দ্রুত বিকাশমান অটোমোবাইল বাজারে হাইব্রিড গাড়ির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কারণ, এই গাড়িগুলো প্রচলিত পেট্রল বা ডিজেলচালিত মডেলের তুলনায় অনেক বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী। বিশ্বের বেশিরভাগ শীর্ষস্থানীয় নির্মাতা এখন হাইব্রিড সংস্করণ বাজারে আনছে, ফলে উন্নত জ্বালানি দক্ষতা এবং মসৃণ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার কারণে এসব গাড়ির বিক্রি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
হাইব্রিড গাড়ির মূল প্রযুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে একটি সমন্বিত শক্তি ব্যবস্থা, যার মধ্যে থাকে একটি অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন, একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং উচ্চ ক্ষমতার ব্যাটারি প্যাক। যেখানে সাধারণ পেট্রল বা ডিজেল গাড়ি পুরোপুরি ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে হাইব্রিড গাড়ি ড্রাইভিং পরিস্থিতি অনুযায়ী বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বৈদ্যুতিক শক্তি ও জ্বালানি শক্তির মধ্যে স্যুইচ করে। ফলে শক্তির অপচয় কমে এবং ইঞ্জিন কেবল প্রয়োজনের সময়েই ব্যবহৃত হয়।
বিজ্ঞাপন

ধীর গতিতে ইভি মোডে বাড়তি সাশ্রয়
গাড়ির গতি কম থাকলে হাইব্রিড প্রযুক্তির সুবিধা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। শহরের যানজট, সিগন্যাল বা ধীর গতির ক্রুজিংয়ের সময় গাড়িটি কেবল বৈদ্যুতিক মোটরের ওপর নির্ভর করে। ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) মোডে গাড়ি চলে জ্বালানি পোড়ানো ছাড়াই, যা সরাসরি সামগ্রিক মাইলেজ বাড়ায়।
ব্রেক করলে শক্তি ফিরে আসে ব্যাটারিতে
বিজ্ঞাপন
হাইব্রিড গাড়ির আরেকটি বড় সুবিধা হলো শক্তি পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা। ড্রাইভার ব্রেক চাপলে বা গাড়ির গতি কমলে বৈদ্যুতিক মোটর জেনারেটরের ভূমিকা নেয়। সাধারণ পরিস্থিতিতে ব্রেকিংয়ের সময় যে গতিশক্তি তাপ হয়ে নষ্ট হয়ে যেত—তা এখানে বৈদ্যুতিক শক্তিতে পরিণত হয়ে ব্যাটারিতে জমা হয়। ফলে গাড়ি চলার পুরো সময় নিজেই চার্জ হতে থাকে।

ইঞ্জিন চলে সবচেয়ে দক্ষ পরিসরে
হাইব্রিড গাড়ির ইঞ্জিন কেবল তখনই চালু হয় যখন অতিরিক্ত শক্তির প্রয়োজন হয়। গাড়িটি এমনভাবে নকশা করা যে ইঞ্জিন সবসময় তার সর্বোচ্চ দক্ষতার পরিসরে কাজ করে—খুব ধীর বা খুব বেশি গতিতে নয়। এ দুই পরিস্থিতিতেই সাধারণ গাড়িতে জ্বালানি অপচয় বেশি হয়। দ্রুত গতি বাড়ানোর সময় বা মহাসড়কে উঠতে গিয়ে বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনকে সহায়তা করে, ফলে ইঞ্জিনের চাপ কমে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ও বাড়ে।
আরও পড়ুন: এই প্রথম বৈদ্যুতিক গাড়ি আনছে মারুতি
অতিরিক্ত যন্ত্রাংশেও বিদ্যুৎ সহযোগিতা
বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে এয়ার কন্ডিশনার কম্প্রেসর, কেবিন হিটারসহ অন্যান্য জরুরি যন্ত্রাংশ চালানো হয়। এসব সাধারণত ইঞ্জিনের বাড়তি লোড তৈরি করে এবং জ্বালানি খরচ বাড়ায়। কিন্তু হাইব্রিড প্রযুক্তিতে এই কাজগুলো বিদ্যুতের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় গরম বা ঠান্ডা—যে কোনো আবহাওয়ায় গাড়িটি ভালো মাইলেজ ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
এজেড

