টিভিএস অ্যাপাচি আরটিআর সিরিজে একাধিক নতুন ভ্যারিয়েন্ট ও ফিচার আপডেট এনেছে ভারতীয় কোম্পানি। যার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছে অ্যাপাচি আরটিআর ২০০ ৪ভি-র নতুন টপ ভ্যারিয়েন্ট। এই সংস্করণে শুধু নতুন ফিচারই নয়, সাসপেনশনেও গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেড করা হয়েছে।
নতুন এই টপ ভ্যারিয়েন্টটির দাম ১,৪৯,৯৯০ রুপি, এক্স-শোরুম দিল্লি। আগের টপ ভ্যারিয়েন্ট, যেখানে ইনভার্টেড ফর্ক এবং টিএফটি কনসোল ছিল, সেটি এখন আর আগের মতো থাকছে না। নতুন সংস্করণটি সেই ফিচারগুলির সঙ্গে আরও কিছু সুবিধা যোগ করেছে। একই সঙ্গে নিয়মিত টেলিস্কোপিক ফর্কের সংস্করণ এবং ইনভার্টেড ফর্কের সঙ্গে এলসিডি কনসোল দেওয়া সংস্করণও আর পাওয়া যাচ্ছে না।
নতুন টপ ভ্যারিয়েন্টের ডিজাইনে কোনও বড় পরিবর্তন করা হয়নি, তবে সেপাং ব্লু (লাল অ্যালয় হুইল-সহ), আর্মরি গ্রিন, রেসিং রেড ও ম্যাট ব্ল্যাক—এই মোট চারটি নতুন রঙের বিকল্পে বাইকটি পাওয়া যাচ্ছে। অ্যাপাচি আরটিআর ২০০ ৪ভি-র আগ্রাসী ডিজাইন আগের মতোই রয়েছে।
নতুন টপ ভ্যারিয়েন্টে থাকা টিএফটি কনসোলে ম্যাপ মিররিং সুবিধা যোগ করা হয়েছে, যা প্রচলিত টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশনের তুলনায় আরও সরাসরি এবং ব্যবহারবান্ধব। এছাড়াও এতে রয়েছে প্যানিক ব্রেক অ্যালার্ট, ইউএসবি-সি চার্জিং পোর্ট এবং আগের টিএফটি ভ্যারিয়েন্টের অন্যান্য ফিচার যেমন স্লিপ ও অ্যাসিস্ট ক্লাচ, অ্যাডজাস্টেবল ব্রেক ও ক্লাচ লিভার, ব্লুটুথ সংযোগ, অল-এলইডি লাইটিং, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল ও জিটিটি বা গ্লাইড থ্রু টেকনোলজি। জিটিটি কম গতিতে বাইক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফলে শুধুমাত্র ক্লাচ ব্যবহার করেই ধীর গতিতে বাইক এগিয়ে নেওয়া সহজ হয়।
ইঞ্জিনে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি এবং বাইকটিতে আগের মতোই রয়েছে ১৯৭.৭৫ সিসির ইঞ্জিন। স্পোর্ট মোডে এই ইঞ্জিন থেকে ২০.৮২ পিএস শক্তি এবং ১৭.২৫ নিউটন মিটার টর্ক পাওয়া যায়। অন্যদিকে আরবান এবং রেন মোডে পাওয়ার কমে ১৭.৩২ পিএস এবং টর্ক ১৬.৫১ নিউটন মিটার হয়। তিনটি রাইডিং মোডের মাধ্যমে শুধু ইঞ্জিনের আউটপুট নয়, এবিএসের হস্তক্ষেপের মাত্রাতেও পরিবর্তন আসে।
আরও পড়ুন: কতবার পাংচার হওয়ার পর টিউবলেস টায়ার বদলে ফেলা উচিত?
নতুন টপ ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপগ্রেডগুলির একটি হল সাসপেনশন। আগে অ্যাডজাস্টেবল সাসপেনশনের সুবিধা টেলিস্কোপিক ফর্ক দেওয়া সংস্করণে থাকলেও ইনভার্টেড ফর্কের সংস্করণে তা ছিল না। এবার টিভিএস নতুন টপ ভ্যারিয়েন্টে প্রিলোড-অ্যাডজাস্টেবল ইনভার্টেড ফর্ক এবং পিছনে প্রিলোড-অ্যাডজাস্টেবল রিয়ার মনোশক যুক্ত করেছে।
ব্রেকিং সেটআপে সামনে ২৭০ মিমি এবং পিছনে ২৪০ মিমি পেটাল ডিস্ক, ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস এবং রিয়ার লিফট-অফ প্রোটেকশন রাখা হয়েছে। টায়ারের ক্ষেত্রেও সামনে ৯০-সেকশন এবং পিছনে ১৩০-সেকশনের রেডিয়াল টিউবলেস টায়ার বহাল রয়েছে।
সব মিলিয়ে নতুন অ্যাপাচি আরটিআর ২০০ ৪ভি টপ ভ্যারিয়েন্টে ১৯৭.৭৫ সিসি ইঞ্জিন, সর্বোচ্চ ২০.৮২ পিএস শক্তি, ১৭.২৫ নিউটন মিটার টর্ক, তিনটি রাইডিং মোড, প্রিলোড-অ্যাডজাস্টেবল ইনভার্টেড ফর্ক ও রিয়ার মনোশক, টিএফটি কনসোল, ম্যাপ মিররিং, প্যানিক ব্রেক অ্যালার্ট, ইউএসবি-সি পোর্ট, ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, স্লিপ ও অ্যাসিস্ট ক্লাচ, ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস, রিয়ার লিফট-অফ প্রোটেকশন, ব্লুটুথ সংযোগ এবং অল-এলইডি লাইটিং রয়েছে। নতুন টপ ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ তাই শুধু টিএফটি কনসোল বা নতুন রঙ নয়, বরং ইনভার্টেড ফর্কের সঙ্গে প্রিলোড অ্যাডজাস্টমেন্ট যুক্ত হওয়ায় বাইকটির হার্ডওয়্যার প্যাকেজ আগের তুলনায় আরও সম্পূর্ণ হয়েছে।
এজেড




