আপনি যদি প্রথম গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করে থাকেন, তাহলে বাজারে অনেক বিকল্প রয়েছে। তবে সবচেয়ে মজবুত এবং নিরাপদ গাড়ির জন্য টাটা মোটরসকে আলাদাভাবে দেখা হয়। টাটার গাড়িগুলো সেফটির দিক থেকে ৫ স্টার রেটিংয়ের জন্য পরিচিত। আপনার বাজেট যদি কম হয়, তাহলে টাটা টিয়াগো ২০২৬ হতে পারে সেরা বিকল্প। এর দাম যেমন কম, তেমনই মাইলেজও ভালো। আপনি যদি ৫০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট করেন, তাহলে মাসিক ইএমআই কত হতে পারে, তা জেনে নেওয়া যাক।
অনেকেরই প্রথম প্রশ্ন থাকে, এত কম ডাউন পেমেন্টে কি সত্যিই গাড়ি কেনা সম্ভব? তবে আপনার ব্যাংকিং স্কোর ভালো থাকলে, আয় পর্যাপ্ত হলে এবং ব্যাঙ্কের অন্যান্য শর্ত পূরণ করলে সহজেই গাড়ির ঋণ পাওয়া যায়। ব্যাঙ্কগুলি মূলত এই ধরনের ঋণ দেওয়ার জন্যই বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে থাকে।
ভারতের গ্রাহকদের জন্য চমৎকার এক সুযোগ দিচ্ছে টাটা কোম্পনি। ধরুন, আপনি টাটা টিয়াগো কেনার জন্য ৫০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট করতে চান। তাহলে সেটি সম্ভব। টাটা টিয়াগো স্মার্ট বেস ভ্যারিয়েন্টের এক্স-শোরুম দাম ৪.৬৯ লাখ রুপি থেকে শুরু। যদি কলকাতাতে গাড়িটি কেনা হয়, তাহলে আরটিও ট্যাক্স, বিমা এবং অন্যান্য চার্জ যোগ করে এর অন-রোড দাম প্রায় ৫.৫৫ থেকে ৫.৭০ লাখ রুপি হবে। সেই ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট করলে প্রায় ৫ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ নিতে হবে।
এত বড় অংকের ঋণ ব্যাংক সহজেই দিয়ে থাকে। সাধারণত স্কোর দেখে ব্যাংক ৯.৫০ থেকে ১০ শতাংশ সুদ ধার্য করতে পারে। যদি ৫ বছরের জন্য ঋণ নেন, তাহলে মাসিক ইএমআই প্রায় ১০,৬০৭ থেকে ১০,৭৩১ রুপি হতে পারে। আর যদি ঋণের মেয়াদ ৬ বছর করা হয়, তাহলে ইএমআই কমে প্রায় ৯,২২৯ রুপি হতে পারে। তবে ঋণের মেয়াদ যত বাড়বে, ইএমআই তত কম হবে, কিন্তু মোট সুদের পরিমাণ বেড়ে যাবে। ৫ বছরের ঋণে প্রায় ১.৩০ লাখ থেকে ১.৪০ লাখ রুপি সুদ দিতে হতে পারে। এগুলো আনুমানিক হিসাব। শোরুম বা ব্যাংকে গেলে সঠিক অংক জানিয়ে দেওয়া হবে।

টাটা টিয়াগো ২০২৬-এ রয়েছে ১.২-লিটার ৩-সিলিন্ডার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড ইঞ্জিন। এটি পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টে ৮৬ এইচপি এবং সিএনজি ভ্যারিয়েন্টে ৭৫.৫ এইচপি শক্তি উৎপাদন করে। গাড়িটিতে ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং ৫-স্পিড এএমটি অটোমেটিক গিয়ারবক্স দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ টিয়াগো সিএনজি এএমটি ভ্যারিয়েন্টে প্যাডেল শিফটার-ও যোগ করা হয়েছে।
টাটা টিয়াগোর ডিজাইনের কথা বললে, এতে রয়েছে নতুন এলইডি হেডল্যাম্প, স্পোর্টি ফ্রন্ট গ্রিল এবং এলইডি টেলল্যাম্প। ইন্টিরিয়রে রয়েছে প্রিমিয়াম ড্যাশবোর্ড, ১০.২৫-ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, ওয়্যারলেস চার্জিং, ডুয়াল-টোন কেবিন এবং পর্যাপ্ত জায়গা।
আরও পড়ুন: কম দামে কিনতে পারেন এই ৫ প্রাইভেট কার
টাটা টিয়াগোতে রয়েছে অ্যানড্রয়েড অটো, অ্যাপল কারপ্লে, অটো এসি, ক্রুজ কন্ট্রোল এবং ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা। সেফটির জন্য রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, এবিএস প্লাস ইবিডি, ইএসসি এবং গ্লোবাল এনক্যাপ-এর ৪ স্টার সেফটি রেটিং। এছাড়া ৬টি এয়ারব্যাগ, ইএসসি, পার্কিং সেন্সর, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, আইসোফিক্স চাইল্ড সিট অ্যাঙ্কর, ইবিএস-সহ এবিএস এবং আরও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ফিচার দেওয়া হয়েছে।
টাটা টিয়াগো-র মাইলেজের কথা বললে, পেট্রোল ভ্যারিয়েন্টে এটি প্রতি লিটারে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং সিএনজি ভ্যারিয়েন্টে প্রতি কেজিতে প্রায় ২৮ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দেয়। টাটা মোটরস-এর আইসিএনজি প্রযুক্তি এই গাড়িতেও রয়েছে। এতে দুটি সিএনজি ট্যাঙ্ক বুটের নীচে বসানো হয়েছে, ফলে লাগেজ রাখার জায়গা বেশি পাওয়া যায়। টিয়াগো সিএনজি ভ্যারিয়েন্টের প্রারম্ভিক দাম ৫.৭৯ লাখ রুপি।
এজেড




