ভারতের অটোমোবাইল জায়ান্ট টাটা মোটরস এবার প্রিমিয়াম বা বিলাসবহুল বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) বাজারে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে কোমর বেঁধে নামছে। কোম্পানির নতুন বৈদ্যুতিক যান লাইনআপের প্রধান আকর্ষণ হতে যাচ্ছে ‘অভিন্য’ (Avinya) ব্র্যান্ড। ২০২৬ সালের শেষের দিকে বাজারে আসতে যাওয়া এই গাড়িটি টাটার ফ্ল্যাগশিপ বা সেরা পণ্য হিসেবে পরিচিতি পাবে।
নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং বৈদ্যুতিক ইকোস্টিম শক্তিশালী করতে টাটা মোটরস ২০২৫ থেকে ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১৬,০০০ থেকে ১৮,০০০ কোটি রুপি বিনিয়োগের মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আসছে সিয়েরা ইভি ও পাঞ্চ ইভি-র নতুন সংস্করণ
২০২৬ সালের শুরুতে বাজারে আসবে বহুল প্রতীক্ষিত ‘সিয়েরা ইভি’। এছাড়া নতুন রূপে আসছে ‘পাঞ্চ ইভি’। এই মডেলগুলো মূলত সাধারণ ইভি এবং প্রিমিয়াম ‘অভিন্য’ সিরিজের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, নেক্সন ইভি, টিয়াগো ইভি এবং হ্যারিয়ার ইভির হাত ধরে টাটা ইতিমধ্যেই ২.৫ লাখ ইউনিটের বেশি গাড়ি বিক্রির মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ‘অভিন্য’ সিরিজের প্রথম গাড়িটি সম্ভবত একটি এসইউভি (SUV) বা স্পোর্টব্যাক মডেল হতে যাচ্ছে।

ডিজিটাল ও ফিজিক্যাল ডিলারশিপের সমন্বয়
বিজ্ঞাপন
টাটা অভিন্যর বিক্রয় পদ্ধতিতে আসবে আধুনিকতার ছোঁয়া। গ্রাহকরা সরাসরি ডিলারশিপ সেন্টার থেকে গাড়ি দেখার পাশাপাশি ডিজিটাল ইন্টারফেস বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও এটি কিনতে পারবেন। বৈশ্বিক বাজারে হুন্দাই আইওনিক ৫, কিয়া ইভি৬ এবং টেসলা মডেল ওয়াই-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে টাটার এই নতুন সিরিজ। গাড়ির ব্যাটারির ক্ষেত্রেও টাটা কেবল এলএফপি (LFP) প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও উন্নত ও দ্রুত চার্জিং সক্ষমতার বিকল্প ব্যাটারি নিয়ে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: নতুন রূপে আসছে টাটা পাঞ্চ: নজরকাড়া ফিচারে বাজিমাত করবে এই ফেসলিফট
১০ লাখ চার্জিং পয়েন্টের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা
বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার সহজ করতে টাটা ২০২৭ সালের মধ্যে ৪০ হাজার চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের লক্ষ্য নিয়েছে। এই দশকের শেষ নাগাদ ১ লাখ পাবলিক চার্জিং পয়েন্টসহ মোট ১০ লাখ চার্জার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। মূলত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উন্নত সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমেই বিশ্ববাজারে নিজেদের আলাদা করতে চায় টাটা।
বাজার অংশীদারিত্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা
বর্তমানে বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে টাটা মোটরসের অংশীদারিত্ব প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ। কোম্পানিটি আত্মবিশ্বাসী যে, নতুন এই সিরিজগুলো বাজারে আসার পর তাদের বাজার অংশীদারিত্ব ৫০ শতাংশে উন্নীত হবে। এছাড়া পুরনো ইভি ব্যাটারিগুলোকে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য শক্তি সঞ্চয়ের কাজে লাগিয়ে ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা চক্রাকার অর্থনীতিতেও অবদান রাখছে টাটা।
দৃষ্টি নন্দন ডিজাইন এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণে টাটা ‘অভিন্য’ যে গাড়ি প্রেমীদের পছন্দের শীর্ষে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
এজেড

