শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

গাড়ির নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব ADAS: দুর্ঘটনায় কতটা কার্যকর এই প্রযুক্তি

অটোমোবাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

শেয়ার করুন:

গাড়ির নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব ADAS: দুর্ঘটনায় কতটা কার্যকর এই প্রযুক্তি
গাড়ির নিরাপত্তায় নতুন বিপ্লব ADAS: দুর্ঘটনায় কতটা কার্যকর এই প্রযুক্তি

বর্তমান সময়ের আধুনিক গাড়িগুলোতে নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে 'অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম' বা ADAS। সেন্সর, ক্যামেরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সমন্বয়ে তৈরি এই প্রযুক্তিটি চালকের ভুল সংশোধন করে সড়ক দুর্ঘটনা ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

ADAS আসলে কী এবং কীভাবে কাজ করে?


বিজ্ঞাপন


ADAS হলো গাড়ির একটি ইলেকট্রনিক সুরক্ষা কবচ। এটি ক্যামেরা (ভিজ্যুয়াল ডিটেকশন), রাডার (গতি ও দূরত্ব পরিমাপ) এবং লিডার (৩ডি ম্যাপিং) ব্যবহার করে গাড়ির চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করে। গাড়ির ইসিইউ (ECU) বা প্রসেসিং ইউনিট এই তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেয়। কোনো বিপদের সম্ভাবনা দেখলে সিস্টেমটি চালককে সতর্ক করে অথবা প্রয়োজনবোধে নিজেই ব্রেক বা স্টিয়ারিং নিয়ন্ত্রণ করে।

1708688865296

প্রযুক্তির বিভিন্ন ধাপ বা লেভেল

গাড়ির এই অটোমেশন প্রযুক্তিকে ০ থেকে ৫—মোট ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয়েছে-


বিজ্ঞাপন


লেভেল ০ ও ১: চালককে সতর্ক করা এবং আংশিক নিয়ন্ত্রণ (যেমন: ক্রুজ কন্ট্রোল)।

লেভেল ২: বর্তমানে বেশিরভাগ আধুনিক গাড়িতে এটি দেখা যায়, যেখানে স্টিয়ারিং এবং ব্রেকিং—উভয়ই সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে চালককে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হয়।

লেভেল ৩, ৪ ও ৫: এগুলো উচ্চতর ধাপ, যা গাড়িকে প্রায় বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে সাহায্য করে।

adias

সেরা ১০টি ফিচার

এই প্রযুক্তির আওতায় বেশ কিছু জীবনদায়ী ফিচার পাওয়া যায়- 

১. অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল: সামনের গাড়ি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা। 

২. স্বয়ংক্রিয় ইমার্জেন্সি ব্রেকিং: সংঘর্ষের আগে নিজে থেকেই ব্রেক ধরা। 

৩. লেন কিপ অ্যাসিস্ট: গাড়িকে লেনের ভেতরে রাখতে সাহায্য করা।

৪. ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং: আয়নায় দেখা যায় না এমন অন্ধকার দিকগুলো পর্যবেক্ষণ। ৫. ড্রাইভার মনিটরিং: চালকের ক্লান্তি বা ঘুম ঘুম ভাব শনাক্ত করে সতর্ক করা।

সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে সড়ক দুর্ঘটনা প্রায় ৪০-৬০ শতাংশ কমানো সম্ভব। এটি দীর্ঘ ভ্রমণে চালকের ক্লান্তি কমায় এবং জ্বালানি সাশ্রয় করে। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রাস্তার অস্পষ্ট চিহ্ন, ধুলোবালি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া এই প্রযুক্তির সেন্সরগুলোর কার্যকারিতায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটাতে পারে। এছাড়া এই প্রযুক্তির রক্ষণাবেক্ষণ খরচও তুলনামূলক বেশি।

আরও পড়ুন: বাজারে এলো ‘বিশেষ পেট্রোল’, গাড়ি-বাইকের জ্বালানি বাড়বে বহুগুণ

ভবিষ্যতে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য এই ADAS প্রযুক্তি একটি অপরিহার্য শর্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বর্তমানে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যের গাড়িতেও কোম্পানিগুলো এই ফিচার যুক্ত করছে।

এজেড

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর