শেরপুরের শ্রীবরদীর দহেরপাড় এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের ছুরিকাঘাতে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। তার নাম বিপ্লব।
রোববার মধ্যরাতে ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে হামলায় নিহত হয় ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
নিহত বিপ্লব জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার দড়িপাড়ার কাবিল মিয়ার ছেলে। সে শ্রীবরদীর দহেরপাড়ের নানা হাজি আব্দুল মজিদের বাড়িতে থেকে মোহাম্মদ আলী মেমোরিয়াল বিদ্যানিকেতনে লেখাপড়া করে আসছিল। চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল সে।
স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাতে মামদামারি কান্দাপাড়া ইবতেদায়ী মাদরাসায় ওয়াজ শুনতে যায় বিপ্লব। এ সময় চরশিমুলচুরা এলাকার মোশাররফ হোসেন নুদার ছেলে ও স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের নেতা আরিফ হোসেন ও তার সঙ্গীদের সঙ্গে বিপ্লবের তর্কাতর্কি হয়। ওয়াজ শুনে বাড়ি ফেরার পথে আরিফ ও তার সহযোগীরা বিপ্লবের ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তারা বিপ্লবকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তাকে নেওয়া হয় শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে নেওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে না ফেরার দেশে চলে যায় কিশোর বিপ্লব।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরিফ, মোখলেস, মনির ও ডিপটি নামে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
নিহতের স্বজনরা জানায়, বিল্পবের ওপর হামলাকারীরা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। চরশিমুলচুরা এলাকায় কিশোর গ্যাং গঠন করে অভিযুক্তরা অনেকদিন ধরেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্বজনরা।
শ্রীবরদী থানার ওসি কাইয়ুম সিদ্দিকী বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মানবাধিকার সংস্থা সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির সভাপতি আলমগীর আল আমিন বলেন, এসএসসি পরিক্ষার্থী বিপ্লবের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাকে যারা হত্যা করেছে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
প্রতিনিধি/এমআর




