

thumbnail_pic-1


বিজ্ঞাপন


ভারতে ঘুরতে গিয়ে শখের বশে চারা সংগ্রহ করে দেশে নিয়ে আসেন তিনি। পরে এসব চারাগাছ নিজের ১৫ শতাংশ জমিতে রোপণ করেছেন উদ্যোক্তা আব্দুল জলিল। এরইমধ্যে সুমিষ্ট ফল এসেছে বাগানে। স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় অধিক লাভের আশা করছেন এ উদ্যোক্তা। 

thumbnail_Pic-4

এদিকে তার আঙ্গুর বাগান দেখে অনেকেই এর আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। আর এ ধরনের চাষে কৃষকদের সব ধরনের উৎসাহ ও সহযোগিতার করা হচ্ছে বলে জানান স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

আরও পড়ুন

বাদামের সঙ্গে কাউন চাষে সফল দিনাজপু‌রের ‌রেজা

সম্প্রতি শেরপুরের সীমান্তবর্তী গ্রাম মেঘাদলে গিয়ে দেখা যায়, আব্দুল জলিলের বাগানে মাথার ওপর বাঁশের মাচায় সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে আঙ্গুরের ছড়া। খেতেও বেশ সুস্বাদু আর মিষ্টি রসালো। অনেকেই বাগান হতে কিনে নিচ্ছেন আঙ্গুর। আবার কেউ কেউ চারা সংগ্রহ করছেন বাগান থেকে।

thumbnail_Pic-2

আব্দুল জলিল জানান, গত বছর ভারতে ঘুরতে গিয়ে শখের বসে দুই জাতের ১০টি আঙ্গুর ফলের চারা নিয়ে আসেন। এরপর আরও দুই ধাপে ৪০ জাতের ৮০টি চারা আনেন। নিজের ১৫ শতাংশ জমিতে এসব চারা রোপণ করেন। এতে সব কিছু মিলিয়ে তার খরচ হয় এক লাখ ২০ হাজার টাকা। পরিচর্যার পর বাগানে আসতে শুরু করেছে সুমিষ্ট ফল। থোঁকায় থোঁকায় আঙ্গুর ধরেছে প্রায় সব গাছেই। যা বিক্রি করে লাভের আশা করছেন। এছাড়া নিজেই উৎপাদন শুরু করেছেন আঙ্গুরের চারা।

আরও পড়ুন

শখের বশে কুকুর পালন, সোহাগের বছরে ২০ লাখের অধিক আয়

উদ্যোক্তা আব্দুল জলিল আরও বলেন, আমার কাছে চারা আছে, যদি কারও আগ্রহ থাকে তাকে দিতে পারব। আঙ্গুর চাষ যে বাংলাদেশে হয়, আমি নিজে তার প্রমাণ পেয়েছি। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারা লাগানোর ১০ মাস পর বাগানে আসে ফল। নতুন করে বৃহৎ পরিসরে বাগান করার উদ্যোগ নিচ্ছেন এই উদ্যোক্তা।

thumbnail_Pic-9

জলিল মিয়ার এই বাগান দেখে অনেক কৃষকই আগ্রহী হচ্ছেন। এরই মধ্যে অনেকেই তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেছেন।

শেরপুর পৌর শহরের মোবারকপুর মহল্লার আরিফুর রহমান এসেছেন বাগান দেখতে। তিনি বলেন, আগে শুনেছিলাম আমাদের দেশীয় আঙ্গুর টক হয়। কিন্তু এ বাগানের আঙ্গুর মিষ্টি। আমার পরিবারের চাহিদার জন্য ১০টি চারাগাছ নিয়ে যাব।

thumbnail_Pic-6

শ্রীবরদী লোকাল ভয়েজের সভাপতি এজেড রুমান বলেন, স্থানীয়ভাবে আঙ্গুর চাষ হলে ফরমালিন মুক্ত ও কোনো ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি ছাড়া মানসম্মত ফল পাওয়া যাবে।

চরশেরপুরের সাবেক ইউপি সদস্য নাঈম আহমেদ মনি বাগান থেকে ফল ও চারা সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, আব্দুল জলিলের বাগানে আঙ্গুরের ভালো ফলন হয়েছে। যদি কৃষি অধিদফতরের সহযোগিতায় এরকম আরও বাগান করা যায়, তাহলে একসময় বাইরের দেশ হতে আর আঙ্গুর ফল আমদানি করতে হবে না।

thumbnail_Pic-8

শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন দিলদার বলেন, কৃষক জালাল উদ্দিন প্রথমবারের মতো আমাদের শ্রীবরদী উপজেলায় আঙ্গুর চাষ শুরু করেছেন। অন্য কোনো কৃষি উদ্যোক্তা যদি আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হন তাহলে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হবে।

thumbnail_Pic-7

কৃষি বিজ্ঞানী ড. মোহিত কুমার দে বলেন, বাংলাদেশে সাধারণত বাইকুনর, গ্রীনলং, একেলো, এনজেলিকাসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির উন্নত জাতের আঙ্গুরের চাষ হয়। গাছের জাতের প্রকারভেদ থেকেই ফলটির টক-মিষ্টির পার্থক্য হয়। তবে গারো পাহাড়ের মাটি আঙ্গুর চাষের জন্য উপযোগী। এখানকার মাটি অম্লভাবাপন্ন ও আবহাওয়া বিদ্যমান থাকায় কমলা ও আঙ্গুর চাষ করার উপযুক্ত স্থান। এ মাটি লাল সালফারপূর্ণ (গন্ধক) হলুদার্ভ কাকরযুক্ত হওয়ায় এখানে মিষ্টি ও সুস্বাদু আঙ্গুর চাষ সম্ভব। স্থানীয়রা বাণিজ্যিকভাবে এই আঙ্গুর চাষ করলে এটি একটি জনপ্রিয় ফল চাষ হয়ে দাঁড়াবে। সেই সঙ্গে আঙ্গুর চাষ লাভজনক বাণিজ্যে রূপ নেবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে।

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর