৮০ হাজারের মধ্যে এমন একটি বাইক খুঁজছেন যা দারুণ মাইলেজ দেওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কম রাখবে এবং নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে? এই তালিকায় রয়েছে টিভিএস রাডিয়ন, টিভিএস স্পোর্ট, হিরো এইচএফ ডিলাক্স, হোন্ডা শাইন ১০০ এবং হিরো স্প্লেন্ডার প্লাসের মতো জনপ্রিয় কমিউটার বাইক। কেনার আগে এই মডেলগুলোর দাম, ইঞ্জিন, বৈশিষ্ট্য, মাইলেজ এবং কোন বাইকটি আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হতে পারে তা জেনে নেওয়া যাক। নিচে আলোচিত সমস্ত দাম ও মডেলের তথ্য ভারতের বাজারের জন্য প্রযোজ্য।
টিভিএস রেডিয়ন
ভারতীয় বাজারে টিভিএস রেডিয়ন একটি শক্তপোক্ত এবং প্রিমিয়াম ডিজাইনের কমিউটার বাইক হিসেবে পরিচিত। এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৫৮,৪৫০ রুপি। ডিজাইনের দিক থেকে এতে রয়েছে ক্রোম গার্নিশ, রাগড স্টাইলিং এবং আরামদায়ক লম্বা সিট। বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ইউএসবি চার্জিং পোর্ট, সাইড স্ট্যান্ড ইন্ডিকেটর এবং সিনক্রোনাইজড ব্রেকিং সিস্টেম। ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্সের দিক থেকে এই বাইকে রয়েছে ১০৯.৭ সিসি ডুয়ারা-লাইফ এয়ার-কুলড ইঞ্জিন। এটি আট দশমিক শূন্য আট হর্সপাওয়ার শক্তি এবং আট দশমিক সাত নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। চার-স্পিড গিয়ারবক্সের সঙ্গে আসা এই বাইক কম গতিতেও মসৃণ পারফরম্যান্স দেয়। আরামদায়ক সাসপেনশনের কারণে খারাপ রাস্তাতেও ভালো রাইডিং অভিজ্ঞতা মেলে। মাইলেজের ক্ষেত্রে এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার চলতে পারে।

টিভিএস স্পোর্ট
কম বাজেটে স্পোর্টি লুকের কমিউটার বাইক হিসেবে টিভিএস স্পোর্ট বেশ জনপ্রিয়। এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৫৮,৭৫০ রুপি। এতে রয়েছে আকর্ষণীয় বডি গ্রাফিক্স, স্লিক হেডল্যাম্প এবং এলইডি ডিআরএল। বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অ্যানালগ ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার, ইলেকট্রিক স্টার্ট এবং দশ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক।
আরও পড়ুন: রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল কিনুন মাত্র ২০ হাজার রুপিতে
হিরো এইচএফ ডিলাক্স
হিরো এইচএফ ডিলাক্স ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য এন্ট্রি-লেভেল বাইক। এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৫৯,৪৭৭ রুপি। সাধারণ অথচ আকর্ষণীয় ডিজাইনের পাশাপাশি এতে রয়েছে অ্যালয় হুইল, ইলেকট্রিক স্টার্ট, অ্যানালগ কনসোল এবং হিরোর আইথ্রিস প্রযুক্তি, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে সাহায্য করে। এই বাইকে রয়েছে ৯৭.২ সিসি এয়ার-কুলড, চার-স্ট্রোক, সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এটি আট দশমিক শূন্য দুই হর্সপাওয়ার শক্তি এবং আট দশমিক শূন্য পাঁচ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। চার-স্পিড গিয়ারবক্সের সঙ্গে আসা এই হালকা ওজনের বাইক শহরের ভিড় ও সরু রাস্তায় চালানো খুবই সহজ। মাইলেজের ক্ষেত্রে এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম।

হোন্ডা শাইন ১০০
১০০ সিসি সেগমেন্টে হোন্ডা শাইন একশো জাপানি নির্ভরযোগ্যতার একটি দুর্দান্ত উদাহরণ। এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৬৫,৬৪২ রুপি। ডিজাইনে এটি হোন্ডা এসপি ১২৫ এবং শাইন ১২৫ থেকে অনুপ্রাণিত, যা এটিকে প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে সিবিএস বা কম্বি ব্রেকিং সিস্টেম, অ্যানালগ স্পিডোমিটার, সাইড স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফ এবং আরামদায়ক লম্বা সিট। এই বাইকে রয়েছে ৯৮.৯৮ সিসি ফুয়েল-ইনজেক্টেড ইএসপি ইঞ্জিন। এটি সাত দশমিক ৩৮ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং আট দশমিক শূন্য পাঁচ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। ইঞ্জিনটি খুবই মসৃণ এবং কম্পন প্রায় নেই বললেই চলে। মাত্র নিরানব্বই কেজি ওজন হওয়ায় এর হ্যান্ডলিংও বেশ চটপটে। মাইলেজের ক্ষেত্রে এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার চলতে পারে।

হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস
হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস ভারতীয় টু-হুইলার বাজারের একটি আইকনিক নাম। দীর্ঘদিন ধরে এটি গ্রাহকদের প্রথম পছন্দ। এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৭৭,৭৭৭ রুপি থেকে শুরু। ক্লাসিক ডিজাইন এবং আয়তাকার হেডল্যাম্প সব বয়সের রাইডারদেরই পছন্দ। বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে অ্যালয় হুইল, টিউবলেস টায়ার, আইথ্রিস প্রযুক্তি, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি এবং ইন্টিগ্রেটেড ব্রেকিং সিস্টেম। পারফরম্যান্সের জন্য এতে রয়েছে ৯৭.২ সিসি এয়ার-কুলড ওএইচসি ইঞ্জিন, যা আট দশমিক শূন্য দুই হর্সপাওয়ার শক্তি এবং আট দশমিক শূন্য পাঁচ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। চার-স্পিড গিয়ারবক্সের সঙ্গে আসা এই ইঞ্জিন দীর্ঘস্থায়িত্ব, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং নির্ভরযোগ্য পারফরম্যান্সের জন্য পরিচিত। মাইলেজের ক্ষেত্রে হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস সবচেয়ে এগিয়ে। দৈনন্দিন ব্যবহারে এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম।
এজেড




