বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ঢাকা

চরম ভোগান্তির শিকার ক্রেতা, রয়্যাল এনফিল্ডকে ৫ লাখ জরিমানা

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ মে ২০২৬, ১০:১৫ এএম

শেয়ার করুন:

চরম ভোগান্তির শিকার ক্রেতা, রয়্যাল এনফিল্ডকে ৫ লাখ জরিমানা
চরম ভোগান্তির শিকার ক্রেতা, রয়্যাল এনফিল্ডকে ৫ লাখ জরিমানা

রয়্যাল এনফিল্ডের মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বাইক কিনে চরম ভোগান্তির শিকার এক ক্রেতার মামলার প্রেক্ষিতে বড় রায় দিয়েছে আদালত। পরিষেবায় গাফিলতি ও ত্রুটিপূর্ণ পণ্য সরবরাহের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভারতের নামী মোটরসাইকেল নির্মাতা সংস্থা রয়্যাল এনফিল্ড এবং তাদের অনুমোদিত ডিলার 'ভারত অটোমোটিভস'কে যৌথভাবে ৫ লক্ষ ১০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভোক্তা আদালত। তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের জেলা উপভোক্তা বিষয়ক কমিশন সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করে।

ঘটনার সূত্রপাত কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ সিসি মডেলের একটি প্রিমিয়াম বাইক কেনাকে কেন্দ্র করে। অভিযোগকারী ক্রেতা বাইকটি কেনার পর থেকেই একের পর এক যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হতে থাকেন। প্রায় তিন বছর ধরে মোটরসাইকেলটিতে বারবার বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মোট ২৯৪ দিন বাইকটি বিভিন্ন সার্ভিস সেন্টারে মেরামতির জন্য পড়ে ছিল।


বিজ্ঞাপন


royal-enfield-bullet-350-1

ভুক্তভোগী ক্রেতার অভিযোগ, বাইকটির ডিসপ্লে প্যানেল বিকল হওয়া এবং কুয়াশার মতো ঝাপসা হয়ে যাওয়ার কারণে সেটি রেকর্ড ৬ বার পরিবর্তন করতে হয়েছিল। এছাড়া চাবির সেট ৩ বারসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বারবার বদলাতে হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কোয়েম্বাটুর, পুনে, মুম্বাই, নবি মুম্বাই, নয়ডা, নয়াদিল্লি এবং কুল্লুর মতো বিভিন্ন শহরের অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টারে বাইকটি নিয়ে যাওয়া হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

আরও পড়ুন: নতুন সাসপেনশন ও রাইডিং মোড নিয়ে বাজারে এলো বাজাজ পালসার এন১৬০

যান্ত্রিক ত্রুটির পাশাপাশি ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগও আনা হয় মামলায়। ক্রেতার দাবি, বাইক ডেলিভারির সময় অনুমোদিত ডিলার 'ভারত অটোমোটিভস' তার কাছ থেকে অতিরিক্ত বিমা প্রিমিয়াম আদায় করেছিল। এখানেই শেষ নয়, মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশনের সময় ক্রেতার নাম ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যার ফলে মূল কাগজপত্রেও নামের বানান ভুল থেকে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তাকে নানা আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হয়।


বিজ্ঞাপন


একাধিকবার মেরামতির চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় এবং ডিলারের উদাসীনতায় বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত ভোক্তা কমিশনের দ্বারস্থ হন ওই ক্রেতা। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আদালত নির্মাতা সংস্থা ও ডিলারের পরিষেবায় চরম গাফিলতির প্রমাণ পায় এবং ক্রেতার মানসিক ও আর্থিক হয়রানির বিষয়টি বিবেচনা করে এই বড় অঙ্কের জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয়।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর