বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

ম্যানুয়াল নাকি অটোমেটিক গিয়ারের গাড়ির মাইলেজ বেশি?

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ম্যানুয়াল নাকি অটোমেটিক গিয়ারের গাড়ির মাইলেজ বেশি?
ম্যানুয়াল নাকি অটোমেটিক গিয়ারের গাড়ির মাইলেজ বেশি?

আধুনিক মেগাসিটিগুলোতে প্রতিদিন দুই থেকে তিন ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এই স্থবির ট্রাফিকে বারবার ক্লাচ ধরা এবং গিয়ার পরিবর্তন করা যে কারো জন্যই ক্লান্তিকর। ফলে বাজারে AMT, CVT বা DCT-এর মতো আধুনিক অটোমেটিক প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ছে। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দামের পার্থক্য, জ্বালানি খরচ এবং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণের হিসেব কষে দেখা প্রয়োজন।

মূল্যের পার্থক্য ও প্রাথমিক বিনিয়োগ


বিজ্ঞাপন


সাধারণত একটি গাড়ির ম্যানুয়াল ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অটোমেটিক ভ্যারিয়েন্টের দাম প্রায় ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা বেশি হয়ে থাকে। অর্থাৎ, শুরুতেই আপনাকে এক লক্ষ টাকা বাড়তি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। বর্তমান জ্বালানির চড়া দামের বাজারে এই বাড়তি খরচ উশুল হবে কি না, তা বুঝতে বার্ষিক খরচের হিসাবটি দেখা দরকার।

5e101cf836e759d5937f309a80772b4a

জ্বালানি খরচ ও মাইলেজের ব্যবধান

যানজটপূর্ণ রাস্তায় ১.২ থেকে ১.৫ লিটার ইঞ্জিনের একটি ম্যানুয়াল গাড়ি প্রতি লিটারে গড়ে ১৬ কিমি মাইলেজ দেয়, যেখানে অটোমেটিক গাড়ির মাইলেজ পাওয়া যায় প্রায় ১৪ কিমি।


বিজ্ঞাপন


বার্ষিক হিসাব: যদি কেউ বছরে ২৫০ দিন অফিস যাতায়াত করেন এবং প্রতিদিন ৪০ কিমি পথ চলেন (মোট ১০,০০০ কিমি), তবে ম্যানুয়াল গাড়িতে বছরে খরচ হবে প্রায় ৫৯,২৩১ টাকা।

অন্যদিকে, একই দূরত্বে অটোমেটিক গাড়িতে জ্বালানি বাবদ খরচ হবে প্রায় ৬৭,৬৯৩ টাকা। অর্থাৎ, বছরে প্রায় ৮,৪৬২ টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে অটোমেটিক গাড়িতে।

--734b9aacaccc8901bcd6318af770ef7a

রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদী খরচ

ম্যানুয়াল গাড়িতে যানজটের কারণে প্রতি ৪০-৫০ হাজার কিমি পর পর ক্লাচ প্লেট বদলাতে হতে পারে, যাতে ১০-১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ৫ বছরে এই খরচ ২০-৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অটোমেটিক গাড়িতে ক্লাচ বদলানোর ঝামেলা না থাকলেও এর নিয়মিত সার্ভিসিং কিছুটা ব্যয়বহুল (বছরে ৩-৫ হাজার টাকা বেশি)। ফলে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ দুই ধরনের গাড়িতেই প্রায় সমান।

lcarticle_manualvsautomatic

চালকের আরাম ও নিরাপত্তা

অটোমেটিক গাড়ির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সহজ চালনা পদ্ধতি। যানজটে বারবার গিয়ার পরিবর্তনের ঝামেলা নেই বলে পায়ে ব্যথা বা শারীরিক ক্লান্তি হয় না। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক চালক বা যারা দীর্ঘপথ যাতায়াত করেন, তাদের জন্য এটি অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। এছাড়া বর্তমানে অটোমেটিক গাড়ির রিসেল ভ্যালু বা পুনঃবিক্রয় মূল্যও ম্যানুয়াল গাড়ির প্রায় সমান পর্যায়ে চলে এসেছে।

আরও পড়ুন: মোটরসাইকেলে জ্বালানি সাশ্রয়: অল্প তেলে অধিক পথ চলার কৌশল

যদি আপনার বাজেট কিছুটা নমনীয় হয় এবং প্রতিদিন শহরের ব্যস্ত রাস্তায় ৩০-৫০ কিমি যাতায়াত করতে হয়, তবে শারীরিক আরাম ও মানসিক প্রশান্তির জন্য অটোমেটিক গাড়িই সেরা পছন্দ। তবে যারা মূলত হাইওয়েতে গাড়ি চালান এবং জ্বালানি সাশ্রয়কে অগ্রাধিকার দেন, তাদের জন্য ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন এখনও লাভজনক বিকল্প।

এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর