২০২৬ সালের নতুন সংস্করণে আরও আধুনিক বৈশিষ্ট্য ও আকর্ষণীয় মূল্যে বাজারে এলো হুন্দাই আই-২০ (Hyundai i20)। প্রিমিয়াম এই হ্যাচব্যাক গাড়িটির প্রারম্ভিক শোরুম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ভারতে মাত্র ৫.৯৯ লাখ রুপি। মূলত মারুতি সুজুকি ব্যালেনো এবং টাটা অলট্রোজের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিতেই হুন্দাই তাদের এই মডেলে নিরাপত্তার পাশাপাশি দামেও বড় চমক দিয়েছে।
স্পোর্টি ডিজাইন ও আধুনিক রূপ
বিজ্ঞাপন
হুন্দাই আই-২০-এর বাইরের নকশায় আনা হয়েছে আভিজাত্যের ছোঁয়া। এর সামনের অংশে রয়েছে ক্যাসকেডিং গ্রিল এবং তীক্ষ্ণ এলইডি ডিআরএল (এলইডি দিনের আলোর সুবিধা) সহ প্রজেক্টর হেডল্যাম্প। গাড়ির পেছনে এলইডি টেললাইট ও স্পয়লার একে দিয়েছে একটি স্পোর্টি ও আধুনিক রূপ। ৩৯৯৫ মিমি দৈর্ঘ্য ও ১৭৭৫ মিমি প্রস্থের এই গাড়িটি রাস্তায় যেমন নজরকাড়া, তেমনি এর বায়ুগতিশীল (Aerodynamic) নকশা গতির সাথে তাল মেলাতে সক্ষম।

ইন্টেরিয়র ও প্রযুক্তিগত সুবিধা
গাড়িটির ভেতরের অংশ বা কেবিন অত্যন্ত আরামদায়ক ও ব্যবহারকারী-বান্ধব। এতে রয়েছে উচ্চমানের নরম ফিনিশিংয়ের ড্যাশবোর্ড, সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং বড় টাচস্কিন তথ্য-বিনোদন ব্যবস্থা (Infotainment System)। শীর্ষ মডেলগুলোতে যাত্রীদের জন্য থাকছে পেছনের এসি ভেন্ট, টাইপ-সি ইউএসবি চার্জিং পয়েন্ট এবং বোস (Bose) কোম্পানির প্রিমিয়াম ৭-স্পিকার অডিও সিস্টেম। এছাড়া বৈদ্যুতিক সানরুফ ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: গাড়ির নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব ADAS: দুর্ঘটনায় কতটা কার্যকর এই প্রযুক্তি
নিরাপত্তার সর্বোচ্চ মানদণ্ড
নিরাপত্তার দিক থেকে হুন্দাই কোনো আপস করেনি। এই গাড়ির প্রতিটি মডেলে (প্রাথমিক মডেলসহ) ৬টি এয়ারব্যাগ বাধ্যতামূলকভাবে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে-
এবিএস ও ইবিডি: জরুরি ব্রেকিংয়ের সময় চাকা পিছলে যাওয়া রোধ করা।
হিল স্টার্ট অ্যাসিস্ট: ঢালু রাস্তায় গাড়ি পেছানো রোধ করার প্রযুক্তি।
টায়ার প্রেশার মনিটরিং (TPMS): চাকার হাওয়ার চাপ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।
রিভার্সিং ক্যামেরা: পেছনের দৃশ্য দেখার জন্য উন্নত ক্যামেরা ও সেন্সর।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স
গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১.২ লিটারের শক্তিশালী পেট্রোল ইঞ্জিন, যা ৮২ থেকে ৮৭ বিএইচপি ক্ষমতা উৎপন্ন করতে পারে। এটি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল এবং আইভিটি (স্বয়ংক্রিয়) গিয়ার—উভয় পদ্ধতিতেই পাওয়া যাচ্ছে। শহর ও হাইওয়ে দুই জায়গাতেই এটি মসৃণ গতি নিশ্চিত করে। কোম্পানি দাবি করছে, গাড়িটি লিটার প্রতি ১৬ থেকে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম।
এজেড

