প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় বাহন। তবে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম এবং মাইলেজ কমে যাওয়ার সমস্যায় অনেক চালকই দুশ্চিন্তায় থাকেন। কারিগরি কিছু বিষয় এবং সচেতনভাবে রাইড করার মাধ্যমে একটি মোটরসাইকেল থেকে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স ও মাইলেজ পাওয়া সম্ভব।
নিয়মিত সার্ভিসিং ও রক্ষণাবেক্ষণ
বিজ্ঞাপন
মোটরসাইকেলের মাইলেজ ঠিক রাখতে নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের কোনো বিকল্প নেই। ইঞ্জিনের টিউনিং সঠিক না থাকলে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি খরচ হয়। বিশেষ করে এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি; কারণ নোংরা ফিল্টার বাতাস চলাচলে বাধা দেয়, ফলে ইঞ্জিন বেশি তেল টানে। এছাড়া স্পার্ক প্লাগ পরিষ্কার রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করলে ইঞ্জিনের দক্ষতা বজায় থাকে।
আরও পড়ুন: পেট্রোল-অকটেন বোতলে ভরে কতদিন রাখা যায়?
টায়ারের সঠিক প্রেশার বজায় রাখা
জ্বালানি সাশ্রয়ের একটি অন্যতম গোপন রহস্য হলো টায়ারের সঠিক বায়ুচাপ। টায়ারে হাওয়া কম থাকলে রাস্তার সাথে ঘর্ষণ বেড়ে যায়, যা ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। ফলে তেল বেশি খরচ হয়। সপ্তাহে অন্তত একবার টায়ার প্রেশার চেক করা উচিত এবং ম্যানুফ্যাকচারারের নির্দেশিত মাপে হাওয়া রাখা উচিত।
বিজ্ঞাপন
রাইডিং অভ্যাস ও গতি নিয়ন্ত্রণ
হঠাৎ করে দ্রুত গতি বাড়ানো (Aggressive Acceleration) এবং ঘন ঘন হার্ড ব্রেক করা জ্বালানি দ্রুত শেষ হওয়ার প্রধান কারণ। মোটরসাইকেল চালানোর সময় ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং একটি নির্দিষ্ট বা স্থিতিশীল গতি (সাধারণত ৪০-৫০ কিমি/ঘণ্টা) বজায় রাখলে সবচেয়ে ভালো মাইলেজ পাওয়া যায়। অপ্রয়োজনে ক্লাচ চেপে রাখা বা গিয়ারের সাথে গতির সামঞ্জস্য না রাখাও তেল খরচের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

ট্রাফিক সিগন্যালে ইঞ্জিন বন্ধ রাখা
দীর্ঘ সময় ট্রাফিক জ্যামে বা সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন অলস (Idle) অবস্থায় চালু রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। যদি দেখা যায় ৩০ সেকেন্ডের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে, তবে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া ভালো। এতে অনেকটা জ্বালানি সাশ্রয় হয়। আধুনিক অনেক বাইকে এখন 'অটো স্টপ-স্টার্ট' ফিচার থাকে যা এই কাজটি সহজ করে দেয়।
চেইন লুব্রিকেশন ও ওভারলোডিং পরিহার
মোটরসাইকেলের ড্রাইভ চেইন যদি জং ধরা বা খুব বেশি টাইট থাকে, তবে ইঞ্জিনকে চাকা ঘুরাতে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। নিয়মিত চেইন লুব্রিকেশন করলে বাইক স্মুথ চলে এবং মাইলেজ বাড়ে। এছাড়া মোটরসাইকেলে অতিরিক্ত ওজন বা মালামাল বহন করা এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ বাড়তি ওজন মানেই বাড়তি জ্বালানি ব্যয়।
জ্বালানি সাশ্রয় মূলত বাইকের যত্ন এবং পরিমিত রাইডিংয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনি যদি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করেন এবং রাস্তায় শান্তভাবে বাইক চালান, তবে আপনার মোটরসাইকেল আগের চেয়ে অনেক বেশি পথ পাড়ি দেবে।
এজেড

