আপনি যদি ভারতীয় নাগরিক হন, তবে আপনার জন্য রয়েছে এক দারুণ সুযোগ। মাত্র ২০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট দিয়েই কিনতে পারবেন রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেল।
ভারতে রয়্যাল এনফিল্ড-এর প্রায় সব ধরনের মোটরসাইকেলই ক্রেতাদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আপনি যদি এমন একটি বাইক খুঁজে থাকেন, যা যেমন স্টাইলিশ, তেমনই আরামদায়ক রাইডিং অভিজ্ঞতা দেয়, তাহলে রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০ হতে পারে দারুণ অপশন।
বর্তমান প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে এই বাইকের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। বড় ও ভারী মোটরসাইকেলের তুলনায় শহরের যানজটপূর্ণ রাস্তায় হান্টার ৩৫০ চালানো অনেক সহজ। তবে দাম দেখে অনেকেই একসঙ্গে এত টাকা খরচ করতে দ্বিধায় পড়ে যান। তবে চিন্তার কিছু নেই। যদি একবারে পুরো টাকা দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে মাত্র ২০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট করেও এই বাইকটি বাড়িতে নিয়ে আসা যেতে পারে। এরপর বাকি টাকার জন্য ঋণ নিয়ে মাসিক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করা যাবে।

রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০-এর এক্স-শোরুম মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি থেকে শুরু হয়। তবে আঞ্চলিক পরিবহন অফিস চার্জ, বিমা এবং অন্যান্য কর যুক্ত হলে অন-রোড দাম প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার রুপির মধ্যে হতে পারে। শহরভেদে এই দাম কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। ধরা যাক, আপনি হান্টার ৩৫০-এর প্রাথমিক সংস্করণটি কিনছেন এবং তার অন-রোড মূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার রুপি। এক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্ট দিতে হবে ২০ হাজার রুপি এবং ব্যাংক ঋণের পরিমাণ হবে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার রুপি।
আরও পড়ুন: মাত্র ৫০০০ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই কিনতে পারবেন হিরো স্প্লেন্ডার
এই ঋণের অংকের ওপর ভিত্তি করেই আপনার মাসিক কিস্তি নির্ধারিত হবে। যদি আপনি ১ লাখ ৬০ হাজার রুপি ঋণ নেন, তাহলে ব্যাংক আপনার সুবিধা অনুযায়ী সুদের হার এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ নির্ধারণ করবে। ধরা যাক, ব্যাংক আপনাকে বার্ষিক ৯.৫ শতাংশ সুদের হারে ঋণ দিচ্ছে এবং আপনি ৩ বছরে ঋণ শোধ করার পরিকল্পনা করেছেন। সেক্ষেত্রে আপনার মাসিক কিস্তি প্রায় ৫,১০০ থেকে ৫,৩০০ রুপির মধ্যে হতে পারে।
অন্যদিকে, যদি ঋণের মেয়াদ ৪ বছর করা হয়, তাহলে আপনার মাসিক কিস্তি কমে প্রায় ৪,০০০ রুপির কাছাকাছি নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ, প্রতিদিন প্রায় ১৩০ থেকে ১৫০ রুপি সঞ্চয় করলেই আপনি সহজেই নিজের পছন্দের রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০-এর মালিক হতে পারেন।
রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের পাওয়ার
রয়্যাল এনফিল্ড হান্টার ৩৫০-তে রয়েছে ৩৪৯ সিসির নির্ভরযোগ্য জে-সিরিজ ইঞ্জিন। এই একই ইঞ্জিন ক্লাসিক ৩৫০ এবং মেটিওর ৩৫০-তেও ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ২০.২ হর্সপাওয়ার শক্তি এবং ২৭ নিউটন মিটার টর্ক পাওয়া যায়, যার ফলে কম গতিতেও বাইকটি দারুণ টান দেয় এবং চালানোর অভিজ্ঞতা হয় বেশ মসৃণ। ৫-স্পিড গিয়ারবক্স-সহ এই মোটরসাইকেল শহর এবং হাইওয়ে—দুই ক্ষেত্রেই আরামদায়ক রাইডিং নিশ্চিত করে। মাইলেজের ক্ষেত্রে, শহরের রাস্তায় এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। এছাড়া ১৩ লিটারের জ্বালানি ট্যাংক থাকায় বারবার পেট্রোল পাম্পে যাওয়ার ঝামেলাও অনেকটাই কমে যায়।
এজেড




