ভারতের জনপ্রিয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টাটা মোটরস তাদের অন্যতম জনপ্রিয় মাঝারি আকারের এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল) ‘টাটা সিয়েরা’র ৫০ হাজার ইউনিট বিক্রির মাইলফলক উদযাপন করতে বাজারে নিয়ে এলো বিশেষ ‘জুবিলি এডিশন’ বা জয়ন্তী সংস্করণ।
এই বিশেষ সংস্করণটি মূলত ডিলারদের কাছ থেকে ফিট করে নেওয়া আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের প্যাকেজ বা অ্যাক্সেসরি প্যাক হিসেবে স্মার্ট প্লাস, পিওর এবং অ্যাডভেঞ্চার—এই তিনটি ধরনে পাওয়া যাবে।
ভারতে এই জুবিলি এডিশনের প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম রাখা হয়েছে ১১.৯৯ লাখ রুপি। এর ফলে যারা আরও আকর্ষণীয় ও নিজেদের পছন্দসই সাজে গাড়ি কিনতে চান, তাদের জন্য এটি দারুণ এক সুযোগ। তবে ভারতের বাজারে এটি ধামাকা তৈরি করলেও বাংলাদেশের বাজারে এই বিশেষ গাড়িটি পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নতুন এই বিশেষ সংস্করণে গাড়ির ইঞ্জিন বা শক্তি উৎপাদক ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। বরং গাড়ির বাহ্যিক সৌন্দর্য, আরামদায়ক ফিচার এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন ‘স্মার্ট প্লাস জুবিলি এডিশন’ গাড়িটির প্রাথমিক মডেলে একটি অভিজাত লুক যোগ করেছে। ‘পিওর’ ভ্যারিয়েন্টে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বেশ কিছু প্রয়োজনীয় ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। আর যারা একটু অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন, তাদের জন্য ‘অ্যাডভেঞ্চার’ ভ্যারিয়েন্টে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘আরওকিউ’ (ROQ) কিট, যা গাড়িটিকে বেশ শক্তিশালী ও রাফ-অ্যান্ড-টাফ লুক দেয়।
গাড়ির ভেতরের ও বাইরের নকশায় বেশ কিছু বড় পরিবর্তন এসেছে। স্মার্ট প্লাস মডেলে রয়েছে চমৎকার সামনের গ্রিল, পেছনের ক্ল্যাডিং এবং রুফ রেল। পিওর মডেলে যুক্ত করা হয়েছে হুইল আর্চ ক্ল্যাডিং ও বডি ক্ল্যাডিং প্যাকেজ।
অন্যদিকে, অ্যাডভেঞ্চার জুবিলি এডিশনে থাকা বিশেষ আরওকিউ কিটের মধ্যে রয়েছে সামনে ও পেছনের স্কিড প্লেট, হুড স্কুপ, উইন্ডো-লাইন ক্ল্যাডিং, হুইল আর্চ ক্ল্যাডিং এবং বডি ডেকাল বা আকর্ষণীয় স্টিকার।

এগুলো গাড়িটিকে আরও আগ্রাসী এবং অফ-রোডে চলার উপযোগী করে তোলে। তবে স্ট্যান্ডার্ড সিয়েরার দুই ভাগে খোলার পেছনের দরজা বা স্প্লিট টেলগেট এবং ২০৫ মিলিমিটারের গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স বা মাটি থেকে গাড়ির উচ্চতা আগের মতোই রাখা হয়েছে। ভেতরের কেবিনে থাকছে কৃত্রিম চামড়ার সিট কভার, পিওর ভ্যারিয়েন্টে কৃত্রিম চামড়ার স্টিয়ারিং হুইল কভার এবং দারুণ ফিনিশিং।
ফিচার ও সুরক্ষার দিক থেকেও এই গাড়িটি বেশ আধুনিক। স্মার্ট প্লাস জুবিলি এডিশনে রয়েছে ১০.২৫ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন তথ্য-বিনোদন ব্যবস্থা (ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম), তারবিহীন অ্যানড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে, পেছনের দৃশ্য দেখার ক্যামেরা (রিয়ার ভিউ ক্যামেরা) এবং ৪টি স্পিকারের অডিও সিস্টেম। পিওর ভ্যারিয়েন্টে বাড়তি সুবিধা হিসেবে থাকছে সামনে ও পেছনের ড্যাশক্যাম, মালামাল রাখার পার্সেল ট্রে এবং চৌম্বকীয় সানশেড বা রোদ চশমা। অ্যাডভেঞ্চার ভ্যারিয়েন্টেও ড্যাশক্যামের পাশাপাশি বিশেষ বডি স্টাইলিং কিট পাওয়া যাবে। সুরক্ষার জন্য গাড়িটিতে স্ট্যান্ডার্ড বা সাধারণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ৬টি এয়ারব্যাগ, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP), চারটি চাকায় ডিস্ক ব্রেক, শিশুদের সুরক্ষার জন্য আইসোফিক্স (ISOFIX), লেভেল ২+ চালক সহায়তা প্রযুক্তি (ADAS) এবং একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বডি স্ট্রাকচার বা কাঠামো দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: উল্টোপথে ফেরারি! অটোমেটিকের যুগে আনলো ম্যানুয়াল গিয়ারে গাড়ি
ইঞ্জিনের ক্ষমতার কথা বলতে গেলে, এই জুবিলি এডিশনটি মূলত জ্বালানি চালিত বা আইসিই (ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিন) মডেলগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে ক্রেতারা ১.৫ লিটার ন্যাচারালি অ্যাসপিরেটেড পেট্রোল (১০৬ হর্সপাওয়ার, ১৪৫ নিউটন মিটার), ১.৫ লিটার টার্বো পেট্রোল (১৬০ হর্সপাওয়ার, ২৫৫ নিউটন মিটার) এবং ১.৫ লিটার ডিজেল (১১৮ হর্সপাওয়ার, ২৬০/২৮০ নিউটন মিটার) ইঞ্জিনের বিকল্প পাবেন। এটি ম্যানুয়াল এবং অটোমেটিক—উভয় গিয়ারবক্সের সাথেই কেনা যাবে।
এর পাশাপাশি টাটা সম্প্রতি পরিবেশবান্ধব ‘সিয়েরা ইভি’ বা বৈদ্যুতিক গাড়িও বাজারে এনেছে, যার এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ১৮.৭৯ লক্ষ রুপি থেকে। এতে ৬৩ কিলোওয়াট-আওয়ার এবং ৭৫ কিলোওয়াট-আওয়ারের ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প রয়েছে। রিয়ার হুইল ড্রাইভ (RWD) মডেলে পেছনের মোটরটি সর্বোচ্চ ২৩৮ হর্সপাওয়ার এবং অল হুইল ড্রাইভ (AWD) সংস্করণে ডুয়াল মোটর ৫০৪ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের দাবি, একবার ফুল চার্জ দিলে এই বৈদ্যুতিক গাড়িটি ৫৬৬ থেকে ৬৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। তবে বাস্তব রাস্তায় এটি অনায়াসেই ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি রেঞ্জ বা দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম এবং এতে ১২০ কিলোওয়াট ডিসি ফাস্ট চার্জিং সুবিধা রয়েছে।
এজেড




