রাজশাহী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের একটি প্রধান শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ঢাকা থেকে রাজশাহী যাতায়াতের জন্য ট্রেন বর্তমানে সবচেয়ে নিরাপদ, আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী বাহন হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে এই রুটে বর্তমানে সিল্কসিটি, মধুমতি, পদ্মা, ধূমকেতু এবং বনলতা এক্সপ্রেসের মতো পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। যমুনা রেল সেতুর চালুর পর এই রুটে রেল যোগাযোগ আরও গতিশীল হয়েছে। আপনি যদি এই রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে রেলওয়ের সর্বশেষ সময়সূচি ও ভাড়ার তালিকা জেনে নেওয়া আপনার জন্য সহায়ক হবে।

ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার ট্রেনের সময়সূচি
ঢাকা থেকে রাজশাহী রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর সময়সূচি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো ভিন্ন।
আরও পড়ুন: ঢাকা টু খুলনা ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়া
ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৬৯) প্রতিদিন সকাল ৬:০০ টায় ঢাকা থেকে ছেড়ে বেলা ১১:৪০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায় (বৃহস্পতিবার বন্ধ)। সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৩) দুপুর ২:৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে রাত ৮:২০ মিনিটে রাজশাহীতে পৌঁছায় (রবিবার বন্ধ)।

মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৫) প্রতিদিন দুপুর ৩:০০ টায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে রাত ১০:৩০ মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছায় (শনিবার বন্ধ)। পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৫৯) রাত ১০:৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে ভোর ৪:০০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায় (মঙ্গলবার বন্ধ)। এছাড়া দ্রুততম সময়ে পৌঁছানোর জন্য বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯১) দুপুর ১:৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছাড়ে এবং বিকাল ৫:৪৫ মিনিটে রাজশাহীতে পৌঁছায় (শুক্রবার বন্ধ)।
রাজশাহী থেকে ঢাকা ফেরার ট্রেনের সময়সূচি
রাজশাহী থেকে ঢাকা ফেরার ক্ষেত্রে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৪) সকাল ৭:৪০ মিনিটে ছেড়ে দুপুর ১:১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় (রবিবার বন্ধ)। মধুমতি এক্সপ্রেস (৭৫৬) সকাল ৬:৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে রওনা হয়ে দুপুর ২:০০ টায় ঢাকায় পৌঁছায় (শনিবার বন্ধ)। পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৬০) বিকাল ৪:০০ টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে রাত ৯:১৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় (মঙ্গলবার বন্ধ)।
ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৭০) রাত ১১:২০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছেড়ে ভোর ৪:৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় (বুধবার বন্ধ)। এছাড়া বনলতা এক্সপ্রেস (৭৯২) সকাল ৭:০০ টায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে সকাল ১১:৩৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় (শুক্রবার বন্ধ)।
ঢাকা টু রাজশাহী ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
ভ্রমণের জন্য ট্রেনের আসন শ্রেণি অনুযায়ী ভাড়ার তারতম্য হয়ে থাকে। সিল্কসিটি এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার ৪৫০ টাকা, স্নিগ্ধা ৮৬৩ টাকা এবং এসি সিট ১,০৩৫ টাকা। মধুমতি এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার ৫৮৫ টাকা এবং এসি সিট ১,৩৪০ টাকা। পদ্মা এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার ৪৫০ টাকা, স্নিগ্ধা ৮৬৩ টাকা এবং এসি বার্থ ১,৫৯৭ টাকা। ধূমকেতু এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার ৪৫০ টাকা, স্নিগ্ধা ৮৫৩ টাকা এবং এসি সিট ১,০৩৫ টাকা। এছাড়া বনলতা এক্সপ্রেসের শোভন চেয়ার ৪৯৫ টাকা, স্নিগ্ধা ৯৪৯ টাকা এবং এসি সিট ১,১৩৯ টাকা। মনে রাখবেন, ভাড়ার সাথে ভ্যাট যুক্ত হতে পারে এবং অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের সময় সার্ভিস চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

অনলাইন টিকিট বুকিং ও দূরত্ব
ঢাকা থেকে রাজশাহীর রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৩৪৩ কিলোমিটার। টিকিট কাটার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (eticket.railway.gov.bd) ব্যবহার করা সবচেয়ে সুবিধাজনক। সেখানে এনআইডি বা ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করার পর আপনি খুব সহজেই গন্তব্য, তারিখ ও আসন নির্বাচন করে মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন। টিকিট কনফার্ম হওয়ার পর প্রাপ্ত পিডিএফ কপিটি মোবাইলে সংরক্ষণ করা বা প্রিন্ট করে রাখা উচিত।
এজেড



