আকাশে মেঘের ঘনঘটা আর ঝুম বৃষ্টি যেমন মনে প্রশান্তি আনে, তেমনি মোটরসাইকেল চালকদের জন্য রাস্তায় বয়ে আনে বাড়তি চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে বৃষ্টির পর পিচ্ছিল রাস্তায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ করা এবং সঠিক সময়ে ব্রেক করা অনেকটা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। সামান্য ভুলের কারণে চাকা স্লিপ করে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। বৃষ্টির দিনে নিরাপদ থাকতে বাইক ব্রেক করার কিছু কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক কৌশল জানুন।
১. হার্ড ব্রেক এড়িয়ে চলুন
বিজ্ঞাপন
শুকনা রাস্তায় আমরা যেভাবে হুট করে হার্ড ব্রেক করি, বৃষ্টির ভেজা রাস্তায় তা করা একেবারেই নিষিদ্ধ। ভেজা পিচে টায়ারের ঘর্ষণ বা গ্রিপ অনেক কমে যায়। তাই হঠাৎ জোরে ব্রেক চাপলে চাকা লক হয়ে গিয়ে বাইক স্কিড বা পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশ।
২. কম্বাইন্ড ব্রেকিং বা দুই ব্রেক একসঙ্গে ব্যবহার
নিরাপদ ব্রেকিংয়ের জন্য কেবল সামনের বা পেছনের ব্রেক ব্যবহার না করে দুই ব্রেক একসঙ্গে ব্যবহার করার অভ্যাস করুন। তবে মনে রাখবেন, বৃষ্টির দিনে পেছনের ব্রেকের চেয়ে সামনের ব্রেক (Front Brake) ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশি সতর্ক হতে হবে। সামনের ব্রেক খুব ধীরে বা গ্রাজুয়ালি চাপুন।
৩. ইঞ্জিন ব্রেকিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিন
বিজ্ঞাপন
ভেজা রাস্তায় বাইক থামানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো 'ইঞ্জিন ব্রেকিং'। শুধুমাত্র ব্রেক লিভারের ওপর নির্ভর না করে এক এক করে গিয়ার কমিয়ে বাইকের গতি কমিয়ে আনুন। এতে চাকা লক হওয়ার ভয় থাকে না এবং ইঞ্জিন নিজেই বাইকের গতি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
৪. নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা
বৃষ্টির দিনে সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে সাধারণ সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ দূরত্ব বজায় রাখুন। যেহেতু ভেজা রাস্তায় ব্রেক করার পর বাইক থামতে কিছুটা বাড়তি দূরত্বের প্রয়োজন হয়, তাই আগে থেকেই পর্যাপ্ত জায়গা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
৫. কর্নারিং বা বাঁক নেওয়ার সময় ব্রেক নয়
রাস্তার বাঁক নেওয়ার সময় কখনোই ব্রেক চাপবেন না। বাঁক নেওয়ার আগেই গতি কমিয়ে নিন। কর্নারিং অবস্থায় ভেজা রাস্তায় ব্রেক চাপলে বাইক মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কাত হয়ে পড়ে যেতে পারে।
৬. ব্রেকিং জোন চিহ্নিত করা
রাস্তার ওপর থাকা জেব্রা ক্রসিং, ম্যানহোলের ঢাকনা কিংবা সাদা রঙের মার্কিংগুলো বৃষ্টির সময় বরফের মতো পিচ্ছিল হয়ে যায়। চেষ্টা করুন এই অংশগুলোর ওপর ব্রেক না চেপে পিচ ঢালা কালো রাস্তার ওপর ব্রেক করতে।
৭. টায়ারের প্রেসার ও কন্ডিশন চেক
ব্রেক করার দক্ষতা অনেকটা নির্ভর করে টায়ারের ওপর। বৃষ্টির দিনে টায়ারের হাওয়া সামান্য কমিয়ে রাখলে রাস্তায় গ্রিপ ভালো পাওয়া যায়। তবে টায়ারের বিট বা থ্রেড যদি ক্ষয়ে গিয়ে থাকে, তবে সেই বাইক নিয়ে বৃষ্টিতে বের না হওয়াই ভালো।
বৃষ্টির দিনে গতির চেয়ে নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব অনেক বেশি। মনে রাখবেন, সঠিক ব্রেকিং টেকনিক এবং আপনার সচেতনতাই পারে একটি বড় দুর্ঘটনা থেকে আপনাকে রক্ষা করতে। তাই বৃষ্টিতে বাইক চালানোর সময় শান্ত থাকুন এবং ধীরগতিতে রাইড করুন।
এজেড




