শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

মোটরসাইকেলের সাসপেনশন ভালো রাখার কার্যকরী উপায়

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

মোটরসাইকেলের সাসপেনশন ভালো রাখার কার্যকরী উপায়
মোটরসাইকেলের সাসপেনশন ভালো রাখার কার্যকরী উপায়

মোটরসাইকেলপ্রেমীদের কাছে বাইকের পারফরম্যান্স ও রাইডিংয়ের স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর এই স্বাচ্ছন্দ্যের মূল চাবিকাঠি হলো বাইকের ‘সাসপেনশন সিস্টেম’। রাস্তার গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ কিংবা উঁচু-নিচু রাস্তায় বাইকের ভারসাম্য বজায় রেখে ঝাঁকুনি শুষে নেওয়া বা শক অ্যাবসর্ব করার কাজটি সাসপেনশনই করে থাকে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করলে সাসপেনশন দ্রুত নষ্ট হতে পারে এবং রাইডিংয়ের অভিজ্ঞতা নিরানন্দ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার বাইকের সাসপেনশন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এবং রাইডিংকে নিরাপদ করতে বিশেষজ্ঞগণ নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন-

১. নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা

বাইকের ফর্ক রড বা সাসপেনশনের মূল অংশে ধুলাবালি, কাদা ও ময়লা জমলে সিলগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়মিত বিরতিতে এগুলো মুছে পরিষ্কার রাখুন। ময়লা জমে থাকলে তা সিল ঘষে নষ্ট করে দেয়, যার ফলে ভেতরে তেল লিক হতে পারে।

২. লিক চেক করা ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া

সাসপেনশনের ফর্ক থেকে তেল বের হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। ফর্ক রড বা শক অ্যাবজর্বারের গায়ে তেলের দাগ বা চটচটে ভাব দেখলেই বুঝতে হবে সিল লিক করেছে। এমন অবস্থায় দ্রুত সিল ও তেল বদলে ফেলা উচিত, অন্যথায় সাসপেনশনের ভেতরে মেকানিক্যাল পার্টস নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

2022-Indian-FTR-S-monoshock-close-up

৩. সময়মতো ফর্ক অয়েল পরিবর্তন

ইঞ্জিন অয়েলের মতো সাসপেনশনের ফর্ক অয়েলও একটি নির্দিষ্ট সময় পর তার কার্যকারিতা হারায়। সাধারণত ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ কিলোমিটার পর পর ফর্ক অয়েল বদলে ফেলা উচিত। পুরাতন তেল লুব্রিকেশনের গুণমান কমিয়ে দেয়, ফলে সকার হার্ড হয়ে যেতে পারে বা রাইডিংয়ে ঝাঁকুনি বেশি অনুভূত হবে।

৪. অতিরিক্ত ওজন পরিহার করা

বাইকের সাসপেনশনের একটি নির্দিষ্ট লোড ক্ষমতা থাকে। নিয়মিত প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওজন বা ওভারলোড করলে সাসপেনশনের স্প্রিং ও সিলের ওপর প্রচণ্ড চাপ পড়ে। এতে সাসপেনশন দ্রুত বসে যায় বা পারফরম্যান্স কমে যায়। তাই বাইকের ম্যানুয়াল অনুসরণ করে ওজন বহন করা জরুরি।

৫. সঠিক প্রি-লোড অ্যাডজাস্টমেন্ট

পেছনের সাসপেনশন বা রিয়ার শকের 'প্রি-লোড' আপনার ও পিলিয়নের (পিছনের যাত্রী) ওজন অনুযায়ী সেট করে রাখা উচিত। যারা নিয়মিত রাইড শেয়ার করেন বা একা যাতায়াত করেন, তাদের রাইডিং স্টাইল ও লোডের ভিত্তিতে এটি অ্যাডজাস্ট করলে ব্যালেন্স ঠিক থাকে এবং কোমরে ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি কমে।

৬. নিয়মিত লুব্রিকেশন ও সার্ভিসিং

সার্ভিসিংয়ের সময় সুইং-আর্ম ও লিংকেজে উন্নত মানের গ্রিজ ব্যবহার করুন। লুব্রিকেশনের অভাবে জয়েন্টগুলোতে ঘর্ষণজনিত ক্ষয় হয়, যা থেকে রাইডিংয়ের সময় ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দ হতে পারে। নিয়মিত গ্রিজিং করলে পার্টসগুলোর স্থায়িত্ব বাড়ে।

images_(3)

৭. মরিচা রোধ ও সতর্কতা

বৃষ্টি বা কাদা পানির সংস্পর্শে এলে ফর্ক রডে মরিচা ধরার ঝুঁকি থাকে। দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টিতে ভিজলে বাইকটি ধোয়ার পর শুকনা কাপড় দিয়ে ফর্ক রড মুছে নিন। মরিচা ফর্ক টিউবের সারফেসে ছোট ছোট গর্ত সৃষ্টি করে, যা পরে অয়েলের সিল নষ্ট করে দেয়।

আরও পড়ুন: কোন বাইকে কতটুকু ইঞ্জিন অয়েল লাগে? জেনে নিন সঠিক পরিমাণ

বাইকের সাসপেনশন শুধুমাত্র আরামের বিষয় নয়, এটি আপনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সাথেও সরাসরি যুক্ত। যদি রাইডিংয়ের সময় অস্বাভাবিক শব্দ শোনেন, বাইকের হ্যান্ডলিং কঠিন মনে হয় কিংবা ব্রেকিংয়ের সময় বাইক অতিরিক্ত ডানে-বামে টানে, তবে বিলম্ব না করে অভিজ্ঞ মেকানিক দিয়ে সাসপেনশন চেক করিয়ে নিন। নিয়মিত ছোটখাটো যত্নেই বাইকের সাসপেনশন দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং আপনার যাতায়াত হবে নিরাপদ ও মসৃণ।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর