অল্প কিছুদিন ব্যবহার করার পরেই হোক কিংবা নিয়মিত যাতায়াতে, হঠাৎ করেই অনেক সময় মোটরসাইকেলের মাইলেজ কমে যায়। অথচ ঠিক কী কারণে এমনটা হচ্ছে, তা বুঝতে পারেন না বেশিরভাগ চালক। তবে অভিজ্ঞ মেকানিকদের মতে, বেশ কিছু সাধারণ বিষয়ে নজর রাখলেই বাইকের মাইলেজ পুনরায় ঠিক রাখা সম্ভব এবং পেট্রোল বাবদ খরচ অনেকটাই কমানো যায়।
বাইকের মাইলেজ কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান একটি কারণ হলো নোংরা এয়ার ফিল্টার। মানুষের শরীরে ফুসফুস যেমন কাজ করে, ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে এয়ার ফিল্টারও ঠিক তেমনই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করার ফলে এয়ার ফিল্টারে প্রচুর ধুলা, ময়লা ও মাটি জমে যায়। এর ফলে ইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় বাতাসের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়, যা সরাসরি ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমিয়ে জ্বালানি খরচ বাড়িয়ে দেয়।
পাশাপাশি, বাইকের মাইলেজ ও ইঞ্জিনের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সঠিক মানের ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। বাজারে প্রচলিত নিম্নমানের বা নকল ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ভেতরের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সবসময় প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্ধারিত গ্রেড ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল ব্যবহার করা উচিত।

এ ছাড়া বাইকের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর সার্ভিসিং করানো দরকার। সাধারণ বাইকের ক্ষেত্রে প্রতি দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার কিলোমিটার অন্তর, স্পোর্টস বাইক এবং বুলেটের ক্ষেত্রে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার কিলোমিটার অন্তর সার্ভিসিং করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বাইকের মালিকের নির্দেশিকা মেনে চলাটাই সবচেয়ে ভালো।
জ্বালানির গুণমানও মাইলেজের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় বিক্রি হওয়া পেট্রোলে ভেজাল থাকার বড় আশঙ্কা থাকে। তাই সবসময় নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করা উচিত। পুরোনো বা কার্বুরেটরযুক্ত বাইকের ক্ষেত্রে এয়ার-ফুয়েল মিশ্রণের অনুপাত ঠিক না থাকলেও জ্বালানির খরচ অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: হেলমেটেরও কি এক্সপায়ারি ডেট থাকে? কতদিন পর বদলানো উচিত
যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি চালকের অভ্যাসের কারণেও মাইলেজ কমে যেতে পারে। অকারণে অতিরিক্ত গতি বাড়ানো, বারবার জোরে অ্যাক্সিলারেটর মোচড়ানো এবং হুটহাট ব্রেক কষা এড়িয়ে চলা উচিত। মাইলেজ কমে যাওয়ার পেছনে শুধু এয়ার ফিল্টার বা ইঞ্জিন অয়েলকে দোষ না দিয়ে টায়ারের হাওয়া কম থাকা, ব্রেকের অতিরিক্ত ঘর্ষণ, ড্রাইভ চেনে লুব্রিকেশনের অভাব, স্পার্ক প্লাগের ত্রুটি কিংবা ফুয়েল ইনজেকশন সিস্টেমে সমস্যা আছে কি না, তাও পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
এজেড




