ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ধনের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার শঙ্কায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আঁচ লেগেছে বাংলাদেশেও। তেলের দাম আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় দেশের অনেক সাধারণ মানুষ ও যানবাহন মালিক প্লাস্টিকের বোতল বা ড্রামে ভরে পেট্রোল ও অকটেন মজুত করছেন। তবে এই কৃত্রিম মজুত কতটুকু নিরাপদ? বোতলে তেল ভরে রাখা কি বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে?
বোতলে জ্বালানি মজুত কি ঠিক?
বিজ্ঞাপন
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের মতে, বাসাবাড়িতে বোতলে বা ড্রামে করে পেট্রোল-অকটেন মজুত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পেট্রোল ও অকটেন অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। সামান্য আগুনের স্ফুলিঙ্গ বা অতিরিক্ত তাপমাত্রায় এটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড কিংবা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা বাসাবাড়িতে এই ধরনের মজুত এক একটি ‘জীবন্ত বোমা’র মতো।

কতদিন রাখা যায় এবং ঝুঁকি কী?
প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রোল বা অকটেন বেশিদিন রাখা উচিত নয়। এর কয়েকটি কারণ রয়েছে-
বিজ্ঞাপন
গুণগত মান নষ্ট: প্লাস্টিকের বোতলে দীর্ঘ সময় তেল রাখলে বাতাসের সংস্পর্শে ও রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ায় তেলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এতে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে।
বিস্ফোরণের ঝুঁকি: পেট্রোল বা অকটেন খুব দ্রুত বাষ্পীভূত হয়। প্লাস্টিকের বোতল এই বাষ্পের চাপ সহ্য করতে পারে না। ফলে বোতল ফুলে গিয়ে লিক হতে পারে এবং সেখান থেকে অগ্নিকাণ্ড ঘটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
আরও পড়ুন: পেট্রোল-অকটেন বোতলে ভরে রাখলে ঘটতে পারে বিস্ফোরণ
প্লাস্টিক গলে যাওয়া: পেট্রোল এক ধরনের দ্রাবক, যা সাধারণ প্লাস্টিককে ধীরে ধীরে ক্ষয় করতে পারে। এর ফলে তেল চুইয়ে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশ্ববাজারে যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে অনিরাপদ উপায়ে তেল মজুত করা কোনো সমাধান নয়। এতে নিজের এবং পরিবারের জীবনের ঝুঁকি বাড়ে। তেলের মজুত করতে হলে নির্দিষ্ট অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা সম্পন্ন অনুমোদিত কন্টেইনার ব্যবহার করতে হয়, যা সাধারণ মানুষের কাছে সচরাচর থাকে না। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে বোতলে তেল ভরে রাখার মানসিকতা ত্যাগ করাই শ্রেয়।
এজেড

