ভারতের বাজারে শিগগিরই লঞ্চ হতে চলেছে আপডেটেড বাজাজ পালসার এন২৫০ এসএস। আনুষ্ঠানিক লঞ্চের আগেই নতুন এই মোটরসাইকেলটি ডিলারশিপে পৌঁছাতে শুরু করেছে বলে জানা গেছে। নতুন গ্রাফিক্স, আকর্ষণীয় রঙের বিকল্প, উন্নত ইঞ্জিন এবং একাধিক আধুনিক ফিচারের সমাহারে তৈরি এই মডেলটি ২৫০ সিসির স্ট্রিটফাইটার বিভাগে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করতে চলেছে।
আপডেটেড বাজাজ পালসার এন২৫০ এসএস-এর ডিজাইনে বড় কোনো পরিবর্তনের পরিবর্তে নতুন রং ও গ্রাফিক্সের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর গ্রাফিক্সে পালসার এন১৬০ এসএস-এর ছাপ রয়েছে এবং চকচকে লাল রঙের অ্যালয় হুইল বাইকটির চেহারায় আরও বেশি স্পোর্টি ভাব ফুটিয়ে তুলেছে। বর্তমান পালসার এন২৫০-এর পরিচিত সামগ্রিক নকশা বজায় রেখেই নতুন মডেলটিকে আলাদা করে চেনানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
নতুন এই বাইকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে এর ইঞ্জিনের সংশোধন। বর্তমান মডেলের ২-ভালভ সেটআপের পরিবর্তে নতুন বাইকে দেওয়া হয়েছে ৪-ভালভ হেড এবং ৫-স্পিড গিয়ারবক্সের পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে ৬-স্পিড গিয়ারবক্স। এর সঙ্গে থাকা কুইকশিফটার প্রযুক্তির সাহায্যে ক্লাচ ব্যবহার না করেই দ্রুত গিয়ার পরিবর্তন করা সম্ভব হয়, যা স্পোর্টি রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা আরও বাড়িয়ে তোলে। এছাড়া বাইকটিতে রাইড-বাই-ওয়্যার থ্রটল এবং স্পোর্ট, রেন, রোড, অফ-রোড ও ট্যুর নামের পাঁচটি ভিন্ন রাইড মোড রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৬-স্পিড গিয়ারটি হাইওয়েতে বেশি গতিতে চলার সময় ইঞ্জিনের আরপিএম কম রাখতে সাহায্য করবে।

ফিচারের দিক থেকেও বাইকটিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ৫ ইঞ্চির টিএফটি ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল যোগ করা হয়েছে, যা সম্প্রতি আপডেট হওয়া পালসার সিরিজের অন্যান্য মডেলেও দেখা গেছে। এই ডিসপ্লেতে স্মার্টফোন সংযোগের মাধ্যমে গুগল ম্যাপস মিররিং, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন, কল ও এসএমএস অ্যালার্ট এবং মিউজিক নিয়ন্ত্রণের সুবিধা পাওয়া যাবে। এর পাশাপাশি অ্যাডজাস্টেবল লিভার ও ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্টের মতো প্রয়োজনীয় ফিচারও রাখা হয়েছে। সুরক্ষার জন্য ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস-এর পাশাপাশি সুইচেবল ট্র্যাকশন কন্ট্রোল সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে, যা পিছনের চাকার অতিরিক্ত স্লিপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: বাইকের চেইন থেকে খটখট শব্দ? অবহেলা করলেই বড় বিপদ, জেনে নিন করণীয়
সাসপেনশনের ক্ষেত্রে সামনে সোনালি রঙের ইনভার্টেড ফর্ক এবং পিছনে মনোশক সাসপেনশনের পরিচিত বিন্যাসই রাখা হয়েছে। তবে টায়ারে বড় পরিবর্তন এনে সামনে ১১০-সেকশনের চওড়া টায়ার এবং পিছনে ১৪০-সেকশনের রেডিয়াল টায়ার দেওয়া হয়েছে, যা বাইকটিকে আরও পেশিবহুল ও আকর্ষণীয় চেহারা দেওয়ার পাশাপাশি ভালো গ্রিপ প্রদান করবে। ভারতে এই বাইকটির সম্ভাব্য এক্স-শোরুম দাম প্রায় ১.৬০ লাখ রুপি রাখা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এজেড




