ইয়ামাহা নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুর্দান্ত সব স্পোর্টস বাইক কিংবা রেসিং ট্র্যাকের গর্জন। কিন্তু আপনি কি জানেন, আজ থেকে প্রায় তিন দশক আগে অটোমোবাইল জগতের ভোল বদলে দিতে একটি ‘হাইপারকার’ তৈরির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল এই জাপানিজ কোম্পানিটি? ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিস্ময় হিসেবে পরিচিত ইয়ামাহা কেবল মোটরসাইকেলেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং গাড়িশিল্পের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী সব ইঞ্জিনের নেপথ্য কারিগরও তারা।
টয়োটার কিংবদন্তি ইঞ্জিনের নেপথ্যে ইয়ামাহা গাড়ির বাজারে ইয়ামাহার নিজস্ব ব্র্যান্ডিং না থাকলেও টয়োটার জনপ্রিয় অনেক ইঞ্জিনের প্রাণভোমরা তৈরি হয়েছে তাদের হাতেই। টয়োটা ২০০০জিটি (2000GT) থেকে শুরু করে ১জেজেড-জিটিই (1JZ-GTE) কিংবা হালের লেক্সাস এলএফএ (Lexus LFA)-এর সেই অবিশ্বাস্য ভি-১০ (V10) ইঞ্জিন—সবগুলোতেই ছিল ইয়ামাহার ছোঁয়া। সিলিন্ডার হেড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং হাই-রেভিং ইঞ্জিনে ইয়ামাহার দক্ষতা এতটাই যে, টয়োটা যখনই বিশেষ কিছু করতে চেয়েছে, তখনই তারা ইয়ামাহার দ্বারস্থ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

অক্স ৯৯-১১ (OX99-11): এক দুঃসাহসী স্বপ্ন ১৯৯২ সালে ইয়ামাহা উন্মোচন করেছিল ‘অক্স ৯৯-১১’। এটি কেবল একটি গাড়ি ছিল না, বরং ফর্মুলা ওয়ান (F1) প্রযুক্তিকে রাস্তায় নামানোর এক উন্মাদ চেষ্টা ছিল। কার্বন ফাইবার চ্যাসিস, পুশড রড সাসপেনশন এবং ফর্মুলা ওয়ানের ভি-১২ (V12) ইঞ্জিন সমৃদ্ধ এই গাড়িটি ছিল সেই সময়ের হিসেবে অভাবনীয়। এর চালকের আসন ছিল ঠিক মাঝখানে, যা আজকের আধুনিক হাইপারকারগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়।
কেন আলোর মুখ দেখল না এই হাইপারকার?
হাইপারকার তৈরির সব রসদ থাকা সত্ত্বেও ইয়ামাহার এই প্রজেক্টটি সফল হয়নি। এর প্রধান কারণ ছিল নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে জাপানের অর্থনৈতিক মন্দা। এছাড়া গাড়িটির উৎপাদন খরচ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তৎকালীন বাজারে এর দাম ধরা হয়েছিল প্রায় ৮ লাখ মার্কিন ডলার। ঠিক একই সময়ে ম্যাকলারেন এফ-১ (McLaren F1) বাজারে আসায় ইয়ামাহার এই কাঁচা ও রাফ ডিজাইনের গাড়িটি প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৩টি প্রোটোটাইপ তৈরির পর প্রকল্পটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন: সূর্যের আলোতেই চলবে গাড়ি: অটোমোবাইল শিল্পে নয়া চমক
ব্যর্থতা নয়, বরং এক গর্বিত ইতিহাস ইয়ামাহা আজ অবধি তাদের সদর দফতরে অক্স ৯৯-১১ গাড়িটি প্রদর্শন করে। তারা এটিকে ব্যর্থতা নয়, বরং তাদের সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে দেখে। ইয়ামাহা প্রমাণ করেছে যে তারা কেবল দুই চাকার যান নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে জটিল এবং শক্তিশালী ইঞ্জিন তৈরির ক্ষমতা রাখে। ফোর্থের টাউরাস এসএইচও (Ford Taurus SHO) থেকে শুরু করে আধুনিক স্পোর্টস কার—ইয়ামাহার ইঞ্জিনিয়ারিং জাদুতে সমৃদ্ধ হয়েছে অটোমোবাইল জগতের অসংখ্য নক্ষত্র।
এজেড

