শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ঢাকা

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ মে ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন
ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার আগে যে ৫টি বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন

জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম আর পরিবেশ সচেতনতার কারণে ব্যক্তিগত যাতায়াতে বৈদ্যুতিক স্কুটারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। তবে বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ড আর মডেলের ভিড়ে শুধু বাহ্যিক রূপ বা সস্তা দাম দেখে স্কুটার কেনাটা বোকামি হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা বা চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোর যানজট ও আবহাওয়া বিবেচনায় একটি সঠিক বৈদ্যুতিক স্কুটার বেছে নিতে বেশ কিছু কারিগরি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। আপনার কষ্টের টাকায় কেনা বাহনটি যেন দীর্ঘস্থায়ী এবং নিরাপদ হয়, সেজন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো।

ব্যাটারির ক্ষমতা ও আসল মাইলেজ


বিজ্ঞাপন


বৈদ্যুতিক স্কুটারের প্রাণ হলো এর ব্যাটারি। অনেক সময় বিক্রেতারা দাবি করেন, একবার চার্জে স্কুটারটি ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার চলবে। তবে মনে রাখবেন, রাস্তার অবস্থা, আরোহীর ওজন এবং বারবার ব্রেক ধরার ওপর এই মাইলেজ নির্ভর করে। তাই কেনার সময় ব্যাটারির ধরন এবং সেটি সমতল রাস্তায় বাস্তবে কতটুকু পথ পাড়ি দিতে সক্ষম, তা ভালো করে যাচাই করে নিন। সাধারণত ২৫০ ওয়াটের মোটরে সমতলে কাজ চললেও ভালো গতির জন্য আরও শক্তিশালী মোটর ও ব্যাটারি বেছে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

চার্জিং সুবিধা ও সময়

একটি সাধারণ বৈদ্যুতিক স্কুটার ফুল চার্জ হতে গড়ে ৪ থেকে ৮ ঘণ্টা সময় নেয়। যেহেতু আমাদের দেশে এখনো পর্যাপ্ত পাবলিক চার্জিং স্টেশন গড়ে ওঠেনি, তাই স্কুটারে 'ফাস্ট চার্জিং' সুবিধা আছে কি না দেখে নিন। পাশাপাশি আপনার গ্যারেজ বা বাসায় চার্জ দেওয়ার সহজ ব্যবস্থা আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন। ব্যাটারির স্থায়িত্ব রক্ষায় ভালো মানের চার্জার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।

মোটরের শক্তি ও গতি


বিজ্ঞাপন


শহরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য স্কুটারের গতি অন্তত ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার হওয়া প্রয়োজন। স্কুটারের মোটরের শক্তি যত বেশি হবে, এর টান বা গতি তত ভালো পাওয়া যাবে। আপনি যদি পাহাড়ি এলাকায় বা ঢালু রাস্তায় যাতায়াত করেন, তবে অবশ্যই বেশি ওয়াটের শক্তিশালী মোটর সমৃদ্ধ স্কুটার বেছে নেবেন। তবে খেয়াল রাখবেন, ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটারের বেশি গতির স্কুটারের জন্য লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন হতে পারে।

2313ea7_river-indie_625x300_28_November_24

ব্রেকিং সিস্টেম ও নিরাপত্তা

গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্কুটারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ডিস্ক ব্রেকের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে বা পিচ্ছিল রাস্তায় সাধারণ ড্রাম ব্রেকের চেয়ে ডিস্ক ব্রেক অনেক বেশি নিরাপদ। এছাড়া স্কুটারের সাসপেনশন এবং টায়ারের মান দেখে নেওয়া উচিত। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো 'আইপি রেটিং' বা ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ক্ষমতা। আমাদের দেশের বর্ষা ও জলাবদ্ধতার কথা মাথায় রেখে স্কুটারটি কতটুকু পানিরোধী, তা অবশ্যই জেনে নেবেন।

আরও পড়ুন: বৃষ্টি ভেজা রাস্তায় মোটরসাইকেল ব্রেক করার সঠিক নিয়ম

ওয়ারেন্টি ও বিক্রয়োত্তর সেবা

বৈদ্যুতিক স্কুটারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ হলো এর ব্যাটারি। তাই ব্যাটারির ওপর কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছরের ওয়ারেন্টি আছে এমন মডেল কেনাই নিরাপদ। পাশাপাশি আপনার বাসস্থানের আশেপাশে ওই ব্র্যান্ডের সার্ভিস সেন্টার আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে নিন। কারণ যান্ত্রিক ত্রুটির ক্ষেত্রে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ হাতের নাগালে পাওয়া না গেলে ভোগান্তি বাড়তে পারে।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর