ভারতীয় বাজারে মারুতি সুজুকি তাদের প্রথম গণমুখী ফ্লেক্স ফুয়েল চালিত গাড়ি ‘মারুতি সুজুকি ওয়াগনার ফ্লেক্স ফুয়েল’ বাজারে নিয়ে এসেছে। এটি ভারতের প্রথম ফ্লেক্স ফুয়েল যাত্রী পরিবহনকারী গাড়ি, যা ই২০ (E20) থেকে ই৮৫ (E85) পর্যন্ত ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলে চলতে সক্ষম। যেখানে সাধারণ ওয়াগনার মূলত পেট্রোল বা সিএনজি (CNG) বিকল্পে পাওয়া যায়, সেখানে ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণটি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, কৃষকদের সমর্থন এবং জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ডিজাইন ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা
বিজ্ঞাপন
গাড়ি দুইটির নকশায় বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ফ্লেক্স ফুয়েল ওয়াগনারেও সেই পরিচিত লম্বা আকৃতি, ফ্লোটিং রুফ লুক, উল্লম্ব টেইল ল্যাম্প এবং ১৪ ইঞ্চির চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এই সংস্করণে বিশেষ ফ্লুরোসেন্ট চিহ্ন এবং পার্শ্ববর্তী ডিক্যালস যুক্ত করা হয়েছে। গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৩৬৫৫ মিলিমিটার এবং হুইলবেস ২৪৩৫ মিলিমিটার। অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জাতেও দুই মডেল প্রায় একই রকম। এতে বেজ-কালো ডুয়াল-টোন কেবিন, ৫ জনের বসার জায়গা, পর্যাপ্ত মাথার ওপরের জায়গা (হেডরুম) ও পায়ের জায়গা (লেগরুম) রয়েছে। এছাড়া ৭ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন, স্টিয়ারিং-এ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ম্যানুয়াল এসি (AC) এবং ৩৪১ লিটারের মালপত্র রাখার জায়গা (বুট স্পেস) দেওয়া হয়েছে।

ফিচার ও সুরক্ষা
ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণটি মূলত সর্বোচ্চ মানের (টপ ভ্যারিয়েন্ট) ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই এতে কিছু প্রিমিয়াম ফিচার রয়েছে। সুরক্ষার খাতিরে এতে ৬টি এয়ারব্যাগ, ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP), এবিএস-সহ (ABS) ইবিডি (EBD), পেছনের পার্কিং সেন্সর, হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট এবং সিটবেল্ট রিমাইন্ডার মানসম্মত হিসেবে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ ওয়াগনারের কিছু মডেলেও এই সুরক্ষা ফিচারগুলো পাওয়া যায়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: কম বাজেটে গাড়ি কিনতে চান? মারুতির এই গাড়িতে ডিসকাউন্ট পাবেন ৯০ হাজার
ইঞ্জিন ও কর্মক্ষমতা
সাধারণ ওয়াগনারে ১.০ লিটার এবং ১.২ লিটার—এই দুটি ইঞ্জিন বিকল্প পাওয়া যায়, যা ম্যানুয়াল ও অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন (AMT) উভয় গিয়ারবক্সেই উপলব্ধ। অন্যদিকে, ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণে ১.২ লিটারের ইঞ্জিনটিকে বিশেষভাবে উন্নত করা হয়েছে। এতে নতুন জ্বালানি ইনজেক্টর, ফুয়েল পাম্প, ফুয়েল লাইন, ইঞ্জিন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (ECU) এবং ইথানল সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। এর শক্তি ও টর্ক সামান্য বেশি হলেও উচ্চ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারে মাইলেজ কিছুটা কমতে পারে। এই মডেলটি শুধুমাত্র ৫-গতির ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সে পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে সাধারণ ১.২ লিটার ওয়াগনারে স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের (AMT) সুযোগও রয়েছে।
মূল্য
ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণের এক্স-শোরুম দাম ভারতে প্রায় ৭.২৪ লাখ রুপি থেকে শুরু। অন্যদিকে সাধারণ ওয়াগনারের দাম প্রায় ৫ লাখ থেকে ৬.৫ লাখ রুপির মধ্যে। যারা পরিবেশবান্ধব জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হতে চান, তাদের জন্য ফ্লেক্স ফুয়েল সংস্করণটি একটি আধুনিক পছন্দ হতে পারে।
এজেড




